নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে অ্যাডভোকেট এম লোকমান শাহের নাম। ছাত্ররাজনীতি থেকে আইন পেশা—দীর্ঘ সময়ের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, একাধিক গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে উঠে আসা এই নেতা এখন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে ‘পরীক্ষিত সংগঠক’ হিসেবে পরিচিত। দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছেন, সাংগঠনিক পুনর্গঠনের এই সময়ে তাঁর মতো অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। ছাত্ররাজনীতি থেকে সংগঠনের মূলধারায় আনোয়ারা উপজেলার গুয়াপঞ্চক গ্রামে জন্ম নেওয়া লোকমান শাহ শিক্ষাজীবনেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন দিয়ে তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক পথচলা শুরু। পরে তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সদস্য, দপ্তর সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দলীয় সূত্র বলছে, মাঠভিত্তিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, তৃণমূলকে সক্রিয় করা এবং সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে তিনি ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর বহুদলীয় গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় প্রভাবিত। পাশাপাশি খালেদা জিয়া–এর আপসহীন অবস্থান এবং তারেক রহমান–এর সাংগঠনিক কৌশলের প্রতি তাঁর আনুগত্যের কথা ঘনিষ্ঠজনেরা উল্লেখ করেন। গ্রেপ্তার, মামলা ও রাজনৈতিক অধ্যায় ২০১৩ সালের ১৮ মার্চ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি কার্যালয় থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সে সময় তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পরে ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর ঢাকায় সমাবেশে যাওয়ার পথে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে পুনরায় আটক হন। তাঁর সমর্থকদের দাবি, এসব মামলা ও গ্রেপ্তার ছিল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। লোকমান শাহ নিজেও বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, “রাজনীতি আমার কাছে পদ বা ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয় নয়; এটি আদর্শ ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্ন।” আইন পেশায় অবস্থান রাজনীতির পাশাপাশি তিনি আইন পেশায় সক্রিয়। বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, নিয়মিত উপস্থিতি ও প্রস্তুতিমূলক যুক্তিতর্কে তিনি পরিচিত মুখ।
মক্কেলদের কয়েকজন জানিয়েছেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের আইনি সহায়তায়ও তিনি ভূমিকা রাখেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “আইনের শাসন শক্তিশালী না হলে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত হয় না।” নির্বাচনী রাজনীতিতে শৃঙ্খলার বার্তা
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে প্রার্থীকে সমর্থন করেন তিনি। ২০২৬ সালেও একই অবস্থান নেন। দলীয় নেতারা বলছেন, এতে তাঁর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও দলীয় আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।
তৃণমূলের প্রত্যাশা চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আইনজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতে লোকমান শাহকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বিবেচনা করা যেতে পারে। তাঁদের কেউ কেউ জেলা পরিষদ, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা আইনি প্রশাসনের উচ্চপদে তাঁর সম্পৃক্ততার সম্ভাবনার কথা বলছেন। তবে দলীয় শীর্ষ মহল এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক শক্তি, মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা এবং পেশাগত দক্ষতার সমন্বয় থাকলে নেতৃত্বের পরিসর বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। ছাত্ররাজনীতি থেকে আদালতের অঙ্গন—অ্যাডভোকেট এম লোকমান শাহের পথচলা এখন চট্টগ্রামের রাজনীতিতে আলোচিত অধ্যায়। তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে ‘আদর্শিক সৈনিক’ হিসেবে দেখেন; সমালোচকেরা রাজনৈতিক বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে তিনি এখন একটি আলোচিত নাম। ভবিষ্যতে তাঁর ভূমিকা কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ধারণ করবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক সময়ের গতিপ্রকৃতি