পরিবেশ দূষণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে আমাদের শরীরে নিয়মিত জমা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত উপাদান। এসব উপাদান রক্তে জমে শরীরে নানা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে—হজমে সমস্যা, ত্বকের সমস্যা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া সহ। বিশেষ করে বাইরে স্ট্রিট ফুড বা তেলে ভাজা খাবার বেশি খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে আরও ঝুঁকিতে ফেলে। ঘরেই থাকা কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার নিয়মিত খেলে রক্তের এই বিষক্রিয়া অনেকটাই কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এসব খাবার শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে—**লেবু** লেবুর রস রক্ত ও হজমতন্ত্র পরিশোধনে খুবই কার্যকর। এর অম্লীয় বৈশিষ্ট্য শরীরের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য ঠিক রাখতে সহায়তা করে এবং রক্ত থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করতে সাহায্য করে। সকালে খালি পেটে গরম পানিতে আধা লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে দেহ থেকে দ্রুত দূষিত উপাদান বের হয়। **অ্যাপেল সিডার ভিনেগার ও বেকিং সোডা** এই মিশ্রণ শরীরের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক, যা রক্ত ও টিস্যু পরিশোধনে কার্যকর। বিশেষ করে রক্তে ইউরিক অ্যাসিড কমাতেও এটি উপকারী হিসেবে পরিচিত। **হলুদ** হলুদ একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি। এতে থাকা ‘কারকিউমিন’ প্রদাহ কমায় এবং শরীরের নানা জটিলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে। এছাড়া নতুন লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতেও সহায়ক হওয়ায় ঘরোয়া রক্তপরিশোধনে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। **পানি** শরীরের প্রাকৃতিক ডিটক্স সিস্টেম সচল রাখতে সবচেয়ে কার্যকর উপাদান হলো পানি। পর্যাপ্ত পানি পান করলে প্রসাবের মাধ্যমে টক্সিন বের হয় এবং যকৃত, কিডনি, ত্বকসহ সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে। একই সঙ্গে খনিজ ও ভিটামিনের সরবরাহও ঠিক থাকে। **শসা** শসায় প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন বি থাকে। শসার ডিটক্স ওয়াটার শরীরকে দ্রুত সতেজ করে। তৈরি করতে এক গ্লাস পানিতে কিছু টুকরো শসা, সামান্য লেবুর রস, পিঙ্ক সল্ট এবং পুদিনা পাতা মিশিয়ে পান করা যেতে পারে।