
তেল আবিবের বিলাসবহুল ‘দা ভিঞ্চি টাওয়ার্স’ কমপ্লেক্সের নিচে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক ঘাঁটি ‘সাইট ৮১’-তে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দ্রুত এলাকা সিল করে দিয়েছে। অনুসন্ধানী গণমাধ্যম দ্য গ্রেজোন-এর তথ্যমতে, এই ঘাঁটিটি ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দাদের কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যার নকশা ও নির্মাণ এক দশক আগে তত্ত্বাবধান করেছিল মার্কিন আর্মি কর্পস অব ইঞ্জিনিয়ার্স। হামলার পর সাংবাদিকদের সেখানে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এমনকি ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইয়ংস্টসহ কয়েকজন প্রতিবেদককে হাকিরিয়া কমপ্লেক্স ও আজরিলি সেন্টার এলাকা থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, এটি ইসরায়েলের আগের হামলার ‘প্রতিশোধমূলক অভিযান’ এবং তাদের লক্ষ্য ছিল সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনা। গুগল ও ইয়ানডেক্স ম্যাপে সংশ্লিষ্ট স্থানটি ঝাপসা দেখা যাচ্ছে, এবং স্ট্রিট-ভিউ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে—যা তেল আবিবে সেন্সরশিপ জোরদারের ইঙ্গিত দেয়। দ্য গ্রেজোন জানায়, ২০১৩ সালে মার্কিন প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে নির্মিত ‘সাইট ৮১’ প্রায় ছয় হাজার বর্গমিটারের একটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক-শিল্ডযুক্ত গোয়েন্দা বাঙ্কার। ভূ-অবস্থান বিশ্লেষণ, ফাঁস হওয়া ইমেইল ও প্রকাশ্য নথি বিশ্লেষণে এর অবস্থান নিশ্চিত করা গেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই সামরিক স্থাপনাটি একটি শিশুদের খেলার মাঠ ও কমিউনিটি সেন্টার থেকে মাত্র শত মিটার দূরে অবস্থিত, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন স্থাপনা স্থাপন করে ইসরায়েল কার্যত বেসামরিক নাগরিকদের ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে—যে অভিযোগ তারা বহুদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে তোলে। ফাঁস হওয়া চিঠিপত্রে সাবেক ন্যাটো কমান্ডার জেমস স্ট্যাভ্রিডিস ও ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাবি আশকেনাজির মধ্যে ‘সাইট ৮১’-এর সামরিক গুরুত্বের ইঙ্গিত মেলে। ২০১৫ সালের এক চিঠিতে স্ট্যাভ্রিডিস উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থিঙ্কলজিক্যাল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে ওই ঘাঁটি নিয়ে বড় একটি চুক্তি সম্পন্ন করেছিল। দা ভিঞ্চি কমপ্লেক্সে বিনিয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি গোষ্ঠীগুলো, যাদের মধ্যে রয়েছে চেক পয়েন্ট টেকনোলজিস ও AI21 Labs—শেষোক্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট ‘৮২০০’-এর সাবেক সদস্যরা। ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর জানায়, হামলার পর ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোতে কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়। হারেৎজ পত্রিকায় দা ভিঞ্চি কমপ্লেক্সের ছবি প্রকাশ পেলেও হামলার খবর প্রকাশে প্রায় দুই সপ্তাহ বিলম্ব করা হয়, যা বিশ্লেষকদের মতে, হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি গোপন রাখার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছিল।


