চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাতরগাড়া মাজ্জ্যারটেক এলাকায় সিডিএ’র (চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) মালিকানাধীন জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি—সৌন্দর্য বর্ধনের নামে সরকারি অনুমতি নিলেও পরবর্তীতে সেই সীমা অতিক্রম করে তিনি ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন গড়ে তোলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১১ জুন সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্দেশ্যে সিডিএ থেকে অনুমোদন (NOC) নেন আব্দুল মান্নান। ওই অনুমোদনে গাছ লাগানো, উন্মুক্ত স্থান সংস্কার এবং পরিবেশ সৌন্দর্যবর্ধনের মতো সীমিত কার্যক্রমের কথা উল্লেখ থাকলেও তিনি তা উপেক্ষা করে অনুমোদনবিহীন বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। বর্তমানে ভবনের একাধিক দোকান ও কক্ষ ভাড়া দিয়ে তিনি নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, “এটা যে সিডিএ’র জমি তা সবারই জানা। সৌন্দর্য বর্ধনের অনুমতি নিয়ে কীভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ হলো—এ প্রশ্নের জবাব সিডিএকে দিতে হবে। তারা বিষয়টি দেখছে না, নাকি দেখেও দেখছে না—তা খোলাসা হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যানের দপ্তরে যোগাযোগ করলে জানা যায়—ঘটনাটি তদন্তের জন্য রোববার কর্মকর্তা হাসান ও তানজিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত দিনে কোনো ধরনের তদন্ত, পরিদর্শন বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এলাকার সচেতন মহল বলছে—সরকারি জমি দখল করে বেসরকারি ভবন নির্মাণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তাদের অভিযোগ। অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নানের বক্তব্য জানতে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা দ্রুত সিডিএ চেয়ারম্যানের সরাসরি হস্তক্ষেপ, জমি পরিমাপ ও নথিপত্র যাচাই, এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছেন। ধারাবাহিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনের — পর্ব ১