

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) কর্তৃক বাস্তবায়িত ৬টি জাহাজ ক্রয় প্রকল্পের জন্য গৃহীত ঋণের কিস্তি পরিশোধ বাবদ এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ঘাটতি সমন্বয় থেকে সরকারের পাওনা বাবদ মোট ২০৩.৪৭ কোটি টাকা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিএসসি’র জন্য জি-টু-জি ভিত্তিতে ৬টি জাহাজ ক্রয়/সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ সরকার (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) ও চীন সরকার (চায়না এক্সিম ব্যাংক)-এর মধ্যে ১৪ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে একটি ঋণচুক্তি (Loan Agreement) স্বাক্ষরিত হয়। উক্ত ঋণের মূল অর্থের পরিমাণ ১,১৯৯,৯৯৯,০৭০ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১,৪৫৭.৬৮ কোটি টাকা। ঋণ পরিশোধের ধারাবাহিকতায় সরকার의 অর্থ বিভাগ ও বিএসসি’র মধ্যে ২৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে একটি Subsidiary Loan Agreement (SLA) স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী বিএসসি আগামী ১৩ বছরের মধ্যে মোট ২,৪২৫.০২ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারকে পরিশোধ করবে। স্বাক্ষরিত SLA অনুযায়ী গ্রেস পিরিয়ডকালীন সুদের পরিমাণ ৪৭.৫২ কোটি টাকা, যা ২৬ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ ২৭ বছর পর সর্বশেষ জাহাজ সংগ্রহের অংশ হিসেবে ২০১৮-১৯ মেয়াদে বিএসসি’র বহরে যুক্ত হয় ৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ। এর মধ্যে ৩টি প্রায় ৩৯,০০০ ডিডব্লিউটি ক্ষমতাসম্পন্ন প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার এবং ৩টি বাল্ক ক্যারিয়ার। বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় সংগৃহীত ৬টি জাহাজের মধ্যে ৫টি—
এম.ভি. বাংলার জয়যাত্রা, এম.ভি. বাংলার অর্জন, এম.টি. বাংলার অগ্রযাত্রা, এম.টি. বাংলার অগ্রদূত এবং এম.টি. বাংলার অগ্রগতি— আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত রয়েছে এবং গৌরবের সঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা বহন করছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিএসসি তার ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বশেষ অর্থবছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় করে সর্বোচ্চ ৩০৬.৫৬ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। এই সাফল্যে নতুন সংযোজিত জাহাজগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় বিএসসি নতুন জাহাজ সংগ্রহে আরও একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ২টি বাল্ক ক্যারিয়ার সংগ্রহের আওতায় প্রথম জাহাজ ‘বাংলার প্রগতি’ গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ডেলিভারি গ্রহণ শেষে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় জাহাজ ‘বাংলার নবযাত্রা’ আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ডেলিভারির জন্য নির্ধারিত রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নে ২টি এমআর প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার এবং নিজস্ব অর্থায়নে ১টি আল্ট্রাম্যাক্স আকারের বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া চীন থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে আরও ৪টি বড় আকারের মাদার ভেসেলসহ অতিরিক্ত নতুন জাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।