
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ইকবাল হুসাইন খান। তিনি জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স শিগগিরই করাচি রুটে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ফরেন সার্ভিসেস অ্যাকাডেমিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন। পরদিন (৪ ডিসেম্বর) জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রকাশিত হয়। হাইকমিশনার বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি আকাশযোগ পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভারতীয় উড়োজাহাজ যেমন বাংলাদেশ আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারে, তেমনি বিমান বাংলাদেশও ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার করে পাকিস্তানে উড়তে পারবে। সূত্র জানিয়েছে, ভারতের চলমান আকাশপথ বিধিনিষেধের কারণে পাকিস্তানি এয়ারলাইন্সগুলো আপাতত ঢাকা-পাকিস্তান রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে না। এর আগে ইকবাল হুসাইন খান প্রশিক্ষণরত কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনায় আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য ও রাজনীতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও সীমিত প্রবেশাধিকার, সীমান্তবাধা ও আঞ্চলিক রাজনীতি উন্নয়নকে ব্যাহত করছে। তার মতে, সরাসরি যোগাযোগের অভাবে পাকিস্তান-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্প্রসারণে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে রেলসংযোগ থাকায় বাণিজ্য সহজ ছিল, কিন্তু এখন পাকিস্তানের খেজুর পর্যন্ত আঞ্চলিক বাজারে পৌঁছাতে দুবাই ঘুরে আসতে হয়। তিনি আরও বলেন, একসময় কাবুল, পেশোয়ার, ঢাকা ও মিয়ানমার একই বাণিজ্যপথে যুক্ত ছিল, কিন্তু বর্তমানে দুর্বল ভৌগোলিক সংযোগ অঞ্চলজুড়ে উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। দক্ষিণ এশিয়ার নতুন প্রজন্মকে তিনি আরও সচেতন, উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও পরিবর্তনমুখী বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্ব আসার সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো বাধা দূর হবে, আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।