ঘন ঘন চা পান করলে কি কিডনিতে পাথর জমে?

0
111

প্রতিদিনের ক্লান্তি দূর করার জন্য বাঙালির জীবনে চা যেন অনন্য একটি অনুষঙ্গ। সকালে ঘুম ভাঙানোর সময়, অফিসের ফাঁকে বা বিকেলের আড্ডায়—চা ছাড়া যেন সময় কাটে না। কিন্তু কি আপনি জানেন, অতিরিক্ত চা পান আপনার কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিমিত চা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং কিছু উপকারও দেয়। তবে ঘন ঘন বা অতিরিক্ত চা কিডনির কার্যকারিতা কমাতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনিতে পাথর গঠনের ঝুঁকি বাড়ায়। **অতিরিক্ত চা ও কিডনির ওপর প্রভাব** **১. অক্সালেট জমে পাথর তৈরি** চায়ের মধ্যে থাকে অক্সালেট নামক যৌগ। অতিরিক্ত চা পান করলে শরীরে অক্সালেটের মাত্রা বেড়ে যায়। এটি ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিলিত হয়ে ক্যালসিয়াম অক্সালেট ক্রিস্টাল তৈরি করে, যা কিডনিতে পাথর গঠনের মূল কারণ। **২. ক্যাফেইনের কারণে ডিহাইড্রেশন** চায়ের ক্যাফেইন মূত্রবর্ধক। ঘন ঘন চা পান করলে শরীর থেকে বেশি পানি বের হয়। যদি পর্যাপ্ত পানি না পান, তবে ডিহাইড্রেশন হয়, যা কিডনির ওপর চাপ বাড়ায়। **৩. কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ** অতিরিক্ত চা নিয়মিত পান করলে কিডনিকে সবসময় বেশি কাজ করতে হয়। এর ফলে ফিল্টারিং ক্ষমতা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যারা আগেই কিডনির সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ঝুঁকি আরও বেশি। **কখন সতর্ক হবেন** যদি নিয়মিত চা পান করেন এবং নিচের কোনো লক্ষণ লক্ষ্য করেন, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিন— * **অস্বাভাবিক প্রস্রাব:** ঘন ঘন প্রস্রাব বা হঠাৎ কমে যাওয়া। * **প্রস্রাবের রং পরিবর্তন:** গাঢ় হলুদ বা লালচে (রক্তের উপস্থিতি)। * **ফোলাভাব:** চোখ, মুখ, পা বা গোড়ালিতে অস্বাভাবিক ফোলাভাব। * **পিঠ বা কোমরের ব্যথা:** কোমরের নিচে বা পাশে ধারাবাহিক ব্যথা।
* **অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা:** ক্রমাগত অবসাদ, দুর্বলতা বা মনোযোগ কমে যাওয়া। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, চা পানের অভ্যাস ত্যাগ না করলেও তা **পরিমিত রাখুন**। দিনে দুই–তিন কাপের বেশি চা না পান করা উত্তম। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং শরীরের জলসমতা বজায় রাখুন। কারণ, চা যতই প্রিয় হোক, সুস্থ কিডনি ছাড়া দীর্ঘদিন কোনো প্রিয় জিনিস উপভোগ করা সম্ভব নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here