
সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যু প্রক্রিয়া দ্রুততর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সৌদি সরকার। তবে বাংলাদেশ জানিয়েছে, যেসব মিয়ানমার নাগরিক প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে বা বৈধ বাংলাদেশি কাগজপত্র রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ২২ হাজার রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট প্রদান করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ বিষয়টি উঠে আসে। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সাক্ষাৎ শেষে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ইস্যু প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার আহ্বান জানান। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় প্রমাণ সাপেক্ষে ইতোমধ্যে ২২ হাজার রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে এবং প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ টিমও পাঠানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। তিনি আরও বলেন, যেসব মিয়ানমার নাগরিক শর্ত পূরণ করেছেন বা বাংলাদেশি ডকুমেন্টস রয়েছে, তাদের দ্রুত পাসপোর্ট দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে সৌদি আরব থেকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিয়ে পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ইস্যুর পাশাপাশি দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, পর্যটন ও জ্বালানি খাতে সৌদি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। জনশক্তি রপ্তানির পাশাপাশি জ্বালানি ও পর্যটন খাতে সৌদি বিনিয়োগের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে এবং নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান। আলোচনা শেষে সৌদি রাষ্ট্রদূত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান। মন্ত্রী আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আগামী জুলাইয়ের প্রথমার্ধে সফরের সম্ভাবনার কথা জানান। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

