
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কালুরঘাট সেতুতে সদ্য সংঘটিত ট্রেন দুর্ঘটনায় সিএনজি অটোরিকশা চালক মোহাম্মদ তৌহিদ গুরুতরভাবে আহত হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তার মেরুদণ্ড, হাত ও পায়ে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। অথচ এই অমানবিক পরিস্থিতিতেও তার চিকিৎসার জন্য পরিবারের কেউ পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে নিদারুণ অসহায়তায় দিন পার করছেন।
তৌহিদের বাড়ি চট্টগ্রামের বাহাত্তরপুল এলাকায়। বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল সে। অভিভাবক হিসেবে আছেন কেবলমাত্র তার তিন বোন, যাদের কারো পক্ষেই চিকিৎসার বিপুল খরচ বহন করা সম্ভব নয়। অথচ এই দুর্ঘটনা ঘটেছে একেবারে রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা এবং গাফিলতির কারণে।
চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম দৃঢ়ভাবে মনে করে, কালুরঘাট সেতু দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যান চলাচল হলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সংস্কার কিংবা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং একজন দরিদ্র অটো চালক মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি রেলওয়ের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার ফসল।
এই প্রেক্ষাপটে, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন ও মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন এক যুক্ত বিবৃতিতে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং তৌহিদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে বহন করার জোর দাবি জানান। একইসঙ্গে তারা বলেন, যদি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই দায় এড়িয়ে যায়, তাহলে নাগরিক সমাজ চুপ করে থাকবে না। তারা দেশের সর্বত্র এই অবহেলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলবে।
আমরা মনে করি, একজন গরিব সিএনজি চালকের জীবন কোনভাবেই অবহেলিত অবকাঠামোর বলি হতে পারে না। রাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব হলো তার চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ করা।
চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম সব সচেতন নাগরিক ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানায়, যাতে এই ঘটনাটি ধামাচাপা না পড়ে এবং মোহাম্মদ তৌহিদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।
রেলওয়ের অবহেলায় যদি একজন নাগরিক চিরতরে পঙ্গু হয়ে যায়, তাহলে এর দায় রেলওয়ের — এর কোনও ব্যতিক্রম হতে পারে না।