
মুন্সীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র ও সাধারণ জনগণের ওপর হামলার সঙ্গে যুক্ত ৩টি হত্যাসহ ১০ মামলার আসামি, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাত হোসেন সাগরকে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মো. আশিকুর রহমান এই রায় দেন। এর আগে, বুধবার (২২ অক্টোবর) রাত সোয়া ১টার দিকে ঢাকা মহানগরের ডেমরা এলাকা থেকে তাকে মুন্সীগঞ্জ জেলার ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মুন্সীগঞ্জ কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. কামরুল ইসলাম মিয়া জানান, গ্রেপ্তারকৃত সাগর মিয়ার রিমান্ড শুনানি হয়নি, কারণ মামলার নথি আদালতে পৌঁছায়নি; তাই রিমান্ড শুনানি পরবর্তী দিনে হবে। গ্রেপ্তার সাজ্জাত হোসেন সাগর মুন্সীগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ছিলেন। তিনি চর শিলমন্দি গ্রামের আবুল হাসেম গাজীর ছেলে। অপর গ্রেপ্তারকৃত সাগর মিয়া মিরকাদিম পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং রামগোপালপুর চিশতিবাড়ির মোহাম্মদ আসলামের ছেলে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ থানার সামনে সাজ্জাত সাগরের ফাঁসির দাবিতে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বিক্ষোভ করে। দুপুর দেড়টার দিকে সাজ্জাত সাগর ও সাগর মিয়াকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় আদালতে নেওয়া হয়। এ সময় আদালত চত্বরে সাজ্জাত সাগরের উপর বিক্ষুব্ধ জনতা ডিম ছুড়ে এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে, যার ফলে উত্তেজনা তৈরি হয়। সাজ্জাত হোসেন সাগর গত বছরের ৪ আগস্ট মুন্সীগঞ্জে তিনটি হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন এবং প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেন। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে দেশ ছাড়েন। দক্ষিণ কোরিয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক হওয়ার পর দেশে ফেরানো হয় এবং ঢাকায় অবস্থান শুরু করেন। পরে ২২ অক্টোবর গভীর রাতে মুন্সীগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশ তাকে সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে। মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মো. ফিরোজ কবির জানান, সাজ্জাত সাগরের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলায় ৩টি হত্যাসহ ১০টি মামলা রয়েছে। গত বছরের ৪ আগস্ট সকাল ১০টায় মুন্সীগঞ্জ শহরের কৃষি ব্যাংক চত্বর এলাকায় আন্দোলন শুরু করলে, সাজ্জাত হোসেন সাগর প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে তার নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালান। এতে তিনজন দিনমজুর নিহত হন এবং দুই শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

