নিউজ ডেস্কঃ
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জুয়া, কিশোর গ্যাং ও মব সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, নগরীর কোথাও কোনো অপরাধী চক্রের স্থান নেই—আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সিএমপি থাকবে সর্বোচ্চ কঠোরতায় এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অবিচল। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে দামপাড়াস্থ সিএমপি কমিশনার কার্যালয়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশ কমিশনার বলেন, “চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নগরী। এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি একটি সম্মিলিত প্রয়াস। আমরা চাই একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে, যেখানে সাধারণ মানুষ নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করতে পারবে।” তিনি আরও বলেন, “চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, জুয়া কিংবা কিশোর গ্যাং—এসব অপরাধ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। এসবের বিরুদ্ধে সিএমপি কোনো ধরনের আপস করবে না। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে কমিশনার কঠোর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “সিএমপির প্রতিটি সদস্যকে দায়িত্বশীল, পেশাদার এবং সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি বা অসদাচরণের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।” সভায় তিনি সাংবাদিকদের ভূমিকাকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। অপরাধ দমন, সচেতনতা সৃষ্টি এবং সত্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। আমরা চাই, পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হোক।” সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় পুলিশ কমিশনারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তারা বলেন, ইতোমধ্যে নগরীতে সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড দমনে কমিশনারের দৃশ্যমান পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাউদ্দিন মো. রেজা এবং কার্যকরী সদস্য মোয়াজ্জেমুল হক সভায় প্রেস ক্লাবের সার্বিক কার্যক্রম, সাংবাদিকদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ, নিরাপত্তা এবং তথ্যপ্রাপ্তির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তারা সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ উন্নয়নে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজে সহ-সভাপতি শহীদ উল আলম, সাবেক সহ-সভাপতি মোস্তাক আহমদ, সিইউজে সাবেক সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, সিইউজে সহ-সভাপতি সাইদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, যুগ্ম সম্পাদক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন হায়দার, ক্রীড়া সম্পাদক সরওয়ারুল আলম সোহেল, কার্যকরী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনজুর আলম মঞ্জু সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকবৃন্দ। সভাটি ছিল আন্তরিক ও ফলপ্রসূ। এতে পুলিশ ও গণমাধ্যমের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, তথ্য আদান-প্রদান সহজতর করা এবং নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। শেষে চট্টগ্রাম মহানগরীর শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে সিএমপি কমিশনার বলেন, “নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে আমরা অবশ্যই একটি নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।” (বার্তা প্রেরক: খোরশেদুল আলম শামীম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব)