-মো.কামাল উদ্দিনঃ
আজ সেই স্মৃতিময় দিনের কথা মনে পড়ল—২০১২ সালের কোরিয়ায়, পেন ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত বিশ্ব লেখক সম্মেলন। দূরের দেশ, অচেনা ভাষা, ভিন্ন সংস্কৃতি তবু মানুষের আলাপ, সঙ্গীতের সুর, হাসি আর সংলাপ এত কাছের মনে হয়েছিল।
লবির আলো-ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আরিশা তাসনীম "কুরিয়ার নায়িকা- তার উষ্ণ হাসি, কথা বলার ভঙ্গি আর আন্তরিক উপস্থিতি—সবকিছু মিলিয়ে মনে হয়েছিল, দূরের দেশেও মানুষ এক। শব্দ, অনুভূতি ও সৌন্দর্য হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছিল।
আজ সেই স্মৃতি লেখার মাঝে জীবন্ত হয়ে উঠেছে—দূরের দেশ হলেও, মানুষের কাছাকাছি থাকা অনুভূতি চিরকাল হৃদয়ে থেকে যাবে। প্রথম আলাপ কোরিয়ার ভিআইপি হোটেল হুন্দায়ের লবি সেদিন যেন এক আন্তর্জাতিক মেলবন্ধন। চারপাশে বিভিন্ন দেশের মানুষ, নানা ভাষা, বিভিন্ন সংস্কৃতির মিলন। সেই ভিড়ের মাঝখানে এক নীরব আলোর মতো উপস্থিতি—যার দিকে আমার নজর থেমে যায়। আমি নিজেকে পরিচয় করালাম। “হ্যালো, আমি মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ থেকে এসেছি। আমি সাংবাদিক, লেখক এবং টেলিভিশন উপস্থাপক। দীর্ঘদিন ধরে কলম এবং ক্যামেরার মাধ্যমে সমাজ, রাজনীতি ও মানুষের গল্প তুলে ধরার চেষ্টা করছি। পেন ইন্টারন্যাশনালের সদস্য হিসেবে এই কনভেনশনে অংশ নিতে পেরে আনন্দিত।”
আমার কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস, কিন্তু বিনয়ও ছিলো—কারণ আমি জানি, একজন শিল্পী বা সংস্কৃতিজগতের মানুষকে বোঝা কোনো সাধারণ কাজ নয়। তারপর আমি হাত বাড়ালাম। তিনি একইসঙ্গে স্বাভাবিক এবং মার্জিত ভঙ্গিতে হাত মিলালেন।
“আমি আরিশা তাসনীম-পরিচয় হতে পেরে আনন্দিত,”—বললেন তিনি। তার কণ্ঠের সুর ছিল শান্ত, স্পষ্ট, অথচ আত্মবিশ্বাসী।
এই করমর্দনের মধ্যেই প্রথম সংযোগ তৈরি হলো—শুধু হাতে না, হৃদয়ে। তার সঙ্গে কথোপকথনের সূচনা আমি বললাম—
“আমি চাই আপনার সঙ্গে একটি অন্তরঙ্গ সাক্ষাৎকার করি। আপনার জীবন, শিল্প, সংগ্রাম এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে জানার সুযোগ চাই। তবে শর্ত হলো—এটি যেন শুধু তথ্যসংগ্রহের সাক্ষাৎকার না হয়, এটি যেন হয় এক অনুভূতির আলাপ।”
তিনি কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন, তারপর সেই পরিচিত মৃদু হাসি ছড়িয়ে দিয়ে বললেন— “অবশ্যই। তবে হ্যাঁ, যেন এটি কেবল প্রশ্নোত্তর না হয়। এটি যেন হয়ে ওঠে আমাদের আলাপের একটি অনুভূতির যাত্রা।” আমি তখন মনে মনে নিশ্চিত হলাম—আজকের দিনটি হবে বিশেষ। সাক্ষাৎকার নেওয়ার প্রস্তুতি: পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তিগত সংযোগ আমি জানতাম, একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব শুধু প্রশ্ন করা নয়। দায়িত্ব হলো—সত্তার গভীরে প্রবেশ করা, অনুভূতি বোঝা, শব্দের আড়ালে থাকা গল্পকে তুলে ধরা। আমি তাকে আমার পরিচয় আরও বিশদে দিলাম— “আমি পেন ইন্টারন্যাশনালের সদস্য। বিভিন্ন দেশের লেখক, গবেষক ও শিল্পীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার করেছি। তবে আজকের আলাপটি বিশেষ হবে, কারণ এটি শুধু তথ্যের জন্য নয়, এটি হবে একটি অনুভূতির যাত্রা। আমি চাই, আপনার ভেতরের সেই গল্পগুলোও আমাদের পাঠকের কাছে পৌঁছাক।” তার চোখে এক ধরনের আগ্রহ। তিনি বললেন— “এটি আমাকে ভালো লাগছে। একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে এমন আন্তরিক প্রস্তাব পাওয়া মানে সত্যিই সম্মানজনক।” আমরা লবির এক নিরিবিলি কোণে বসে পড়লাম। কফির কাপ হাতে। ধোঁয়া মৃদু ভেসে উঠছে।
তার প্রাথমিক বক্তব্য: শিল্পী ও মানবসত্তার সংমিশ্রণ আমি প্রথম প্রশ্ন করলাম— “আপনার শৈশব এবং শিক্ষাজীবন কেমন কাটে?”
তিনি কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন, চোখে অতীতের ছায়া ভেসে উঠছিল। “আমার শৈশব সাধারণ ছিল, তবে আমি সবসময় স্বপ্ন দেখেছি। পড়াশোনা করেছি পারফর্মিং আর্টস নিয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সুযোগ হয়েছে শেখার। এই শিক্ষার মাধ্যমেই আমি নিজেকে এক শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছি।” তার কথায় নাটকীয়তা নেই—শুধু সততার সরলতা। তার ভঙ্গিতে, চোখের দীপ্তিতে প্রতিফলিত হচ্ছে অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস। মডেলিং ও অভিনয়: আত্মপ্রকাশের প্রথম পদক্ষেপ আমি জানতে চাইলাম
“ক্যামেরার সামনে প্রথমবার দাঁড়ানোর অনুভূতি কেমন ছিল?”তিনি হেসে বললেন— “ভয় আর উত্তেজনার মিশ্রণ। মনে হচ্ছিল, আমি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করছি। মডেলিং শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, এটি আত্মবিশ্বাসের এক শিল্প। আমার অভিনয় যাত্রা শুরু হবার আগে মডেলিং আমাকে শিখিয়েছে—কিভাবে নিজেকে গ্রহণ করতে হয়।” তার প্রত্যেক কথায় ছিল জীবনের অভিজ্ঞতার ছাপ। অভিনয় নিয়ে আমি জানতে চাইলাম— “আপনার অভিনয় আমাকে কি শিখিয়েছে?” তিনি গভীর স্বরে বললেন
“অভিনয় আমাকে শিখিয়েছে, আমি একা নই। আমার ভেতরে অনেক মানুষ বাস করে। প্রতিটি চরিত্র আমাকে নতুন করে বাঁচতে শেখায়, নতুন করে অনুভব করতে শেখায়।” তার এই কথাগুলোতে আমি অনুভব করলাম—এটি শুধু একজন অভিনেত্রীর নয়, একজন মানবসত্তার স্বীকারোক্তি। ব্যক্তিগত জীবন ও প্রেম: খ্যাতি ও একাকিত্বের মিশ্রণ আমি প্রশ্ন করলাম— “খ্যাতি এবং মানুষের প্রশংসা—এর আড়ালে আপনি কেমন?” তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। তারপর বললেন— “আমি খুব একা একজন মানুষ। আলো যত বেশি, ছায়াও তত গভীর হয়। খ্যাতি যেমন আনন্দ দেয়, তেমনি একাকিত্বও বেড়ে দেয়। তবে এটি আমাকে নিজেকে চিনতে সাহায্য করে।” আমি আরও জানতে চাইলাম— “ভালোবাসা এবং প্রেম আপনার জীবনে কতটা প্রভাব ফেলেছে?” তিনি ধীরে হাসলেন— “ভালোবাসা ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ। আমি ভালোবেসেছি, হারিয়েছি, আবার নিজেকে খুঁজে পেয়েছি। প্রেম আমাকে ভেঙেছে, আবার গড়ে তুলেছে। এটি জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষক।” সঙ্গীত ও অনুভূতির ভাষা
তিনি হঠাৎ বললেন— “গান শুনবেন?” একটি নরম, মায়াময়, মৃদু বিষণ্ণ গান বাজতে শুরু করল। “গান এমন একটি ভাষা,”—তিনি বললেন, “যা শব্দের বাইরে অনেক কিছু বলে দেয়।” আমরা দু’জনই কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম, অনুভব করলাম সুরের মধ্য দিয়ে সম্পর্কের এক অদৃশ্য সেতু গড়ে উঠছে। সাক্ষাৎকারের অনুমতি ও সমাপ্তি আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম— “আপনি কি চান, এই আলাপ প্রকাশিত হোক?” তিনি হেসে উত্তর দিলেন— “অবশ্যই। তবে মনে রাখবেন—এটি শুধু তথ্য নয়, এটি একটি অনুভূতির যাত্রা। পাঠক যেন এটি পড়ে শুধু জানে না, অনুভবও করে।” এভাবেই শুরু হলো আমাদের চার ঘণ্টার অন্তরঙ্গ সাক্ষাৎকার। একটি সাক্ষাৎকার যা শুধু প্রশ্ন ও উত্তর নয়— এটি ছিল মানুষকে বোঝার, অনুভব করার এবং তার ভেতরের গল্প প্রকাশ করার এক যাত্রা। ভূমিকা: প্রশ্নের ভেতর থেকে মানুষ খোঁজার দীর্ঘ যাত্রা জীবনের দীর্ঘ পথচলায় আমি বুঝেছি—সাক্ষাৎকার কেবল প্রশ্ন ও উত্তরের বিন্যাস নয়; এটি মানুষের অন্তর্গত জগতে প্রবেশের এক সূক্ষ্ম দরজা। একজন লেখক, সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে আমার দিনগুলো কেটেছে মানুষের গল্প শুনে, তাদের নীরবতা বুঝে, তাদের অজানা অনুভূতিকে ভাষা দেওয়ার প্রয়াসে। পেন ইন্টারন্যাশনালের একজন সদস্য হিসেবে বিশ্বের নানা প্রান্তে গিয়ে বহু গুণী মানুষের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়েছে। কারো জীবনে সংগ্রাম, কারো জীবনে সাফল্যের দীপ্তি, কারো ভেতরে নিঃশব্দ বিষণ্ণতা—এসবই আমার লেখার উপাদান হয়েছে। কিন্তু কিছু মুহূর্ত থাকে—যেগুলো শুধু পেশাগত দায়িত্বে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরে গেঁথে যায়। আবারও বলছি - ২০১২ সালের সেই বিকেলটি—ঠিক তেমনই এক অভিজ্ঞতা।
ভিআইপি হোটেল হুন্দায়ে আয়োজিত পেন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন। চারপাশে এক আন্তর্জাতিক আবহ—ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন সংস্কৃতি, তবুও এক অদৃশ্য বন্ধনে আবদ্ধ সবাই। সেই ভিড়ের মধ্যেই হঠাৎ আমার দৃষ্টি থেমে গেল এক নারীর ওপর।
তার নাম— আরিশা তাসনীম কুরিয়ার তা নামটি যেন উচ্চারণেই এক সুর, এক আলো, এক অনির্বচনীয় আকর্ষণ।
প্রথম দেখা: লবির আলোয় এক জীবন্ত প্রতিমা হোটেলের লবি তখন ঝাড়বাতির সোনালি আলোয় ভাসছে। মার্বেলের মেঝেতে সেই আলো প্রতিফলিত হয়ে তৈরি করেছে এক নীরব জ্যোৎস্না। বিদেশি অতিথিদের মৃদু কোলাহল, কফির গন্ধ, আর তার মাঝেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি—কুরিয়ার তা। প্রথম দেখাতেই মনে হয়েছিল—তিনি যেন কোনো শিল্পীর নিখুঁত সৃষ্টিকর্ম। তার হাসি—ভোরের সূর্যের মতো কোমল। তার চোখ—গভীর, বুদ্ধিদীপ্ত, প্রশ্নে ভরা। তার কেশপাশ—সোনালি ঢেউ, যা বাতাসে দুলে এক অদ্ভুত মায়া সৃষ্টি করছে। আমি এগিয়ে গিয়ে পরিচয় দিলাম। তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনলেন, তারপর মৃদু হেসে বললেন
“আপনি প্রশ্ন করবেন, আমি গল্প বলব—তবে এই আলাপ যেন শুধু তথ্য না হয়, যেন এটি হয়ে ওঠে অনুভূতির ভ্রমণ।”
এই একটি বাক্যেই বুঝলাম—আজকের দিনটি অন্যরকম হবে। সাক্ষাৎকারের শুরু: আনুষ্ঠানিকতার সীমানা পেরিয়ে
আমরা লবির এক নিরিবিলি কোণে বসলাম। কফির কাপ এল—ধোঁয়া উঠছে ধীরে ধীরে। আমি রেকর্ডার চালু করলাম, কিন্তু অনুভব করছিলাম—এই মুহূর্তকে কোনো যন্ত্রে ধরা সম্ভব নয়। আমি প্রশ্ন করলাম— “আপনার জীবনের শুরুটা কেমন ছিল?”
তিনি কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন, যেন স্মৃতির ভেতরে ডুব দিচ্ছেন। “আমার শুরুটা খুব সাধারণ,”—তিনি বললেন— “কিন্তু সেই সাধারণের ভেতরেই ছিল অসাধারণ হওয়ার স্বপ্ন।” তার কণ্ঠে ছিল এক ধরনের স্থিরতা—যা শুধু অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই আসে।
মডেলিং: আয়নায় নয়, মানুষের চোখে নিজেকে দেখা “প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অনুভূতি?”—আমি জানতে চাইলাম।
তিনি হেসে বললেন— “মনে হয়েছিল, আমি নিজেকে প্রথমবারের মতো দেখছি—কিন্তু আয়নায় নয়, মানুষের চোখে।”
এই কথাটি যেন পুরো মডেলিং জগতের এক গভীর ব্যাখ্যা। “মডেলিং আমাকে শিখিয়েছে—নিজেকে গ্রহণ করতে। নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাসই আসল সৌন্দর্য,”—তিনি বললেন। অভিনয়: নিজের ভেতরের বহু সত্তা “অভিনয়?” তিনি একটু ঝুঁকে এলেন, চোখে তখন এক অন্য আলো— “অভিনয় আমাকে শিখিয়েছে—আমি একা নই। আমার ভেতরে অনেক মানুষ বাস করে।” তিনি বললেন— “প্রতিটি চরিত্র আমাকে নতুন করে বাঁচতে শেখায়, নতুন করে কাঁদতে শেখায়, নতুন করে ভালোবাসতে শেখায়।” তার এই কথাগুলো শুধু একজন অভিনেত্রীর নয়—একজন অনুভূতিপ্রবণ মানুষের স্বীকারোক্তি। এক স্নিগ্ধ হিরণ্ময় প্রতিমা: সৌন্দর্যের অন্তর্গত ভাষা তার দিকে তাকালে মনে হয়—তিনি কোনো কৃত্রিম সাজে আবদ্ধ নন। তার হাসি—গোধূলির আলো। তার বাচনভঙ্গি—নরম, স্পষ্ট, আধুনিক অথচ গভীর। তার আচরণ—আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু বিনয়ী। তিনি যেন আধুনিকতার ভেতর এক চিরন্তন সৌন্দর্যের প্রতীক। আড্ডা: কথার ভেতর জীবনের স্রোত সাক্ষাৎকার তখন আড্ডায় রূপ নিয়েছে।
আমি জিজ্ঞেস করলাম— “আপনার জীবনে ভালোবাসা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?” তিনি কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। “ভালোবাসা ছাড়া মানুষ অসম্পূর্ণ,”—তিনি বললেন— “কিন্তু ভালোবাসা সবসময় সুখ দেয় না, কখনো এটি সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়ে আসে।”
প্রেম: ভাঙা আর গড়ার গল্প “আপনি কি প্রেমে পড়েছেন?” তিনি মৃদু হেসে বললেন— “প্রেমে না পড়লে মানুষ পূর্ণ হয় না।”
তার চোখে তখন এক অদ্ভুত কোমলতা। “আমি ভালোবেসেছি, হারিয়েছি, আবার নিজেকে খুঁজে পেয়েছি। প্রেম আমাকে ভেঙেছে, আবার গড়েছে।” সুর: নীরব অনুভূতির ভাষা তিনি বললেন— “গান শুনবেন?” একটি পুরনো সুর বাজতে লাগল।
সেই সুর যেন আমাদের কথার বাইরে এক নতুন জগত তৈরি করল। “গান এমন কিছু বলে, যা শব্দ পারে না,”—তিনি বললেন।
কফি, বিয়ার ও এক বাস্তব মানুষ কফির কাপ বদলে গেল। তিনি বিয়ারের গ্লাস তুললেন—স্বাভাবিক, নির্ভার। আমি বুঝলাম—তিনি কোনো চরিত্রে নেই, তিনি নিজেই। “আপনি কি সবসময় এমন?” তিনি বললেন— “আমি চেষ্টা করি—নিজের কাছে সত্য থাকতে।”খ্যাতি: আলোয়ের ভেতর ছায়া “খ্যাতি আপনাকে কী দিয়েছে?” তিনি বললেন— “সব দিয়েছে—আবার অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে।” তার চোখে তখন এক গভীরতা। “মানুষ আমাকে দেখে, কিন্তু খুব কম মানুষ আমাকে বোঝে।” একাকিত্ব: নীরবতার গভীরতা “আপনি কি একা অনুভব করেন?” তিনি ধীরে বললেন— “হ্যাঁ। কখনো কখনো খুব একা।” “আলো যত বেশি, ছায়াও তত গভীর হয়।” চার ঘণ্টা: সময়ের সীমা ভেঙে যাওয়া আমরা কথা বলছিলাম— একটানা, নিরবচ্ছিন্নভাবে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত। চার ঘণ্টা— কিন্তু মনে হচ্ছিল, যেন এক জীবনের সমান সময়। বিদায়: কিছু কথা না বলেই রয়ে যায় শেষে তিনি বললেন— “আজকের দিনটা মনে থাকবে।” আমি বললাম— “আমারও।” কিন্তু সেই কথার ভেতর ছিল অগণিত অনুভূতি। উপসংহার: এক বিকেলের অমরতা আজ এত বছর পরও মনে হয়— সেই বিকেলটি শুধু একটি সাক্ষাৎকার ছিল না। এটি ছিল— এক মানুষকে জানা, এক অনুভূতিকে ছোঁয়া, এক সময়কে নিজের করে নেওয়া। আরিশা তাসনীম কুরিয়ার তা— একটি নাম নয়, একটি আলো, একটি স্মৃতি, একটি অনন্ত অনুভূতি। শেষকথা পেন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশনের সেই চার ঘণ্টা আমার লেখক জীবনের এক অনন্য অধ্যায় হয়ে থাকবে। যেখানে আমি শুধু প্রশ্ন করিনি— আমি অনুভব করেছি,
আমি উপলব্ধি করেছি— মানুষ আসলে কত গভীর, কত সুন্দর, আর কতটা একা।