
বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধিসহ শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, “শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি অবশ্যই মেনে নিতে হবে।” বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ২৯ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, *“শিক্ষকদের দুর্দশাগ্রস্ত রেখে জাতির অগ্রগতি কখনোই সম্ভব নয়। আমাদের সম্মানিত শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।”* এদিকে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি তুলে নিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষকরা। তিন দফা দাবি পূরণের আশ্বাস পাওয়ার পর তারা শাহবাগ ব্লকেড তুলে নিলেও জানিয়েছেন—বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) নির্ধারিত সময়ে দাবি বাস্তবায়ন না হলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে পদযাত্রা করবেন। বুধবার বিকেলে শহীদ মিনারে সমবেত হয়ে শিক্ষকরা নতুন সময়সীমা বেঁধে দেন। তাদের ব্লকেড তুলে নেওয়ার পর শাহবাগে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে দুপুর ২টার দিকে শিক্ষকরা শাহবাগে অবস্থান নেন এবং ঘোষণা দেন—*“এবার আর প্রতিশ্রুতি নয়, প্রজ্ঞাপন ছাড়া অবস্থান থেকে ফিরব না।”* শাহবাগ থানার সামনে পুলিশ তাদের বাধা দিলেও তারা ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগে অবস্থান নেন। এর আগে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলমান অবস্থান কর্মসূচিতেই শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। শিক্ষকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—* মূল বেতনের ওপর ২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাতা প্রদান * চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকায় উন্নীত করা * কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশে বৃদ্ধি করা সরকার এখনো এসব দাবির প্রজ্ঞাপন জারি না করায় শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি পালনকালে হাইকোর্ট মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেডে আটকে পড়েন তারা। সেখান থেকে আলটিমেটাম দিয়ে ঘোষণা দেন—বুধবার সকাল ১১টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। দাবি না মানলে পরবর্তী ধাপে আমরণ অনশন শুরুরও ঘোষণা দেন তারা। প্রসঙ্গত, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, যা শিক্ষকরা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ৬ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠায়, যাতে বাড়ি ভাতা দুই থেকে তিন হাজার টাকায় উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পান। তারা মাসে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও ১,০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পান। সাম্প্রতিক বৃদ্ধিতে এই পরিমাণ ৫০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। উৎসব ভাতা পূর্বে ছিল মূল বেতনের ২৫ শতাংশ, যা মে মাসে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।


