শিরোনাম
ফটিকছড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ টেস্টার মোবারক গ্রেপ্তারযাত্রাবাড়ীতে ২১৫ গ্রাম গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তারশেখ হাসিনার পতন, দেশত্যাগ, এবং ভবিষ্যতের রাজনীতিঃএক বছর আগে যে আলো দেখেছিলাম হাসিব আজিজ—চট্টগ্রামের কমিশনার থেকে অতিরিক্ত আইজিপি, এপিবিএন প্রধানসমাজের নৈতিক পরিবর্তনে সীরত মাহফিলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণএপিবিএনকে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দিতে নতুন আইন হচ্ছেবিমানবন্দর এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় একজন গ্রেপ্তারআধুনিক চিকিৎসাসেবায় নতুন আস্থার ঠিকানা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালতখন এস আলমের নাম নেওয়াই ছিল অপরাধ—আজ ফেসবুকের স্মৃতিতে ফিরে এলো আমার সেই সাহসী লেখা এস আলম গ্রুপকে বাঁচানোর সেই আর্তনাদ, চট্টগ্রামের শিল্প-অর্থনীতি ও আমার বিবেকের দায়-মরুর বুকে ভ্রমণের গল্প, শব্দে শব্দে জীবনের মুগ্ধতা

― Advertisement ―

ফটিকছড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ টেস্টার মোবারক গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ মো. মোবারক হোসেন ওরফে টেস্টার মোবারক (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে...

তিনশত বছরের পুরোনো নজর মোহাম্মদ গোষ্ঠীর কবরস্থান রক্ষায় এলাকাবাসীর আবেদন: ইতিহাস, ধর্মীয় অনুভূতি ও ন্যায়ের প্রশ্নে দাঁড়িয়ে চরণদ্বীপ

HomeUncategorizedতিনশত বছরের পুরোনো নজর মোহাম্মদ গোষ্ঠীর কবরস্থান রক্ষায় এলাকাবাসীর আবেদন: ইতিহাস, ধর্মীয়...

নিজস্ব প্রতিবেদন:
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত চরণদ্বীপ ইউনিয়ন বহু প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এলাকা। এই ইউনিয়নের এক মর্যাদাপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক গোষ্ঠী হলো ‘নজর মোহাম্মদ সমাজ’। প্রায় তিনশত বছর আগে গড়ে উঠেছিল এই গোষ্ঠীর পারিবারিক কবরস্থান, যেখানে তাঁদের পূর্বপুরুষগণ ঘুমিয়ে আছেন চিরনিদ্রায়। কালের আবর্তে এই কবরস্থান শুধুই একটি সমাধিক্ষেত্র নয়—এটি আজ ঐতিহ্যের নিদর্শন, পারিবারিক শেকড়ের পরিচয় এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের চরম প্রকাশ।
এই কবরস্থানে আজও নিয়মিত দাফন প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। গোষ্ঠীর প্রতিটি সদস্যের মৃত্যুর পর এখানেই তাঁদের চিরশান্তির আশ্রয় হয়। এমন পবিত্র স্থানে কিছু অজানা কারণে কোনো এক সময় জমির একটি অংশ সরকারি খাস জমি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়—যার তথ্য গোষ্ঠীর কারো কাছে স্পষ্ট ছিল না। কবরস্থানের অস্তিত্ব থাকা অবস্থায় যদি জায়গাটি খাস হয়, তাহলে তা একটি নৈতিক ও প্রশাসনিক বিভ্রান্তি বলেই বিবেচিত হবে।
সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই পবিত্র পারিবারিক কবরস্থানটির প্রতি কু-দৃষ্টি দেয়। তারা জেলা প্রশাসকের বরাবর একটি আবেদন করে, যেখানে কবরস্থানের ভেতর দিয়ে হাঁটার রাস্তা তৈরির প্রস্তাব দেয়া হয়। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে বোয়ালখালী উপজেলা ভূমি অফিস জানায় যে, কবরস্থানের কিছু অংশ সরকারি খাস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং সেখানে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা তৈরি করা যাবে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে ২০২৫ সালের ৮ মে, যখন সহকারী কমিশনার (ভূমি), বোয়ালখালী তাঁর নির্দেশে ও উপস্থিতিতে কবরস্থানে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন, যাতে লেখা ছিল “এই জমি সরকারি খাস এবং এটি এখন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।” এই ঘোষণায় কবরস্থানের পবিত্রতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয় এবং নজর মোহাম্মদ গোষ্ঠীর সদস্যরা চরম ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হন।
তাঁরা সরকারের সিদ্ধান্ত অমান্য করেননি, তবে আইনগতভাবে প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। গোষ্ঠীর দাবি—যে জায়গায় তাঁদের বাপ-দাদাদের কবর, সেই জায়গা দিয়ে হাঁটা চলা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে। একে দখল করার অভিযোগ হাস্যকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ছাড়া কিছু নয়। বরং, কবরস্থানের দখল নেয়ার চেষ্টা এখন একটি কুচক্রী মহল চালিয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
এই পরিস্থিতি আরও বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে যখন এক শ্রেণির মানুষ অপপ্রচার চালায় যে, এই কবরস্থানটি ‘ক্ষমতার দাপটে’ দখল করে নেয়া হয়েছে। বাস্তবে, এটি একটি ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য—যা নজর মোহাম্মদ গোষ্ঠীকে সামাজিকভাবে হেয় করার কৌশল। গোষ্ঠীর উত্তরসূরিদের বক্তব্য—“এই কবরস্থান কখনো দখল করা হয়নি, বরং আমাদের নিজস্ব জায়গায় তৈরি করা হয়েছে। সরকারি খাস ঘোষণা হয়েছে অনেক পরে, সেটি নিয়েও আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। এখনো সেই মামলা বিচারাধীন। মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই যদি সরকার কবরস্থানে হাঁটার রাস্তা করে দেয়, তবে তা কি ন্যায়বিচারের পরিপন্থী নয়?”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নজর মোহাম্মদ সমাজের নেতৃবৃন্দ প্রশাসন, আদালত ও জনগণের প্রতি বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন—তিনশো বছরের পুরোনো এই কবরস্থান যেন যথাযথ সম্মান ও মর্যাদায় সংরক্ষিত থাকে। চলমান মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যেন কোনো রকম সরকারি হস্তক্ষেপ বা রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ না নেয়া হয়। ধর্মীয় মূল্যবোধ, ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও মানবিক বিবেচনায় এটি একটি জরুরি দাবি।
এই কবরস্থান কেবল একটি পারিবারিক গোষ্ঠীর সম্পদ নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের ধারক। তার উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ মানে কেবল এক টুকরো জমির ওপর নয়, শত শত মৃত আত্মার ওপরে আঘাত করা।