প্রায় আড়াই বছর আগে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামের ছোট্ট খালের ওপর পাশাপাশি দুটি সেতু নির্মাণ করা হয়—একটি ৩২ মিটার, আরেকটি ৪৪ মিটার। প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই সেতু দুটির ওপর দিয়ে আজও কোনো যানবাহন চলে না। কারণ, সেতুর দুই প্রান্তেই নেই সংযোগ সড়ক। ফলে সেতু দুটির পুরো জায়গা এখন স্থানীয়দের ধান, খড় ও গোবরের ঘুঁটে শুকানোর জায়গা হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। রাস্তাহীনতার কারণে রতনকান্দি ও কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ভোগান্তির শিকার। তিন বছর আগে কুড়ালিয়া দিয়ার–একডালা প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের মাঝের অংশ ভেঙে খালে পড়ে যায়। ওই অংশটি আজও সংস্কার হয়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটি না থাকায় যানবাহন চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে কৃষকদের সার-বীজ আনা ও পণ্য বাজারে নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে পৌঁছাতে দেরি করছে, বর্ষায় তো পথ প্রায় অচল হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২৫ বছর আগে বন্যায় রাস্তা ভেঙে যাওয়ার পর আর কোনো সংস্কার হয়নি। প্রতিবছর বিভিন্ন দপ্তরের লোকজন এলেও সড়ক নির্মাণ আর হয় না। দুটি সেতু নির্মাণের পরও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেগুলো ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। কৃষকরা বলেন, দীর্ঘ পথ ঘুরে বাজারে যেতে হয়, ফলে ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। ছাত্রছাত্রীরা জানান, কলেজে সময়মতো পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।এক শতবর্ষী বৃদ্ধ বলেন, আশপাশের পাঁচ গ্রামের মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ এটি। কিন্তু রাস্তাহীনতায় তাদের প্রতিদিনই ঘুরে যেতে হয় কয়েকগুণ বেশি পথ। সেতুতে ধান শুকাতে থাকা কৃষকরা জানান, গাড়ি না চলায় সেতুটাই এখন তাদের কাজে লাগে—ধান, খড় আর ঘুঁটে শুকানোর জন্য। সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান বলেন, কুড়ালিয়া–একডালা সড়কের ৭০০ মিটার অংশ ভেঙে পড়ায় সরকারি কোনো চলাচলের পথ সেখানে নেই। এলাকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় স্থানীয়রা জমি দিলে দ্রুত সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।