ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সৌদি আরবে মর্মান্তিক বাস–ট্যাংকার দুর্ঘটনায় ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সোমবার (১৭ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, *“মদিনায় ভারতীয়দের দুর্ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। প্রিয়জন হারানো পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। রিয়াদে আমাদের দূতাবাস এবং জেদ্দায় কনস্যুলেট সর্বোচ্চ সহায়তা দিচ্ছে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ করছে।”* এর আগে *ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস* জানায়, মদিনা ও বাদরের মাঝামাঝি মুফরাহথ এলাকায় বাস–ট্যাংকার সংঘর্ষে ৪২ জন ওমরাহযাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২০ নারী ও ১১ শিশু রয়েছে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন—সবাই হায়দরাবাদের বাসিন্দা। দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। সংঘর্ষের পর বাসে আগুন ধরে গেলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর ঘটনাটিকে “দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক” উল্লেখ করে গভীর শোক জানান। তিনি বলেন, রিয়াদের রাষ্ট্রদূতাবাস ও জেদ্দার কনসুলেট নিহত–আহতদের পরিবারের পাশে থাকার জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় জেদ্দা কনস্যুলেটে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তেলাঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভান্থ রেড্ডি দুর্ঘটনায় গভীর শোক জানিয়ে প্রধান সচিব ও ডিজিপিকে দ্রুত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেন। তেলাঙ্গানা সচিব রামাকৃষ্ণ রাও দিল্লির কো-অর্ডিনেশন সচিব গৌরব উপ্পালের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সচিবালয়ে কন্ট্রোল রুম খুলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হায়দরাবাদের এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি জানিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসা এবং নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তদারকি করা হচ্ছে। এদিকে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ওমরাহ অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় করে ভারতীয় কনস্যুলেট ও স্বেচ্ছাসেবীরা হাসপাতাল ও দুর্ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।