
গত ৪ঠা নভেম্বর, মঙ্গলবার ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২৫৬৯ বুদ্ধাব্দে চন্দনাইশ উপজেলার বঙ্গীয় বৌদ্ধ সমাজের ধর্ম, সংস্কৃতি ও চৈতন্যবিকাশের প্রাণকেন্দ্র, শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহাসিক পূণ্যতীর্থ মহামান্য সপ্তম সংঘরাজ সদ্ধর্মকীতি অভয়তিষ্য মহাস্থবিরের সাধনপীঠ সাতবাড়ীয়া শান্তি বিহারে মহামানব তথাগত বুদ্ধ কর্তৃক প্রশংসিত দানরাজ, দানশ্রেষ্ঠ, দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব ও বৌদ্ধ মহাসম্মেলন অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়। উক্ত মহতী দানোৎসবে আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-সংঘরাজ সদ্ধর্মনিধি ধর্মদর্শী মহাস্থবির। সভাপতির আসন অলংকৃত করেন অধ্যক্ষ, সদ্ধর্মজ্যোতিকাধ্বজ সদ্ধর্মবিশারদ ভদন্ত বসুমিত্র মহাস্থবির। প্রধান জ্ঞাতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমুক্তি বিদর্শনাচার্য ভদন্ত রত্নপ্রিয় মহাস্থবির, বিশেষ জ্ঞাতি ভদন্ত এস. ধর্মপাল মহাস্থবির, ভদন্ত ধর্মানন্দ মহাস্থবির ও ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাস্থবির। প্রধান ধর্মদেশক ছিলেন ভদন্ত প্রজ্ঞাদর্শী ভিক্ষু, অধ্যক্ষ কাটাছড়ি বন বিহার, রাঙ্গামাটি। উদ্বোধনী ভাষণ প্রদান করেন ভদন্ত তিয্যমিত্র ভিক্ষু। সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুবেল বড়ুয়া, ট্রাস্টি, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ট্রাস্টি রুবেল বড়ুয়া তাঁর বক্তৃতায় বলেন — > “সাতবাড়ীয়া শান্তি বিহার ইতিহাসের ধারক ও বাহক। মহামান্য সপ্তম সংঘরাজ অভয়তিষ্য মহাস্থবিরের সাধনপীঠ এই পূণ্যভূমি রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। বিহার উন্নয়নের জন্য কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। সরকার আমাকে ট্রাস্টি হিসেবে নি
য়োগ দিয়েছেন দেশের সকল বৌদ্ধ বিহার ও পুণ্যতীর্থ ভূমি সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য। আমি এই গ্রামের সন্তান, ছোটবেলায় শান্তি বিহারে আসতাম — আজও সেই স্মৃতি আমার মনে জাগ্রত। আমার জন্য আশীর্বাদ করবেন যেন কল্যাণ ট্রাস্টের তহবিল আরও বৃদ্ধি করতে পারি এবং বাংলাদেশের প্রতিটি বিহারকে নন্দিত করতে পারি।” অনুষ্ঠানে মঙ্গলাচরণ পাঠ করেন ভদন্ত বিনয়মিত্র ভিক্ষু। উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন চিত্র ও ভাস্কর্য শিল্পী বাবু স্বপন বড়ুয়া ও তাঁর দল। স্বাগত ভাষণ দেন কল্লোল চৌধুরী, সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পাঠ করেন শিক্ষক শংকর কুমার বড়ুয়া, পঞ্চশীল প্রার্থনা পরিচালনা করেন সুলভ চৌধুরী, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সমর চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মনিষ চৌধুরী ও বিপুল বড়ুয়া। আয়োজনে ছিল সাতবাড়ীয়া শান্তি বিহার পরিচালনা কমিটি ও দায়কদায়িকাবৃন্দ।

