শিরোনাম
কৃষিঋণ মওকুফ সুবিধা পেয়েছেন ১৪ লাখের বেশি কৃষক: অর্থমন্ত্রীযেখানে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা—তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? খুলশীতে সন্ত্রাসী তাণ্ডবের অভিযোগ, আহত ওসি আবদুর রহিমসহ পুলিশ সদস্যরা– “” ২৭১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার পরও কি অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে?“সন্ত্রাসের সামনে আপসহীন ওসি আবদুর রহিম—খুলশীতে আইনের শাসনের নতুন বার্তা”চরণদ্বীপে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভাচরনদ্বীপে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভাঢাকা–কক্সবাজার আকাশপথে ভাড়ার নৈরাজ্য বন্ধ করুন | “পর্যটন রাজধানীকে জিম্মি করে বিমানভাড়া বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া যায় না” | সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডেরদূরের দেশ, কাছের মানুষ—মুনা উইলসনের সঙ্গে শারজাহ বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টার মায়াবী সাক্ষাৎ দূরের দেশ, কাছের মানুষ-দেশে সংকটের মাঝে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে সারবন্যায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত, বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধরেলওয়ের তিন শীর্ষ পদে বড় রদবদল

― Advertisement ―

কর্ণফুলীতে প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডের মূল আসামী বাবলু আবারও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে—গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি এলাকাবাসীর””

HomeUncategorizedকর্ণফুলীতে প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডের মূল আসামী বাবলু আবারও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে—গ্রেপ্তার ও...

মো.কামাল উদ্দিনঃ
বিগত ২০১৭ সালের সেই কালোরাতের কথা- জাফর হত্যায় ভুলেনি বুকের ব্যাথা-
কর্ণফুলীতে রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ড: ইয়াবা ও দেহব্যবসার সাম্রাজ্যে জড়িয়ে এক তরুণের নির্মম মৃত্যু-চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার শান্তিপ্রিয় এলাকা এখন আতঙ্কের নাম। বিগতগত ২০১৭ সালের ২৪ শে আগস্ট মধ্যরাতে ঘটে যাওয়া এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড গোটা এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। নিহত তরুণের নাম জাফর—সাধারণ পরিবারের একজন নিরীহ যুবক, যার একমাত্র অপরাধ ছিল প্রতিবাদ করার সাহস। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাফরকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় লাইল্যার বাপের বাড়ি সংলগ্ন একটি গলিতে। সেখানে তাকে ঘিরে ধরে একদল সশস্ত্র যুবক। কথিত আছে, চক্রটির নেতৃত্বে ছিলেন কুখ্যাত ইয়াবা কারবারি, নারী পাচারকারী ও চাঁদাবাজ চক্রের অন্যতম নাম—ইমরান হোসেন বাবলু, পিতা কুখ্যাত ডাকাত সর্দার রেজাউল করিম, মাতা সাজেদা, যিনি এলাকায় ‘ইয়াবা সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে পরিচিত।
প্রসঙ্গত, স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে এসেছে, সাজেদা একসময় পতিতাবৃত্তি ও মাদকব্যবসার জন্য পরিচিত ছিলেন, এবং তার ছেলের হাত ধরেই কর্ণফুলী এলাকায় ভয়ঙ্কর অপরাধ জাল বিস্তার লাভ করে। বাবলুর বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা, ধর্ষণ, মাদক ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা। অথচ আজও সে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, প্রশাসনের একাংশের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে।
জাফরের পরিবারের দাবি, তিনি একাধিকবার থানায় নিরাপত্তা চেয়েছিলেন। থানার বইয়ে তার জিডির কপি থাকলেও কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেয়নি কর্ণফুলী থানা কর্তৃপক্ষ। কেন নেয়নি? সেই প্রশ্ন এখন চারদিকে ধ্বনিত হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, থানার কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে রয়েছে এই চক্রের গভীর সম্পর্ক তাই-নিহতের পরিবারের সদস্যরা আজ প্রাণভয়ে আত্মগোপনে।
এলাকার এক প্রবীণ মসজিদের ইমাম নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“বাবলু আর তার দল প্রকাশ্যে ইয়াবা বিক্রি করে, নারীদের দিয়ে দেহব্যবসা করায়, আর যে প্রতিবাদ করে তার জায়গা হয় জাফরের মতো কবরস্থানে।”
জাফরের হত্যাকাণ্ডের পর কর্ণফুলী থানার সামনে জড়ো হয়েছিল শত শত প্রতিবাদী মানুষ। হাতে হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে একটাই দাবি—“জাফর হত্যাকারী খুনি বাবলুর ফাঁসি চাই!” “ইয়াবা ও দেহব্যবসার নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দাও!” সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করতে গিয়ে দেখা যায় –একটি পোস্টার ঝুলছিল যেখানে লেখা ছিল—জাফর হত্যাকারী কুখ্যাত ডাকাত সর্দার রেজাউল করিম ও ইয়াবা সম্রাজ্ঞী সাজেদার পুত্র খুনি ইমরান হোসেন বাবলুর ফাঁসি চাই প্রচারে – কর্ণফুলী থানা বাসী।”
এই প্রশ্ন এখন জনসাধারণের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে বারবার। প্রশাসনের একটি গোষ্ঠী কি এ চক্রকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে? কেন বারবার এই ভয়ঙ্কর অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কোনও টেকসই পদক্ষেপ নেয় না পুলিশ? কেন আদালতে চার্জশিট দাখিলে গড়িমসি?এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন একটি প্রশ্ন রেখেই বিস্তারিত লেখাতে যায়-
এক জাফর মরলো আজ। প্রশাসন চুপ। আমরা কী পরবর্তী জাফরকে বাঁচাতে প্রস্তুত? নাকি এভাবেই কর্ণফুলীর প্রতিটি গলি হয়ে উঠবে মৃত্যুর মঞ্চ? আসামি মুক্তি পেয়ে আবারও পুনরায় হত্যা রাহাজানি চাঁদাবাজি সহ তান্ডব সৃষ্টি করেছে তা এলাকাবাসী প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন- রক্তে ভেজা কর্ণফুলী: এক জাফরের মৃত্যুতে কাঁপছে একটি সমাজ, নিশ্চুপ প্রশাসন!চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর শান্ত নিরীহ জনপদ আজ রক্তে রাঙা। যেন এক বিষাক্ত নীরবতা চেপে বসেছে পুরো এলাকায়। ২০১৭ সালের ২৪ শে আগস্টে মধ্যরাতে এক ভয়াল দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছে এই জনপদ—নিহত হয়েছে এক তরুণ, যার অপরাধ ছিল একটাই—অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলা।নিহত তরুণের নাম জাফর। জীবনের শুরুতে থাকা এক সাহসী প্রতিবাদী কণ্ঠ, শেষ হলো নির্মমভাবে চাপাতির কোপে, রডের আঘাতে, অস্ত্রের ঝাঁজে। তার মৃত্যু শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়—এ যেন কর্ণফুলীর বুকে চলা অপরাধ সাম্রাজ্যের নির্লজ্জ উন্মোচন। স্থানীয়রা বলেন, পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে গলির ভেতরে একদল সশস্ত্র যুবক তাকে ঘিরে ধরে। নেতৃত্বে ছিল ইমরান হোসেন বাবলু—কুখ্যাত ইয়াবা কারবারি, নারী পাচারকারী এবং দেহব্যবসা নিয়ন্ত্রণকারী এক ভয়ংকর নাম। তার পিতা রেজাউল করিম এক সময়ের পরিচিত ডাকাত সর্দার, আর মা সাজেদা—এলাকায় ‘ইয়াবা সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে কুখ্যাত। এক সময় পতিতাবৃত্তি ও মাদক ব্যবসার মাধ্যমে যে চক্রের গোড়াপত্তন হয়, আজ তা ছায়া বিস্তার করেছে পুরো কর্ণফুলী জুড়ে। সেই অন্ধকার সাম্রাজ্যের বলি হলো এক তরুণ—জাফর। থানায় নিরাপত্তা চেয়েছিলেন জাফর। জিডি করেছেন একাধিকবার। কিন্তু কিছুই হয়নি। কেন হয়নি? আজ এই প্রশ্নেই ফেটে পড়ছে কর্ণফুলী। প্রশাসনের গা-জোয়ার চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানাধীন চরলক্ষ্যা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালপাড়া এলাকায় সেই ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট সংঘটিত একটি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড আজও এলাকার মানুষের হৃদয়ে রক্তাক্ত স্মৃতি হয়ে আছে। ওইদিন রাতে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় দেলোয়ার হোসেনকে, যিনি একজন নিরীহ পরিবারপ্রধান ছিলেন। এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার নম্বর ছিল কর্ণফুলী থানার মামলা নং-৩৭, তারিখ ২৫/৮/১৭, ধারা ৩৪১/৩০২/৩২৩/৫০৬/৩৪ দণ্ডবিধি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট-ভুক্তভোগীর ছেলে মোঃ নয়ন (১৭), শিকলবাহা এলাকায় একটি জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে হেলপার হিসেবে কাজ করত। অভিযুক্ত আসামী ৩ ও ৬ (ইমরান হোসেন বাবলু ও নাট আবার) একই ইয়ার্ডে চাকরি করতেন। ২৪ আগস্ট দুপুরে মোবাইল গেম নিয়ে বাজিকে কেন্দ্র করে নয়নের সঙ্গে ১৩ নম্বর আসামীর কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। সন্ধ্যার পর নয়ন বাড়ি ফেরার পথে ফকির জামে মসজিদের সামনে তাকে ঘিরে ধরে অভিযুক্ত আসামিরা। নয়নের বাবাকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে ৩ নম্বর আসামী ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে তার ঘাড়ে আঘাত করে এবং ২ ও ৪ নম্বর আসামীর হাতে থাকা লাঠি ও হকিস্টিক দিয়ে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনায় সরাসরি জড়িত ৭ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে, যারা হলেন: ইমরান হোসেন বাবলু, আব্দুল আল মামুন,মো. মাঈদুল আলম,  আবার (২৬), আব্দুস সালাম (২৮),এছাড়াও আরো ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত রয়েছে, যারা হামলার সময় উস্কানি ও সহায়তা করে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ৩ ও ৪ নম্বর আসামীকে গ্রেপ্তার করে। ভুক্তভোগীর পরিবার যথাযথ ময়নাতদন্ত শেষে মামলা দায়ের করে এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানায়। এলাকাবাসীও সে সময় এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানায়,অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান আসামী ইমরান হোসেন বাবলু বর্তমানে জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় পুনরায় ত্রাস সৃষ্টি করছে। তার বিরুদ্ধে এখন খোলা আকাশের নিচে চাঁদাবাজি, প্রকাশ্য হুমকি-ধমকি, সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। সন্ত্রাসী বাবলু তার সহযোগীদের নিয়ে গত ৮ জুন গোয়ালপাড়ায় নিহত জাফরের বাড়ির সামনে গিয়েছিল। সেখানে সে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে পরিবারের সদস্যদের উপর চাপ সৃষ্টি করে—তাদের দায়ের করা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। ঘটনাটি এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাবলু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাভেদ এর ছত্রছায়ায় থেকে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছিল। স্থানীয়দের দাবি, বাবলু ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে জাফর হত্যার (দেলোয়ার হোসেন) মামলার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে। জনগণের ভাষায়—“যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে বাবলুর হাতে আরও নিরীহ মানুষ খুন হবে। আমরা তার বিরুদ্ধে স্থায়ী ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” এটি শুধু একটি হত্যা মামলার কথা নয়, এটি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার আওতাধীন চরলক্ষ্যা এলাকায় আইনের শাসনের চরম দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি। বিচার না পেলে অপরাধী যেমন বারবার মাথা তোলে, তেমনি নিরীহ মানুষগুলো হারিয়ে ফেলে নিরাপত্তার অনুভব। তাই সময় এসেছে, প্রশাসনকে কঠোর হয়ে জনতার আস্থার পুনরুদ্ধার করতে হবে।আসুন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা দেলোয়ার হোসেনের রক্তের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করি এবং আসামী বাবলুর মতো দুর্ধর্ষ অপরাধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই।