শিরোনাম
সুফিয়া নুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পুষ্টির যোগানে ফল উৎসব অনুষ্ঠিত“৮৪০ ঘণ্টার আলোকযাত্রা : সোনারগাঁও থানার ওসি গোলাম সরোয়ার, কিছু স্মৃতি, কিছু মানুষ এবং এক অনন্য বিকেলের গল্প-আজ ১৩ জুন কক্সবাজার সফরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী: উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও মানবিক রাষ্ট্রচিন্তার নতুন দিগন্ত কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডের উষ্ণ স্বাগত ও শুভেচ্ছা বার্তা-মে মাসে ৬১৩ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬২২, আহত ১,৬৫২ : যাত্রী কল্যাণ সমিতিনেপালের রাষ্ট্রপতিসহ বিশিষ্টজনদের আম উপহার দিল বাংলাদেশরাউজানে আন্তঃ এমপি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধনঘুমন্ত জাতিকে জাগ্রত করার স্বপ্নে এক প্রবাসীর রাজনৈতিক অভিযাত্রা | বাংলাদেশ জাগ্রত পার্টির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ইকরামুল হক খানের মুখোমুখি-দেশের বাজারে কত দামে স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছেডিফেন্ডারের জায়গায় মিডফিল্ডার নিয়ে বড় চমক আনচেলত্তিরসিংগাইরে ডাকাতির অভিযোগে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু

― Advertisement ―

সুফিয়া নুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পুষ্টির যোগানে ফল উৎসব অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: সমাজের অবহেলিত, পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর নালাপাড়ার ৯৮ নুর টাওয়ারে ব্যতিক্রমী এক ফল উৎসব এর...

ঘুমন্ত জাতিকে জাগ্রত করার স্বপ্নে এক প্রবাসীর রাজনৈতিক অভিযাত্রা | বাংলাদেশ জাগ্রত পার্টির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ইকরামুল হক খানের মুখোমুখি-

Homeসম্পাদকীয়ঘুমন্ত জাতিকে জাগ্রত করার স্বপ্নে এক প্রবাসীর রাজনৈতিক অভিযাত্রা | বাংলাদেশ জাগ্রত...

– মো. কামাল উদ্দিনঃ রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা যখন বারবার প্রশ্নবিদ্ধ, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার ব্যবধান যখন দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে, তখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক দর্শন ও নতুন এক প্রত্যয়ের কথা বলছে বাংলাদেশ জাগ্রত পার্টি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ইকরামুল হক খান মনে করেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকট অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক নয়, বরং নৈতিকতার সংকট। আর সেই সংকট উত্তরণের পথ খুঁজতেই তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা।
সম্প্রতি ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ জাগ্রত পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতার সুযোগ হয়। টুরিস্ট পত্রিকা ও চট্টল চিত্র মাল্টিমিডিয়া নিউজের পক্ষ থেকে নেওয়া এই সাক্ষাৎকারে উঠে আসে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনদর্শন, রাজনৈতিক চিন্তা, রাষ্ট্র ভাবনা, তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ, শিক্ষা, দুর্নীতি, গণতন্ত্র এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের রূপরেখা। প্রথম দেখাতেই যে বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তা হলো তাঁর সরলতা এবং আত্মবিশ্বাস। দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করলেও তাঁর প্রতিটি বাক্যে ছিল বাংলাদেশের প্রতি গভীর মমত্ববোধ। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল সুস্পষ্ট ও বিশ্লেষণধর্মী।
আলাপের শুরুতেই তিনি বলেন, “আমি রাজনীতিকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে দেখি না। রাজনীতি আমার কাছে একটি দায়িত্ব, একটি অঙ্গীকার। আমি বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত না হলে রাজনীতির কোনো অর্থ থাকে না।” তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাগ্রত পার্টি কোনো ব্যক্তি কেন্দ্রিক দল নয়; এটি একটি আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। দলটির মূল ভিত্তি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতার চেতনা, কার্যকর গণতন্ত্র এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ।
প্রকৌশলী ইকরামুল হক খান মনে করেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেরও বেশি সময় পরেও বাংলাদেশ এখনো কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি অর্জন করতে পারেনি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, দুর্নীতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং জবাবদিহিতার অভাব দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ অনেক সহনশীল। তারা অনেক কিছু মেনে নেয়। কিন্তু তারা একটি বিষয় কখনো মেনে নেয় না—প্রতারণা। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা বন্ধ করতে হবে। জনগণের ভোট, মতামত ও অধিকারকে সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবে।”
দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, দুর্নীতি আজ রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও তার সুফল অনেক সময় সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না।
তিনি বলেন, “দুর্নীতি শুধু অর্থ চুরি নয়; এটি মানুষের ভবিষ্যৎ চুরি। এটি একটি জাতির স্বপ্ন চুরি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া কোনো আইন কার্যকর হতে পারে না।” শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং জ্ঞানের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে সেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়,  “আমরা এমন শিক্ষা চাই, যা শুধু সার্টিফিকেট তৈরি করবে না; দক্ষ মানুষ তৈরি করবে। এমন শিক্ষা চাই, যা চাকরি খোঁজার মানসিকতা নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা গড়ে তুলবে।”
তিনি বিশেষভাবে তরুণদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার তরুণ জনগোষ্ঠী। সঠিক পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে এই তরুণ সমাজই দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। “তরুণদের হাতে মোবাইল আছে, প্রযুক্তি আছে, মেধা আছে। এখন প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে একজন তরুণ তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে।” ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, “ধর্ম মানুষকে মানবিক হতে শেখায়। ধর্মের নামে বিভাজন নয়, ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সকলেই বাংলাদেশের নাগরিক। রাষ্ট্রের কাছে সবাই সমান মর্যাদার অধিকারী।”
প্রবাসীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অপরিসীম। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের মতামত এবং অভিজ্ঞতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয় না। তিনি মনে করেন, বিদেশে অর্জিত জ্ঞান, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র শুধু একটি নির্বাচনের নাম নয়। গণতন্ত্র মানে জবাবদিহিতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং মানবিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা। জনগণকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে না পারলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না।” দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়—তিনি কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান? কিছুক্ষণ নীরব থেকে তিনি উত্তর দেন, “আমি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে কোনো মেধাবী তরুণ বেকার থাকবে না, কোনো মা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কে থাকবেন না, কোনো নাগরিক বিচারহীনতার শিকার হবে না, কোনো দুর্নীতিবাজ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না। আমি এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাষ্ট্র মানুষের সেবক হবে, শাসক নয়।” তাঁর এই উত্তর যেন পুরো সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ। বিদায় মুহূর্তে তাঁর চোখেমুখে ছিল এক ধরনের দৃঢ় প্রত্যয়। মনে হয়েছে, তিনি শুধু একটি রাজনৈতিক দল গড়তে চান না; তিনি একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চান। একটি জাগ্রত জাতির স্বপ্ন দেখেন, যে জাতি আত্মবিশ্বাসী, নৈতিক, দেশপ্রেমিক এবং উন্নয়নের পথে ঐক্যবদ্ধ। বাংলাদেশ জাগ্রত পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বাস্তবতায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তার উত্তর সময়ই দেবে। তবে প্রকৌশলী ইকরামুল হক খানের বক্তব্যে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তা হলো—তিনি বিশ্বাস করেন, পরিবর্তন অসম্ভব নয়; প্রয়োজন কেবল সৎ নেতৃত্ব, জনগণের অংশগ্রহণ এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ একটি জাগ্রত জাতি।  আর সেই বিশ্বাস থেকেই তাঁর উচ্চারণ— “ঘুমন্ত জাতিকে জাগিয়ে তুলতে হবে। কারণ জাগ্রত জনগণই পারে একটি নতুন বাংলাদেশের ইতিহাস রচনা করতে।” — সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও লিখন: মো. কামাল উদ্দিন ডেপুটি এডিটর, টুরিস্ট পত্রিকা চট্টল চিত্র মাল্টিমিডিয়া নিউজ।