-মো.কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রাম: বিএনপি নেতা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান মো. এম.এ. হাশেম রাজু শনিবার সাতকানিয়া থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, স্থানীয় লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) সভাপতি কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ ও তার দলীয় নেতা-কর্মীরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে এবং তার সঙ্গী বিএনপি নেতাদের ওপর প্রাণনাশের হুমকি এবং প্রকাশ্য হামলার চেষ্টা চালিয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হাশেম রাজু বর্তমানে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) সংসদীয় এলাকার ধানের শীষ প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ডি. হাস-এর পক্ষে মানবাধিকার সংক্রান্ত মামলার বাদী ছিলেন। হাশেম রাজু অভিযোগ করেছেন, এলডিপি সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ তাকে বিভিন্ন সময়ে গোপন এবং প্রকাশ্যে ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচন কার্যক্রম থেকে সরে আসার হুমকি প্রদান করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অলি আহমদ বারবার বলেছেন যে, যদি তিনি তার দায়িত্ব থেকে সরে না যান এবং ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রম চালান, তাহলে তাকে অপহরণ ও হত্যা করে লাশ গুম করা হবে। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে বলা হয়েছে, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১.০০ ঘটিকায় সাতকানিয়া থানাধীন বাজালিয়া বাস স্টেশনের পশ্চিম পাশে ভাঙা ব্রিজের পূর্বে, বান্দরবান-কেরানীহাট মহাসড়কের উপর, হাশেম রাজু তার নির্বাচনী সহকর্মী ও নিরাপত্তা সহায়কদের সঙ্গে নোহা হাইস মাইক্রো গাড়ি ও মোটরসাইকেল যোগে স্থানান্তরিত হচ্ছিলেন। সেই সময় কর্নেল অলি আহমদের নির্দেশে তার দলীয় নেতা-কর্মীসহ অজ্ঞাতনামা ৫০–৬০ জন ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, লোহার রড, লাঠি-সোটা, ইট ও পাটকেল দিয়ে হামলার চেষ্টা করে। হামলার ফলে গাড়ির সামনের ডান পাশের গ্লাস এবং ডান সাইডের সাইড গ্লাস ভাঙে, যার আনুমানিক ক্ষতি ১,৫০,০০০ টাকা। হামলাকারীরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা উচ্চস্বরে ঘোষণা করেছিল যে, এই হামলার জন্য তারা ১নং বিবাদী কর্নেল অলি আহমদের নির্দেশে উপস্থিত হয়েছে। তারা হাশেম রাজু এবং তার সহকর্মীদের গাড়ি থেকে বের করার চেষ্টা চালায় এবং পুনরায় প্রাণনাশের হুমকি দেয়। হাশেম রাজু অভিযোগ করেছেন, এই হামলার সময় তার সাথে ছিলেন বিএনপি নেতা ও স্থানীয় সমর্থকরা, যাদের মধ্যে ছিলেন: মোঃ ইসমাইল (৩৮), সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রদল মোঃ হারুনুর রশিদ (৫৮), সাবেক সাধারণ সম্পাদক, খাগরিয়া ইউনিয়ন মোঃ আবদুল্লাহ (৫৯), পুরানগড় ইউনিয়ন বিএনপি সাংস্কৃতিক জোটের যুগ্ম আহ্বায়ক আয়ুব আলী (৬১), ধর্মপুর, সাতকানিয়া মোঃ মহিউদ্দিন (৩৫), চন্দনাইশ মোঃ খোকন উদ্দিন (২০), হাশিমপুর এজাহারে উল্লেখ আছে যে, হামলার সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে, হামলাকারীরা পুনরায় হুমকি প্রদান করে এবং হাশেম রাজু ও তার সহযোগীদের নিরাপদে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করে। বর্তমানে, অভিযোগ অনুসারে সাতকানিয়া থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হাশেম রাজু পুলিশ প্রশাসনের কাছে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। স্থানীয় আইন ও নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে, তবে এখনও গ্রেফতার বা মামলার আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি হয়নি। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপি এবং এলডিপি উভয় পক্ষই ইতিমধ্যেই তাদের অবস্থান জানিয়ে এসেছে। বিএনপি বলেছে, এই হামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাদের নেতা ও সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে। এলডিপি পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বিএনপি নেতা হাশেম রাজুর নিরাপত্তা সংকট, নির্বাচনী প্রচারণায় প্রভাবের আশঙ্কা
প্রতিবেদকের মন্তব্য-সাতকানিয়া এলাকায় সংঘটিত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে ঘটনা চট্রল চিত্র, দি টুরিস্ট পত্রিকা এবং সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউস-এর সকল প্রকাশনায় বিস্তারিতভাবে প্রচারিত হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ও বিশ্বস্ত সূত্রের মতে, বিএনপি নেতা এম.এ. হাশেম রাজু এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যদি দ্রুত মামলা দায়ের না করা হয়, তাহলে চন্দনাইশ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিমউদ্দীনের নির্বাচন প্রচারণায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।