
-মো.কামাল উদ্দিনঃ
ঢাকাস্থ ঐতিহ্যবাহী “চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা”-তে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারের দোসরদের ষড়যন্ত্র বন্ধ এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে লিখিত আবেদন জানিয়েছে সমিতির বর্তমান এডহক কমিটি। এডহক কমিটির আহ্বায়ক এম এ হাশেম রাজু ও সদস্য সচিব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খানের স্বাক্ষরিত এই আবেদনে জানানো হয়, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে “চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা” স্বৈরাচারী শক্তির দোসরদের দখলে ছিল। তাঁরা বিনা ভোটে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থে সমিতিকে ব্যবহার করেছে। এ সময় জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী সদস্যদের কোন অংশগ্রহণ ছিল না। এডহক কমিটি জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর অন্যান্য আঞ্চলিক সমিতিগুলোতে স্বৈরাচার বিরোধী পরিবর্তন এলেও চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা থেকে তারা নির্মূল হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে ১২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে জরুরি সাধারণ সভার মাধ্যমে একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়, যারা ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ১৩ এপ্রিল রাতে প্রস্তুতি সভার সময় স্বৈরাচারের দোসররা হামলা চালিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং ৯০’র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এম এ হাশেম রাজুকে মারাত্মকভাবে আহত করে। একই হামলায় জুলাই বিপ্লবের সময় বাম চোখ হারানো যোদ্ধা এমদাদ বাবুকেও গুরুতরভাবে আঘাত করা হয়। এডহক কমিটি অভিযোগ করে, এই চিহ্নিত হামলাকারীরা চার মাস অতিক্রম করেও কোনো বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আসেনি। বরং তারাই এখন এডহক কমিটির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
সম্প্রতি, ১৮ জুলাই ২০২৫ তারিখে “জুলাই বিপ্লবের” শহীদদের স্মরণে দোয়া মাহফিল ও আহত বীরদের সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এডহক কমিটি। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের বাধার কারণে এই শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। চট্টগ্রাম থেকে আসা প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা এবং ঢাকার শহীদ মীর মুগ্ধের পিতাসহ বহু শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন, যাদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় দীর্ঘ সময়। এডহক কমিটির নেতৃবৃন্দ পুলিশের এ আচরণকে অমানবিক, দুঃখজনক ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অসম্মান বলে অভিহিত করেছেন। তারা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা থেকে ফ্যাসিস্ট দোসরদের নির্মূল, শহীদ স্মরণ সভায় বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আগামী দিনে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

