
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে দৈনিক সংবাদ সারাবেলার মাল্টিমিডিয়া চিফ জাহিদুল ইসলামের ওপর পরিকল্পিত সশস্ত্র হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জাহিদুল ইসলাম নিজে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাজ শেষ করে বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে ১০ থেকে ১৫ জন মুখোশধারী ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। তারা তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগে থাকা নগদ অর্থ, গলার রূপার চেইন এবং এনআইডি কার্ড ছিনিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিলে হামলাকারীরা লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে মারধর শুরু করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। তারা তার মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করে।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হামলার চেষ্টা। হামলাকারীরা সবাই মুখোশধারী ছিল এবং অধিকাংশই স্থানীয় নয়। তারা আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। এছাড়া তারা আমার চাচার দুটি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে। তারা আমার পরিবারের অবস্থান সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পরে আমাকে ধাক্কা দিয়ে আমার চাচার বাসায় রেখে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়।
জাহিদুল ইসলাম চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল ও যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। নির্বাচনের আগে ও পরে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে।
এই বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া বিষয়টির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্খিত এবং অপ্রত্যাশিত। তদন্তপূর্বক এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবী করছি।
ঘটনার বিষয়ে দক্ষিণ জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে ও সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন।
হামলার বিষয়ে চন্দনাইশ থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

