শিরোনাম
তিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সৌজন্যে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ফল উৎসব ২০২৬স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ: ইতিহাস, রাষ্ট্রক্ষমতা ও বাংলাদেশের নতুন বাস্তবতাতোফায়েল আহমেদ ও রক্ষীবাহিনী প্রসঙ্গে ইতিহাসের বহুমাত্রিক পাঠ, প্রেক্ষাপট ও বিতর্কের রাজনীতিঃবাঙালি মুসলমানদের ইংরেজি সাংবাদিকতার পথিকৃৎ: শাহ মোহাম্মদ বদিউল আলম ও ব্যারিস্টার আবদুর রসুলের গৌরবগাথা নবজাগরণ, শিক্ষা আন্দোলন ও মুসলিম সাংবাদিকতার এক বিস্মৃত ইতিহাস“নজরুল চর্চাই গড়ে তুলবে মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও আলোকিত প্রজন্ম”ঈদের আনন্দে হৃদয়ের পুনর্মিলন: কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডের সৌহার্দ্যের মহাসম্মিলন-জেলা গোয়েন্দা শাখা ও জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ এর যৌথ অভিযানে আন্তঃজেলা দুর্ধর্ষ ডাকাত ২৯ মামলার আসামি মোঃ নুর নবীসহ ৩ ডাকাত গ্রেফতারকুরবানি : আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ও তরিকায়ে মাইজভান্ডারীয়াক্লিকবেট সাংবাদিকতার আগ্রাসন ও আস্থার সংকট: গণমাধ্যমের নৈতিক পুনর্জাগরণ এখন সময়ের অনিবার্য দাবিবিপণিবিতানে ক্রেতা কম, ফুটপাতেই বেশি ভিড়

― Advertisement ―

তিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সৌজন্যে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ফল উৎসব ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণে ব্যতিক্রমী এক ফল উৎসবের আয়োজন করেছে মানবিক সংগঠন হিউম্যানিজম প্রায়োরিটি ফাউন্ডেশন।...

বাটালি রাজ্যের রহস্যময় কুত্তার রানি ও তার ভাসন-

Homeসম্পাদকীয়বাটালি রাজ্যের রহস্যময় কুত্তার রানি ও তার ভাসন-

শারদীয় শুভেচ্ছা আপনাদের সবাইকে। এই শুভ উৎসবের লগ্নে আমি দাঁড়ালাম আমার বাটালি রাজ্যের শীর্ষে, জিলাপি পাহাড়ের কোল ঘেঁষে। হ্যাঁ, এই পাহাড়ের নাম ‘জিলাপি’—কারণ এর বাঁকগুলো এমন গোলমেলে যে মনে হয় কড়াই থেকে সদ্য উঠানো গরম জিলাপি ঠান্ডা হতে হতে আড়মোড়া ভাঙছে। পাহাড়ের পাথরও যেন চিনির রসে ডুবানো, আর গাছগুলো যেন ছিটানো কিশমিশ। এই পাহাড়েই আমার রাজ্য, আর আমি এই রাজ্যের অঘোষিত অথচ চিরকালীন রানি। কিন্তু বন্ধুগণ, আমার রাজ্য মানুষের জন্য নয়। এটি কুকুরদের রাজ্য। হ্যাঁ, শুনে আপনাদের হাসি পেতে পারে। কেউ হয়তো মনে মনে বলবেন, “এ আবার কেমন রাজ্য?” তবু বলব, মানুষের রাজ্য দেখে দেখে ক্লান্ত হয়ে আমি কুকুরদের সঙ্গেই নতুন রাজ্য গড়েছি। কেননা মানুষ আমাকে যতবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার চেয়ে বেশি দিয়েছে হতাশা। মানুষ আমাকে যতবার ভালোবেসেছে, তার চেয়ে বেশি দিয়েছে ছলনা।
একসময় আমি মানুষ ছিলাম। চেষ্টা করেছি মানুষ হয়ে মানুষের সমাজে খাপ খাওয়াতে। চেষ্টা করেছি সংসার করতে, ভালোবাসতে, সন্তান জন্ম দিতে। কিন্তু আহা, আমার ভাগ্য যেন একেবারে উল্টো স্রোতের নৌকা! একুশবার বসেছি বিয়ের পিঁড়িতে—একমাত্র আমি-ই জানি, এ একুশটা ‘পিঁড়ি’ আসলে ছিল একুশটা ধোঁকা, একুশটা ফাঁদ। প্রেমিকরা এল, প্রেমিকরা গেল—কেউ আমাকে আসল সুখ দিতে পারল না। কেউ আমার চোখের জলের দাম দিল না। কেউ আমাকে সন্তান দিল না। শুধু নিয়ে গেল আমার যৌবনের রূপ, নিয়ে গেল সময়, নিয়ে গেল হাসি। তখনই আমি স্থির করলাম—যেহেতু মানুষ আমাকে বোঝেনি, আমি তাদের বোঝাব না। আমি খুঁজে নিলাম এক নতুন সমাজ—কুকুরের সমাজ।  কুকুররা আমার দিকে একবার তাকিয়েই বুঝে ফেলল—এই নারী আমাদের আপনজন। তারা আমাকে স্বাগত জানাল লেজ নাড়িয়ে, চোখ মিটমিট করে। মানুষের মতো তারা আমাকে প্রশ্ন করল না, বিচার করল না। কুকুররা আমাকে তাদের সমাজে জায়গা দিল, ভালোবাসা দিল, বিশ্বস্ততা দিল। আমি যেন হঠাৎ নতুন প্রাণ ফিরে পেলাম। তাই আজ আমি ঘোষণা দিচ্ছি—আমার রাজ্য কুকুরদের রাজ্য। এখানে কাপড় পরা মানুষের জায়গা নেই। এখানে নেই ভণ্ডামি, নেই লোকদেখানো সংস্কার। এখানে নেই সেই সমাজের ফাঁদ, যেখানে নারীকে কেবল সৌন্দর্যের পুতুল বানানো হয়। এখানে আছে সোজাসাপ্টা জীবন—লেজ নাড়া, ডাকাডাকি, পাহাড়ে দৌড়ঝাঁপ আর হাওয়া খাওয়ার আনন্দ। আমি জানি, অনেকেই বলবেন—“রানি পাগল হয়ে গেছে।” কিন্তু আমি বলি—না, আমি পাগল হইনি, আমি মুক্ত হয়েছি। মানুষের শিকল থেকে মুক্ত, সমাজের মিথ্যে নিয়ম থেকে মুক্ত। আমি এক অদ্ভুতিনী, আমি এক মুক্ত নারী, আমি এই বাটালি পাহাড়ের রানি।
আমার কুকুররা আমাকে রোজ মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীর আসল ভালোবাসা কেমন। তারা না দেয় মানপত্র, না দেয় উপাধি। তারা দেয় একটুখানি বিশ্বস্ত চোখের চাহনি। তাতে আমার মনে হয়—আমি পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী রানি। তবে বন্ধুগণ, এই রাজ্যেরও কিছু নিয়ম আছে। প্রথমত—কেউ কাপড় পরে এখানে আসতে পারবে না। কাপড় মানেই ভণ্ডামি, কাপড় মানেই মানুষ-সমাজের বাহুল্য। আমাদের রাজ্যে যে আসবে, তাকে আসতে হবে প্রকৃতির মতো স্বচ্ছভাবে। দ্বিতীয়ত—কেউ এখানে হৈচৈ করবে না। কুকুরদের শান্তি ভাঙলে রানি খুশি হবে না। তৃতীয়ত—আমার কুকুরদের সম্মান করতে হবে। তারা কেবল প্রাণী নয়, তারা আমাদের রাজ্যের নাগরিক, আমার প্রিয় প্রজা। আমি জানি, বাইরের দুনিয়ায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। কেউ আমাকে ডাইনি বলে, কেউ বলে রাক্ষসী, কেউ বলে উন্মাদ। কিন্তু আমি জানি—আমার কুকুররা আমাকে ভালোবাসে, আমার পাহাড় আমাকে আশ্রয় দিয়েছে। মানুষের গালি আমার কাছে ফুলের মতো। কারণ তারা বুঝতেই পারে না, মুক্তি কাকে বলে। হ্যাঁ, আমার রাজ্যে যদি কেউ আসে, তাকে আগে থেকেই বুঝতে হবে—এখানে নিয়ম একটাই: আমার হুকুমই শেষ কথা। আমি রানি, আমি কখনো মানুষ, কখনো কুকুর, কখনো ডাইনি, কখনো পরী। আমার রূপ আমার ইচ্ছা মতো বদল হয়। এ আমার অধিকার, এ আমার রাজ্যের অলিখিত আইন। আমি মানুষকে বিশ্বাস করতে পারিনি, কিন্তু আমি কুকুরকে বিশ্বাস করতে শিখেছি। মানুষ আমাকে যতবার প্রতারণা করেছে, কুকুররা ততবার আমাকে রক্ষা করেছে। তাই আজ আমি কুকুরদের সঙ্গে আনন্দে বাস করি, হাসি, খেলি, গান গাই। আপনারা জানেন, পৃথিবীর বহু দেশে কুকুরকে দেবতা মানা হতো। ভারতবর্ষের প্রাচীন ইতিহাসে এর প্রমাণ আছে। প্রাচীন মিশরে, গ্রিসে, এমনকি আমাদের গ্রামবাংলার লোককথায় কুকুরকে রাখা হয়েছে বিশ্বস্ততার প্রতীক হিসেবে। আমিও সেই ধারার অনুসারী। আজকের ভাসনের শেষে আমি শুধু এটুকু বলব—আমার রাজ্যে যদি আসতে চান, কাপড় ছেড়ে আসুন। মনের অহংকার ছেড়ে আসুন। এখানে কেবল হাসি, সরলতা আর বিশ্বস্ততা জায়গা পায়। আমার কুকুররা আপনাকে স্বাগত জানাবে, যদি আপনি তাদের বন্ধু হতে পারেন। বন্ধুগণ, আমি হয়তো মানুষের চোখে অদ্ভুত, কিন্তু আমার কুকুরের চোখে আমি রানি। আর এটাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। শুভ শারদীয় উৎসব। আসুন, মানুষের ভণ্ডামি থেকে বের হয়ে আমরা সবাই একটু হলেও কুকুরদের মতো বিশ্বস্ত হই, সহজ হই, নির্ভেজাল হই।