
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর আবাসিক হলগুলোতে লবণাক্ত পানির কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত নোনাপানির প্রভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে; অনেকের শরীরে চুলকানি, ত্বকের র্যাশ, চুল পড়া ও অন্যান্য চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গোসলের সময় এই পানি শরীরে লাগলে জ্বালা ও অস্বস্তি অনুভূত হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ত্বক ও চুলের সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। কাপড় ধোয়ার সময়ও বেশি সাবান ব্যবহার করতে হচ্ছে, কারণ ফেনা হয় না। এমনকি কল ও শাওয়ারে দ্রুত মরিচা ধরে, শাওয়ার বন্ধ হয়ে যায়, আর ইলেকট্রিক কেটলি ও কুকারে লবণের স্তর জমে যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জানা গেছে, কুয়েটের সাতটি আবাসিক হলের মধ্যে পাঁচটি হলে—ড. এমএ রশিদ হল, শহীদ স্মৃতি হল, ফজলুল হক হল, রোকেয়া হল এবং ওমর একুশে হলে—লবণাক্ত পানির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কেবল খান জাহান আলী হল ও লালন শাহ হলের পানি তুলনামূলক নিরাপদ, কারণ সেখানে ১,৭০০ ফিট গভীর থেকে পানি তোলা হয়, যেখানে বাকি হলগুলোর পাম্পের গভীরতা মাত্র ৬০০ ফিট। এই লবণাক্ত পানির প্রভাবে শুধু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার ও বিভাগের যন্ত্রপাতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বেশ কিছু মূল্যবান যন্ত্রপাতি মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজন কুমার রাহা জানান, লবণাক্ত পানির কারণে প্রায় ৮ লাখ টাকার অটোক্লেভ যন্ত্রটি অচল হয়ে পড়েছে। রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী নোশিন বলেন, “চুল পড়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা। শাওয়ার নষ্ট হয়ে যায়, দাঁত হলুদ হয়ে গেছে, ত্বকে র্যাশ ও কালচে দাগ দেখা দিচ্ছে। কাপড় ভালোভাবে পরিষ্কার হয় না, বাথরুমে লালচে দাগ জমে থাকে।” এ বিষয়ে ড. এমএ রশিদ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম বলেন, “প্রশাসন চাইলে সহজেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। শিক্ষার্থীরা জোরালোভাবে দাবি জানালে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” কুয়েটের চিফ ইঞ্জিনিয়ার এবিএম মামুনুর রশীদ বলেন, “যেসব হলে লবণাক্ত পানি আছে, সেগুলোর ডিপ টিউবওয়েল মাত্র ৬০০ ফিট গভীরে। নতুন হলগুলোয় ১,৭০০ ফিট নিচ থেকে পানি তোলা হচ্ছে, তাই সেগুলোর পানি ভালো। খুব শিগগিরই নতুন প্রোডাকশন টিউব বসানো হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।” কুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাকসুদ হেলালী জানান, “লবণাক্ত পানির বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। নতুন কয়েকটি হলে ইতোমধ্যে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি হলগুলোতেও দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই সব শিক্ষার্থীকে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে পারব।”


