
রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৯ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকার সমান (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে এবার প্রায় ৪০ কোটি ৮০ লাখ ডলার বেশি এসেছে, যা টাকার অঙ্কে প্রায় চার হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা বেশি। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ২০২৫ সালের মার্চ, যেখানে আসে ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার এবং একই বছরের ডিসেম্বরে আসে ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স ছিল ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার, যা চতুর্থ সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা—বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে প্রভাব ফেলেছে। ডলারের চাহিদা বাড়ায় বিনিময় হার বেড়েছে, ফলে প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠিয়ে তুলনামূলক বেশি টাকা পাচ্ছেন, যা রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

