
মো. কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও থানা—একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা। এখানে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস, প্রতিদিন নানা ঘটনা ও পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় পুলিশ প্রশাসন। তবে সাম্প্রতিক সময়ের একটি সাহসিকতাপূর্ণ অভিযান গোটা নগরজুড়ে প্রশংসার ঝড় তুলেছে। আর সেই অভিযানের মূলনায়ক—চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আফতাব উদ্দিন।
পেশাদার সাংবাদিক সমাজ বলছেন, এম. হান্নান রহিম তালুকদারের মতো কথিত সাংবাদিককে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে ওসি আফতাব উদ্দিন যেভাবে সাংবাদিকতার অপব্যবহারকে রুখে দাঁড়িয়েছেন, তা দেশের পুলিশের জন্য এক আদর্শ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই ধরনের অপসাংবাদিকতা রুখতে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন, এবং ওসি আফতাব উদ্দিন সেটি বাস্তবে দেখিয়েছেন। তাই আজকের আইনশৃঙ্খলা মূল্যায়ন সভায় তাঁকে চতুর্থবারের মতো ‘সেরা ওসি’ মনোনীত করা হলে, তা হবে সময়ের দাবি।
এটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এক সততার জয়, সাহসিকতার বিজয় এবং সাংবাদিকতার নামে অপরাধ দমনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ঘটনাটি একদম সাধারণ নয়। গত ১৫ই জুন ২০২৫, রাত ১১টা। বহদ্দারহাটের পপুলার গেস্ট হাউজে হঠাৎ করেই আবির্ভূত হন এম. হান্নান রহিম তালুকদার নামের এক ব্যক্তি, নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে। সঙ্গে ছিল ৫-৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি। তারা হোটেল স্টাফদের ভয় দেখিয়ে দাবি করে, প্রতি সপ্তাহে ১৫,০০০ টাকা করে চাঁদা না দিলে তারা মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করবে এবং হোটেল বন্ধ করে দেবে।
তারা বেআইনিভাবে হোটেলের প্রতিটি কক্ষে তল্লাশি চালায়, অতিথিদের হয়রানি করে এবং হোটেল কর্মচারীদের হুমকি প্রদান করে। কিন্তু হোটেল স্টাফ জাকির হোসেন, নয়ন চাকমা ও অজয় নাথ এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন এবং সাহসিকতার সঙ্গে থানায় গিয়ে ওসির শরণাপন্ন হন।
ঠিক তখনই ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেন চান্দগাঁও থানার ওসি আফতাব উদ্দিন। কোনো ধরণের দেরি না করে, তিনি এজাহার গ্রহণ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত তথাকথিত সাংবাদিক হান্নান রহিম তালুকদারকে গ্রেফতার করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেন।
এই ঘটনাটি ছিল না শুধুই একটি মামলার আনুষ্ঠানিকতা। এটি ছিল সাংবাদিকতার মুখোশধারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে একটি সাহসী অবস্থান। যেখানে বহু ক্ষেত্রেই ভুয়া পরিচয়ধারীরা আইনের ফাঁক গলে পার পেয়ে যায়, সেখানে আফতাব উদ্দিন ছিলেন ব্যতিক্রম।
তিনি শুধু হান্নানকে গ্রেফতারই করেননি, বরং তাঁর থানার আওতাধীন এলাকায় কোনো প্রকার গোপন বৈঠক, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, কিংবা নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগও দেননি। সম্প্রতি তিনি কুকি-চিন বিদ্রোহী সংগঠনের সামরিক পোশাক উদ্ধার ও গার্মেন্টস মালিকসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে গ্রেফতার করে নজর কেড়েছেন গোটা চট্টগ্রামে।
তাঁর পেশাদারিত্ব, সততা ও সাহসিকতায় ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের আইনশৃঙ্খলা মূল্যায়ন সভায় তিনবার ‘সেরা ওসি’র সম্মান অর্জন করেছেন। আর এবার, হান্নানের মতো এক দুঃসাহসী চাঁদাবাজ সাংবাদিককে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে জনমনে যে আস্থা সৃষ্টি করেছেন, তাতে করে পেশাদার সাংবাদিক সমাজের মতে, ওসি আফতাব উদ্দিন চতুর্থবারের মতো ‘সেরা ওসি’ মনোনীত হওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্যতা রাখেন।
আজকের আইনশৃঙ্খলা মূল্যায়ন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে, তা হবে কেবল একজন কর্মকর্তার সম্মাননা নয়, বরং ন্যায়বিচার ও পেশাগত নিষ্ঠার এক গৌরবময় উদাহরণ।
উপসংহার:
চট্টগ্রাম নগরীর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ওসি আফতাব উদ্দিন যে অবদান রেখে চলেছেন, তা নিঃসন্দেহে দেশের সকল থানার অফিসারদের জন্য একটি আদর্শ হয়ে উঠেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি, নাগরিক নিরাপত্তায় তাঁর নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা এবং নামসর্বস্ব সাংবাদিকতার মতো সমাজঘাতী অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান—এই সকল কারণেই তিনি শুধুই এক অফিসার নন, বরং এক অনন্য সাহসী প্রতিচ্ছবি।

