দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হতে পারে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই গেজেট প্রকাশ হতে পারে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবিত পে-স্কেলে মূল বেতন বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা পুনর্নির্ধারণ এবং পেনশন সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা খাতে প্রায় ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বর্তমানে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা। প্রস্তাব অনুযায়ী এতে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে তা দাঁড়াবে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায়। একইভাবে বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্যও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব আলোচনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীদের ওপর। তাই নতুন পে-স্কেলে এ শ্রেণির কর্মীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন গ্রেডে কর্মরতদের ক্ষেত্রে বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত করে মোট প্রাপ্য অর্থ ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। নতুন পে-স্কেলের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের জন্যও বাড়তি সুবিধার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী— মাসিক ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পান এমন ব্যক্তিদের পেনশন ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে পেনশন সুবিধা শতভাগের বেশি বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে দেওয়া ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতাকে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করার পরিকল্পনায় অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই নতুন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বেতন বৃদ্ধির চূড়ান্ত হার, গ্রেডভিত্তিক সুবিধা এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানতে সরকারি গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।