
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইনের হত্যার সময় তিনি এখনও বেঁচে ছিলেন। বাঁচার জন্য তিনি দোতলা থেকে উপরে উঠছিলেন। তৃতীয় তলায় দাঁড়িয়ে থাকা বর্ষাকে দেখে জোবায়েদ বলেছিলেন, “আমাকে বাঁচাও।” কিন্তু বর্ষা তাকে বলেন, “তুমি না মরলে আমি মাহীরের হতে পারব না।” এরপরই বর্ষা নিশ্চিত করেন জোবায়েদের মৃত্যু। দরজায় নক করেও জোবায়েদ কেউ সাড়া পাননি। ডিএমপি জানায়, বর্ষা খুব চালাক। সে দুইজনের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছিল। এটি একটি ত্রিভুজ প্রেমের ঘটনা। বংশাল থানার ওসি জানান, এটি বর্ষা ও মাহীরের পরিকল্পিত হত্যা। বর্ষা ও মাহীরের সম্পর্ক ৯ বছর ধরে চলছিল। পরে বর্ষা জোবায়েদের পছন্দ করতে শুরু করে। পরবর্তীতে বর্ষা ও মাহীর জোবায়েদকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। তারা ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে পরিকল্পনা শুরু করেছিল। এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে। জোবায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়কও ছিলেন। গত এক বছর ধরে তিনি পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নূরবক্স লেনের রওশান ভিলায় বর্ষা নামের এক ছাত্রীকে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান পড়াতেন। গত রোববার বিকেলে জোবায়েদ তৃতীয় তলায় ওঠার সময় সিঁড়িতে খুন হন। বাসার নিচ থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত রক্ত ছড়িয়ে ছিল। ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বংশাল থানার সামনে বিক্ষোভ চালান এবং তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন। ওই রাতে পুলিশ বর্ষাকে হেফাজতে নেয়। পরদিন জোবায়েদের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।


