জুলাই–আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ রায়কে ঘিরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সম্প্রতি ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডাদেশকে পাকিস্তান বাংলাদেশের একটি **সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়** হিসেবে দেখছে। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের জনগণ তাদের নিজস্ব সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত মোকাবিলা করার সক্ষমতা রাখে। এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী উত্তপ্ত মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, “এটা পাকিস্তানের নির্দেশে করা হয়েছে, বাস্তবায়িত হবে না। শেখ হাসিনা প্রগতিশীল এবং কখনোই চরমপন্থিদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।” রায় ঘোষণার পর ভারতও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়। গত সোমবার (১৭ নভেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা রায়ের বিষয়টি অবগত আছে। ভারত নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তির স্বার্থে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সে লক্ষ্য নিয়ে সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করবে। এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এর বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থয়ের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে ফাঁসির দণ্ড দেন। মামলার দুই নম্বর অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও একই মামলায় মৃত্যুদণ্ড পান। আর রাজসাক্ষী হিসেবে সত্য উদঘাটনে সহযোগিতার কারণে সাবেক আইজিপি চৌধুরী মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।