
ময়মনসিংহ নগরবাসীর বহুল প্রতীক্ষিত শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ আট বছরেও অর্ধেক পথ পেরোতে পারেনি। ২০২৪ সালের অক্টোবরে চালু হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের কাজ বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখনো অগ্রগতি হতাশাজনক। এর মধ্যেই নতুন সংকটও তৈরি হয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পটি সরকারি জমি সংকটের কারণে প্রায় পাঁচ বছর ঝুলে ছিল। পরে জমি বরাদ্দ মেলে, কাজও শুরু হয়। কিন্তু বরাদ্দকৃত অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১৬ মাস ধরে সম্পূর্ণভাবে থেমে আছে নির্মাণকাজ। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পটি কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরুতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ চালালেও বছরখানেক আগে বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর কাজের গতি ধরে রাখতে পারেনি। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল শিশু হাসপাতালটির, যার দায়িত্বে ছিল গণপূর্ত বিভাগ। কাজ শুরুর ঘোষণায় শহরের বিভিন্ন মহলে আনন্দ ও আশা তৈরি হলেও এখন প্রকল্প বন্ধ থাকায় সর্বত্র হতাশা। বর্তমানে শিশু রোগীদের চিকিৎসা হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে একেকটি বেডে তিনজন পর্যন্ত শিশু রোগী নিতে হয়; ওয়ার্ডে দাঁড়ানোরও জায়গা থাকে না। তাই আলাদা শিশু হাসপাতালের দাবি বহুদিনের। গণপূর্ত বিভাগ জানায়, হাসপাতাল নির্মাণে ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট কার্যাদেশ দেওয়া হয় এবং ১২ সেপ্টেম্বর কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয় ঠিকাদারকে। দ্রুতগতিতে বালিভরাটসহ প্রাথমিক নির্মাণ শুরু হয়। প্রথমে দুইতলা নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল, ভবিষ্যতে তলা বাড়ানোর সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু ২০২4 সালের জুলাইয়ে বরাদ্দ বন্ধ হয়ে প্রকল্প থেমে যায়। সূত্র জানায়, প্রায় ১০ কোটি টাকার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চাইলে সবুজ সংকেত পেলেই আবার কাজ শুরু করতে প্রস্তুত। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বেজমেন্ট শেষ হয়ে প্রথম তলা পর্যন্ত কাজ দাঁড়িয়ে আছে। নির্মাণকর্মীরা এলাকায় থাকলেও কাজ নেই। ময়মনসিংহ নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব শামসুদ্দোহা মাসুম বলেন, “এতদিনেও শিশু হাসপাতাল চালু না হওয়া নগরবাসীর জন্য দুঃখজনক। কাজটি দ্রুত শেষ করার দাবি জানাই।” ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. জামশেদ আলম বলেন, “৬০ শয্যার জায়গায় ৪০০-এর বেশি রোগী ভর্তি থাকে। এ অবস্থায় শিশু হাসপাতাল অত্যন্ত জরুরি।” গণপূর্ত विभागের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস জানান, “পুরোনো প্রকল্পের বরাদ্দ বন্ধ হয়ে গেছে। অবশিষ্ট ৫৫ শতাংশ কাজের জন্য নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনা একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। অনুমোদন পেলেই নতুন টেন্ডার দিয়ে কাজ শুরু করা হবে।”

