প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৬, ২০২৬, ৫:২২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৫, ২০২৬, ৮:৫৫ এ.এম
“স্বপ্নের সমুদ্রতীরে যাত্রার আগে: কিছু মানুষ, কিছু আলাপ, কিছু অঙ্গীকার-

জীবনের প্রতিটি দিন সমান নয়। কিছু দিন কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ হয়ে থাকে, আবার কিছু দিন স্মৃতির পাতায় স্থায়ী আসন গড়ে নেয়। কিছু সময়, কিছু কথা, কিছু আন্তরিক মানুষের সান্নিধ্য এবং ভবিষ্যৎকে ঘিরে কিছু স্বপ্ন—সব মিলিয়ে এমনই একটি স্মরণীয় দিন কাটল আজ ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাসদ টাওয়ার ( হোটেল নিউইয়র্কের সামনের ভবন) বসেছিল এক অনানুষ্ঠানিক অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আড্ডা। বাইরে ছিল ব্যস্ত নগরীর চিরচেনা কোলাহল, আর ভেতরে চলছিল একদল স্বপ্নবাজ মানুষের ভবিষ্যৎ নির্মাণের চিন্তা। আড্ডার মূল বিষয় ছিল কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডের সাংগঠনিক কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আগামী ২০ জুন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে অনুষ্ঠিতব্য গুরুত্বপূর্ণ সভাকে ঘিরে নানা প্রস্তুতি। প্রকৃতপক্ষে এই আলোচনা শুরু হয়েছিল আরও আগে। কাকরাইলের ঐতিহ্যবাহী সোহাগী রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত প্রথম মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি আবু সৈয়দ, সাংবাদিক আতাউল্লাহ এবং আমি। সেদিনের আলোচনায় যে বীজ রোপিত হয়েছিল, আজকের বৈঠকে তারই অঙ্কুরোদ্গম ঘটতে দেখা গেল। আজকের প্রাণবন্ত আয়োজনের স্থান ছিল হাইটেক সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট কে এম সাইফুল ইসলামের ল’ চেম্বার। আইন ও প্রজ্ঞার সেই পরিমিত পরিবেশ যেন আলোচনায় এনে দিয়েছিল একটি ভিন্ন মাত্রা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি আবু সৈয়দ, অ্যাডভোকেট কে এম সাইফুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম চৌধুরী, সারোয়ার কামাল, আমি কামাল উদ্দিন এবং আরও কয়েকজন শুভানুধ্যায়ী, সংগঠক ও ক্লাবপ্রেমী মানুষ। আলোচনার শুরু হয়েছিল ক্লাবের সাংগঠনিক কাঠামো ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয় নিয়ে। কিন্তু ধীরে ধীরে তা বিস্তৃত হতে থাকে নানা প্রসঙ্গে। উঠে আসে একটি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘস্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্ববোধের কথা। আলোচনা হয় নেতৃত্বের গুণাবলি, সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ক, ক্লাবের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং বৃহত্তর পরিসরে কক্সবাজারের ভাবমূর্তি উন্নয়নে ক্লাবের ভূমিকা নিয়ে।
কথার ফাঁকে ফাঁকে উঠে আসে ইতিহাসের নানা অধ্যায়। আলোচিত হয় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক প্রতিষ্ঠানের সফলতার গল্প। অভিজ্ঞ মানুষেরা তাঁদের জীবনের নানা বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। কেউ বলেন নেতৃত্বের কথা, কেউ বলেন ত্যাগের কথা, কেউ বলেন ঐক্যের শক্তির কথা। আর সেইসব অভিজ্ঞতার আলোয় সমৃদ্ধ হতে থাকে পুরো পরিবেশ। আড্ডার সবচেয়ে সুন্দর দিক ছিল এর আন্তরিকতা। এখানে কোনো আনুষ্ঠানিকতার ভার ছিল না, ছিল না অহংকার কিংবা পদমর্যাদার দূরত্ব। সবাই যেন একটি অভিন্ন স্বপ্নের যাত্রী। মতের ভিন্নতা ছিল, কিন্তু লক্ষ্য ছিল এক—কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডকে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত, মর্যাদাবান ও কার্যকর সংগঠনে পরিণত করা। সময়ের প্রবাহে একপর্যায়ে আলোচনা থেমেছে, চায়ের কাপ খালি হয়েছে, হাসির রেশ মিলিয়ে গেছে। কিন্তু রয়ে গেছে এক ধরনের আত্মিক তৃপ্তি। মনে হয়েছে, আমরা শুধু একটি সভার প্রস্তুতি নিচ্ছি না; বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি সুদৃঢ় ভিত্তি নির্মাণের চেষ্টা করছি। এরই মাঝে ক্যামেরায় বন্দি হয়ে যায় কিছু মূল্যবান মুহূর্ত। সেই ছবিগুলো হয়তো ভবিষ্যতে অনেকবার দেখা হবে। তখন হয়তো মনে পড়বে এই বিকেলের কথা, এই প্রাণখোলা আড্ডার কথা, এই মানুষগুলোর মুখ, এই স্বপ্নগুলোর কথা। মনে পড়বে—একদিন ঢাকার এক চেম্বারে বসে কয়েকজন মানুষ কক্সবাজারের নীল সমুদ্রকে সাক্ষী রেখে একটি সুন্দর আগামী দিনের পরিকল্পনা করেছিল। জীবনের সৌন্দর্য আসলে এমন মুহূর্তগুলোতেই লুকিয়ে থাকে। যেখানে সম্পর্কের উষ্ণতা থাকে, চিন্তার গভীরতা থাকে, স্বপ্নের ডানা থাকে এবং থাকে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার অদম্য প্রত্যয়। আজকের এই আড্ডা তাই শুধুই একটি বৈঠক নয়; এটি ছিল বন্ধুত্ব, প্রজ্ঞা, দায়িত্ববোধ ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের এক অনন্য অধ্যায়—যা দীর্ঘদিন স্মৃতির পাতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
CHATTALCHITRA © 2025 . All rights reserved.