শিরোনাম
চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা চট্টগ্রামের পরিকল্পিত উন্নয়নে নাগরিক ফোরাম কাজ করে যাবে-চট্টগ্রামে লায়ন সাইফুল ইসলাম ও লায়ন জাহাঙ্গীর আলমের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিতবাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে এক দূরদর্শী নেতৃত্ব: বিপিসি চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামানের নেতৃত্বে অগ্রযাত্রার প্রেরণাটুঙ্গিপাড়ায় গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নির্মিত তোরণে আগুনচট্টগ্রামে দলীয় ক্লাব ভাঙচুর নিয়ে নতুন বিতর্ক ‘বাদী পক্ষকে হয়রানি করতেই পরিকল্পিত নাটক’—অভিযোগ স্থানীয়দেরজরুরি নিখোঁজ সংবাদ: ১২ বছরের শিশু মোহাম্মদ তামিমকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনাএলএনজি সরবরাহ কমায় দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটবাংলাদেশে তৈরি হোন্ডা এনএক্স২০০ যাচ্ছে মেক্সিকোতেবর্ষার শেষদিকেও নৌকা তৈরির ব্যস্ততাপুরো আগস্টের আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানাল বিডব্লিউওটি

― Advertisement ―

চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা চট্টগ্রামের পরিকল্পিত উন্নয়নে নাগরিক ফোরাম কাজ করে যাবে-

চট্টগ্রাম, ২ আগস্ট ২০২৬: চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের একাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের রূপকার...

ইসলামী ব্যাংকের বৈষম্যমূলক কর্মী ছাঁটাই: ওমান প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে রবিউল হোসেনের খোলা চিঠি

Homeসম্পাদকীয়ইসলামী ব্যাংকের বৈষম্যমূলক কর্মী ছাঁটাই: ওমান প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে রবিউল হোসেনের...

-মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস স্যারের প্রতি–
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়,
সশ্রদ্ধ সালাম গ্রহণ করুন।
আমি রবিউল হোসেন, একজন আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী, ওমান প্রবাসী বাংলাদেশদের প্রতিনিধি এবং বোয়ালখালীর সন্তান। একই সঙ্গে আমি সাদা কালো মাল্টিমিডিয়ার চেয়ারম্যান ও চট্টল চিত্র পত্রিকা এবং কথা টিভির উদ্যোক্তা।
আজ আমি আমার প্রবাসী ভাই-বোনদের পক্ষ থেকে গভীর দুঃখ, ক্ষোভ ও অসহায়তার কথা আপনাকে জানাতে বাধ্য হচ্ছি।
সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে “মূল্যায়ন পরীক্ষা” নামে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৫০০ জন কর্মীকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এটি কোনো স্বচ্ছ দক্ষতা যাচাই ছিল না, বরং একটি পূর্বপরিকল্পিত ছাঁটাই অভিযান। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো—এই ছাঁটাইয়ের বড় অংশের শিকার হয়েছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মীরা।
৭-৮ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করা বহু অভিজ্ঞ কর্মীকেও বিনা কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। হঠাৎ তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে টার্মিনেশন লেটার। কোনো সতর্কবার্তা, কোনো প্রশিক্ষণের সুযোগ, এমনকি কোনো মানবিক আলোচনার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। অনেক পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য চাকরি হারিয়ে আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
এই ঘটনায় চট্টগ্রামের কর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন, মানববন্ধন করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের অসহায়তার চিত্র প্রকাশ করেছেন। শ্রম আইন বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে বলেছেন—এমন বৃহৎ পরিসরে ছাঁটাই হলে তা অবশ্যই আইনি কাঠামো ও যৌক্তিক কারণে হতে হবে। অথচ ইসলামী ব্যাংকের এই প্রক্রিয়ায় কোনো স্বচ্ছতা নেই, যা শ্রম আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
মাননীয় মহোদয়, আমরা যারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করি তাদের মধ্যে চট্টগ্রামের প্রবাসীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই চট্টগ্রামের প্রবাসীরাই ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। বিশেষ করে আমরা ওমান প্রবাসীরা প্রতিবছর কয়েক হাজার কোটি টাকা ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে পাঠাই। আমাদের এই বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে, পরিবারগুলোর জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম করছে। কিন্তু আজ যদি ইসলামী ব্যাংক আমাদের অঞ্চলকে বৈষম্যের শিকার করে, আমাদের সন্তানদের চাকরি কেড়ে নেয়, তবে প্রশ্ন থেকে যায়—আমরা কেন এই ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণ চালিয়ে যাব? যদি বৈষম্যমূলক এই আচরণ অব্যাহত থাকে, তবে আমরা একযোগে ঘোষণা করতে বাধ্য হবো—চট্টগ্রামের প্রবাসীরা আর ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাবে না। আমরা বিকল্প ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করবো, প্রয়োজনে সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলবো।
মাননীয় স্যার, প্রশ্ন জাগে—ইসলামী ব্যাংক যদি চট্টগ্রামে ব্যবসা করতে পারে, তবে চট্টগ্রামের মানুষের চাকরি কেড়ে নেওয়া হবে কেন? শুধুই মুনাফার জন্য চট্টগ্রাম ব্যবহার করা, অথচ চট্টগ্রামের মানুষকে কর্মসংস্থানে বৈষম্যের শিকার করা—এটি কি ন্যায্য?
আমরা প্রবাসীের দাবি:
১. ইসলামী ব্যাংকসহ সব ব্যাংক থেকে অন্যায়ভাবে ছাঁটাই হওয়া চট্টগ্রামের কর্মীদের অবিলম্বে পুনর্বহাল নিশ্চিত করা।
২. এই ছাঁটাই প্রক্রিয়ার ওপর একটি স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন করা।
৩. ভবিষ্যতে ইসলামী ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেন কোনো অঞ্চলের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি না নেয়, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
৪. বাংলাদেশ ব্যাংক ও শ্রম মন্ত্রণালয়কে সক্রিয় করে শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মীদের অধিকার রক্ষা করা।
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, আপনি শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো বিশ্বের কাছে মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়পরায়ণতার প্রতীক। আর আপনি চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান বলেই আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—আপনার দূরদর্শিতা ও দৃঢ় অবস্থানই এই অন্যায়ের অবসান ঘটাতে পারে।
চট্টগ্রামের মানুষের মনে আজ একটি প্রশ্ন—যদি ইসলামী ব্যাংক আমাদের সন্তানদের এভাবে চাকরি থেকে বঞ্চিত করে, তবে আমরা কি এ ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখবো? চট্টগ্রামের মানুষের উপর বৈষম্য চলতে থাকলে বাণিজ্যিক ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও ভাবতে হচ্ছে।
মাননীয় স্যার, এই খোলা চিঠি কোনো প্রতিবাদ মাত্র নয়—এটি ন্যায়বিচারের আহ্বান। আপনার সদয় হস্তক্ষেপ ও ন্যায়সংগত পদক্ষেপই হতে পারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আশা ও চট্টগ্রামের মানুষের মুক্তির পথ।
সশ্রদ্ধ শুভেচ্ছান্তে,
রবিউল হোসেন
ওমান প্রবাসী আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী,
চেয়ারম্যান – সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া লিঃ
উদ্যোক্তা – চট্টল চিত্র পত্রিকা ও কথা টিভি, ইংরেজি পত্রিকা- Daily Tourist,