
মো. কামাল উদ্দিনঃ
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কখনো শুধু ইট, বালু, সিমেন্ট আর শ্রেণিকক্ষের সমষ্টি নয়। একটি কলেজের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি জনপদের স্বপ্ন, হাজারো পরিবারের আশা, অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এবং একটি সমাজের পরিবর্তনের ইতিহাস।
বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ সেই অর্থে শুধু একটি কলেজ নয়। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ৫৬ বছরের পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি বোয়ালখালী ও আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিয়ে আসছে। কলেজটির EIIN নম্বর ১০৪১৫৫। কলেজের নিজস্ব তথ্যেও ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
আজ যখন শিক্ষার ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে, তখন বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আমি একজন বোয়ালখালীর সন্তান হিসেবে এই বিষয়টিকে শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দাবি হিসেবে দেখি না। আমি মনে করি, এটি বোয়ালখালীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার অধিকার ও সুযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের বিষয়।
আমার দাবি হোক তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে
আমি মনে করি, বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের বিষয়টি যথাযথ সরকারি নীতিমালা, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, শিক্ষক ও কর্মচারীর কাঠামো, অবকাঠামো, জমির পরিমাণ, আর্থিক সক্ষমতা এবং এলাকার শিক্ষা চাহিদার আলোকে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
একটি কলেজ জাতীয়করণ শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। এর সঙ্গে রাষ্ট্রের আর্থিক দায়িত্ব, শিক্ষক ও কর্মচারীদের কাঠামো, শিক্ষার মান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জড়িত। তাই আবেগের পাশাপাশি প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা।
যদি সরকারি যাচাই ও নির্ধারিত নীতিমালার আলোকে কলেজটি জাতীয়করণের উপযোগী প্রমাণিত হয়, তাহলে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে।
১৯৭০ থেকে আজকের বোয়ালখালী
১৯৭০ সালে শিক্ষাপ্রেমী মানুষের উদ্যোগে বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের যাত্রা শুরু হয়। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও পৃষ্ঠপোষকদের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় ধরে বোয়ালখালীর শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিয়ে আসছে।
সময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে শিক্ষার চাহিদা। বদলেছে শিক্ষাব্যবস্থা। তথ্যপ্রযুক্তি ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় একটি ঐতিহ্যবাহী কলেজকে শুধু টিকিয়ে রাখাই যথেষ্ট নয়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করে গড়ে তোলাও প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীর সংখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা
প্রকাশিত শিক্ষা তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে কলেজটিতে প্রায় ৩ হাজার ২২০ জন শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়। একই সময়ে শিক্ষকসংখ্যা ছিল প্রায় ৩২ জন।
একটি উপজেলা পর্যায়ের কলেজে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এই শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ স্থানীয় পরিবারের সন্তান। তাদের অনেকের জন্য চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে নিয়মিত উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা আর্থিক ও সামাজিকভাবে কঠিন হতে পারে।
একজন কৃষকের সন্তান, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সন্তান, একজন চাকরিজীবীর সন্তান কিংবা একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান যখন নিজের এলাকার একটি কলেজে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, তখন সেই প্রতিষ্ঠানটি তার পরিবারের কাছে শুধু একটি কলেজ থাকে না। সেটি হয়ে ওঠে ভবিষ্যৎ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়।
মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বপ্নের সঙ্গে কলেজটির সম্পর্ক
আমাদের সমাজে উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের একটি হলো ব্যয়।
একজন বাবা সারাজীবন পরিশ্রম করে সন্তানের শিক্ষার খরচ বহন করেন। একজন মা নিজের প্রয়োজন কমিয়ে সন্তানের পড়াশোনার জন্য অর্থ সঞ্চয় করেন। অনেক পরিবার আবার সন্তানের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করতে গিয়ে নিজেদের প্রয়োজনীয় অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হয়।
এই বাস্তবতায় নিজ উপজেলার একটি মানসম্মত ও শক্তিশালী সরকারি কলেজ একটি পরিবারের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হতে পারে।
বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের জাতীয়করণের বিষয়টি তাই শুধু প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে স্থানীয় পরিবারের শিক্ষার ব্যয়, সুযোগের সমতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উচ্চশিক্ষার সুযোগও জড়িত।
অবকাঠামো রয়েছে, এখন প্রয়োজন আরও উন্নয়ন
কলেজটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিতে লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব ও খেলার মাঠ রয়েছে। প্রকাশিত তথ্যসূত্রে কলেজটির জমির পরিমাণ প্রায় ৫ দশমিক ১ একর বলেও উল্লেখ পাওয়া যায়।
তবে বর্তমান যুগের উচ্চশিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষ ও পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন আধুনিক বিজ্ঞানাগার, উন্নত কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা, ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মমুখী শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং।
একটি জাতীয়করণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে এসব উন্নয়ন পরিকল্পনাকে যুক্ত করা গেলে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও কার্যকর শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামেরও দাবি
আমি বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের সঙ্গে যুক্ত একজন নাগরিককর্মী হিসেবে মনে করি, চট্টগ্রামের প্রতিটি জনপদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও নাগরিক উন্নয়নের বিষয়কে বৃহত্তর জনস্বার্থের আলোকে দেখা প্রয়োজন।
সেই বিবেচনায় বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের বিষয়টিও বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের জনস্বার্থভিত্তিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে কলেজটির জাতীয়করণের বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভিত্তিক প্রস্তাব তৈরি করা যেতে পারে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ, স্থানীয় নাগরিক এবং সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে সেই প্রস্তাব সরকারের কাছে উপস্থাপন করা যেতে পারে।
এতে দাবিটি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের একক দাবি হিসেবে থাকবে না। বরং এটি বোয়ালখালীর শিক্ষার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে একটি প্রাতিষ্ঠানিক জনদাবি হিসেবে সামনে আসবে।
শওকতুল ইসলামের আহ্বান
বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের জাতীয়করণের দাবি সামনে এনে কলেজটির সাবেক ছাত্রদল সভাপতি শওকতুল ইসলাম বোয়ালখালীবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে বক্তব্য এসেছে।
আমি মনে করি, এই উদ্যোগকে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের বোয়ালখালীবাসীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কারণ একটি কলেজের ভবিষ্যৎ কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের বিষয় নয়। একটি কলেজের ভবিষ্যৎ একটি পুরো জনপদের ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত।
দলমতের ঊর্ধ্বে শিক্ষার দাবি
রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবে। নেতৃত্বের ভিন্নতা থাকবে। রাজনৈতিক চিন্তাভাবনায় পার্থক্য থাকবে। কিন্তু শিক্ষার প্রশ্নে একটি জনপদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজে বিভিন্ন রাজনৈতিক মত ও সামাজিক অবস্থানের পরিবারের সন্তানরা পড়াশোনা করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত।
তাই জাতীয়করণের দাবিও হওয়া উচিত সবার জন্য।
এটি কোনো রাজনৈতিক দলের একক দাবি নয়। এটি হওয়া উচিত বোয়ালখালীর শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের যৌক্তিক প্রত্যাশা।
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ
বোয়ালখালীবাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের জাতীয়করণের দাবিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যথাযথভাবে যাচাই করা হোক।
কলেজটির শিক্ষার্থী সংখ্যা, শিক্ষক ও কর্মচারীর কাঠামো, জমি, অবকাঠামো, আর্থিক অবস্থা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং বোয়ালখালী অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা যাচাই করা হোক।
জাতীয়করণের জন্য প্রচলিত সরকারি নীতিমালা ও যোগ্যতার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
যদি সবকিছু বিবেচনায় কলেজটি জাতীয়করণের উপযুক্ত প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।
প্রয়োজন একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ প্রস্তাব
আমার মতে, বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের দাবি সামনে আনতে হলে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব তৈরি করা জরুরি।
সেখানে কলেজটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, ১৯৭০ সাল থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান, বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা, শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা, শিক্ষার ফলাফল, জমি ও অবকাঠামো, লাইব্রেরি ও ল্যাব, আর্থিক কাঠামো, এমপিও সংক্রান্ত তথ্য, এলাকার শিক্ষা চাহিদা এবং জাতীয়করণ হলে সম্ভাব্য সুফলের বিস্তারিত তথ্য থাকা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে সরকারের সম্ভাব্য আর্থিক ব্যয়, প্রশাসনিক কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাও তুলে ধরা প্রয়োজন।
তথ্য যত শক্তিশালী হবে, দাবির ভিত্তিও তত শক্তিশালী হবে।
সাবেক শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে
একটি কলেজের সবচেয়ে বড় শক্তি তার সাবেক শিক্ষার্থীরা।
বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ থেকে শিক্ষা নিয়ে যারা দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, তাদের একটি শক্তিশালী অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা যেতে পারে।
শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত সাবেক শিক্ষার্থীরা কলেজের উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুক্ত হতে পারেন।
জাতীয়করণের দাবি সফল হোক বা না হোক, কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়নে সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আমার জন্মমাটির প্রতি দায়
আমি একজন বোয়ালখালীর সন্তান।
এই মাটির সঙ্গে আমার আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। এই জনপদের মানুষের সুখ, দুঃখ, আশা এবং প্রত্যাশার সঙ্গে আমারও সম্পর্ক রয়েছে।
তাই বোয়ালখালীর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের প্রশ্নে আমি নীরব থাকতে চাই না।
আমার কাছে বোয়ালখালীর উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা, সেতু, ভবন কিংবা বাজারের উন্নয়ন নয়।
শিক্ষার উন্নয়নই একটি জনপদের সবচেয়ে বড় স্থায়ী উন্নয়ন।
আজকের একজন কলেজ শিক্ষার্থীই আগামী দিনের শিক্ষক হতে পারে। সে চিকিৎসক হতে পারে। সে প্রকৌশলী হতে পারে। সে সাংবাদিক হতে পারে। সে প্রশাসক হতে পারে। সে উদ্যোক্তা হতে পারে। সে দেশের একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হতে পারে।
তাই একটি কলেজকে শক্তিশালী করা মানে একটি প্রজন্মকে শক্তিশালী করা।
বোয়ালখালীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সিদ্ধান্ত চাই
বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ ১৯৭০ সালে যে শিক্ষার আলো জ্বালিয়েছিল, সেই আলো দীর্ঘ ৫৬ বছর ধরে জ্বলছে।
এখন আমাদের দায়িত্ব সেই আলোকে আরও বিস্তৃত করা।
জাতীয়করণ সেই আলোকে আরও শক্তিশালী করার একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সঠিক তথ্য, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ, আর্থিক বাস্তবতা যাচাই এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ।
একজন বোয়ালখালীর সন্তান হিসেবে আমার দাবি অত্যন্ত পরিষ্কার।
বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের জাতীয়করণের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে সরকারি পর্যায়ে পরীক্ষা করা হোক।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকেও বিষয়টি জনস্বার্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে বিবেচনা করা হোক।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী এবং বোয়ালখালীবাসী দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে তথ্যভিত্তিকভাবে বিষয়টি সামনে আনুন।
আর সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রচলিত নীতিমালা ও জনস্বার্থের আলোকে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।
কারণ একটি কলেজের ভবিষ্যৎ মানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নয়।
একটি কলেজের ভবিষ্যৎ মানে একটি জনপদের ভবিষ্যৎ।
আর বোয়ালখালীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার প্রশ্নে আমরা নীরব থাকতে পারি না।
বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের দাবি হোক তথ্যভিত্তিক, ঐক্যবদ্ধ, জনস্বার্থমুখী এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিবেদিত।