
সুরের মূর্ছনায় হোক স্বপ্ন গাঁথা—নতুন সময়ের অভিযাত্রা—এই প্রেরণাদীপ্ত স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের সনামধন্য অনুশীলনী সংগীত শিক্ষা, সামাজিক ও অরাজনৈতিক কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান স্বরলিপি সাংস্কৃতিক অঙ্গন-এর উদ্যোগে বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিশু-কিশোরদের মেধা অন্বেষণমূলক প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুড়ি–২০২৫’-এ সারা বাংলাদেশের আধুনিক গান (খ বিভাগ)-এ সেরা দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী কণ্ঠশিল্পী তুষ্মি দাশ-এর সম্মানে সংবর্ধনা, সংগীতানুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে স্বরলিপি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজন সদস্যের পেশাগত কারণে ঢাকায় বদলি উপলক্ষে ভালোবাসা ও স্মৃতির নিদর্শন হিসেবে এক আবেগঘন বিদায় অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়। গত ১৪ ডিসেম্বর, রবিবার, নগরীর চেরাগী পাহাড়স্থ বৈঠকখানা কমিউনিটি হল-এ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি বিপুল দর্শক উপস্থিতিতে সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাহবুবুর রহমান সাগর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বরলিপি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী শামশুল হায়দার তুষার। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা দেওয়া স্বরলিপি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মূল লক্ষ্য। তুষ্মি দাশের সাফল্য সেই ধারাবাহিক সাধনারই ফল। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক মো. কামাল উদ্দিন, দৈনিক আজাদী’র সিনিয়র সাংবাদিক নজরুল ইসলাম, গীতিকার ও সাংবাদিক আবছার উদ্দিন অলি,
সিজেকেএস ফুটবল টিমের ম্যানেজার সরোয়ার মনি, ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আলম এবং সাউন্ড টাচ-এর পরিচালক ইলিয়াছ ইলু। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে তুষ্মি দাশের কণ্ঠে শুদ্ধতা, সাবলীলতা ও মেধার প্রকাশের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, সঠিক প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যা পেলে তুষ্মি দাশ ভবিষ্যতে দেশের সংগীতাঙ্গনে একজন উজ্জ্বল শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন। একই সঙ্গে তাঁরা চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে স্বরলিপি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরলিপি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উপদেষ্টা রকিবুল হাসান সোহেল, শহীদুল হক, এবং সদস্য জাহিদ তানসির, চৌধুরী মো. ইকরাম, মীম চৌধুরী, এ আর বাবলু, নাঈম মাহমুদ, মুজিবুর রহমানসহ স্বরলিপি পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও সংগীতানুরাগীরা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বর্ণাঢ্য সংগীতানুষ্ঠান।
সংগীত পরিবেশন করেন স্বরলিপি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পী এস এইচ তুষার, মাহবুবুর রহমান সাগর, বাউল মোজাহের, তপন আচার্য, নুসরাত সুমি, রিদু চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আলম, ইমরান পারভেজ এবং সংবর্ধিত শিল্পী তুষ্মি দাশ। তাঁদের পরিবেশনায় হলজুড়ে সৃষ্টি হয় সুর ও আবেগের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। যন্ত্রসংগীতে অংশ নেন কিবোর্ডে সরজ, অক্টোপ্যাডে টিটু এবং তবলায় লিমন। অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে বৈঠকখানা কমিউনিটি হল কর্তৃপক্ষ। বক্তারা বলেন, তুষ্মি দাশের এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্যও একটি গর্বের বিষয়। স্বরলিপি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করবে এবং দেশীয় সংগীতচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।