পেঁয়াজের বাজার অস্থির, সবজিতে মিলছে স্বস্তি

0
166

সবজির বাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হলেও পেঁয়াজের দামে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাত্র দুই দিনে প্রতি কেজিতে ২০–২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে এখন খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। তবে শীতকালীন মৌসুমে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে বলে আশা করছেন তারা। শুক্রবার কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, পাবনার পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৫০ টাকা আর ফরিদপুরের পেঁয়াজ ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, দেশে পেঁয়াজ ১৫০ টাকা, অথচ ভারতে দাম অনেক কম—এটা অবিশ্বাস্য। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ পরিস্থিতি সামাল দিতে আমদানিকেই বিকল্প হিসেবে দেখছেন। বিক্রেতা আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘দাম লাফিয়ে বাড়ছে। নতুন পেঁয়াজ আসতে বেশি সময় লাগবে না, কিন্তু রাতারাতি আরও বেড়ে গেলে তখন আমদানি ছাড়া উপায় থাকবে না।’ পূর্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৫০০ টন পেঁয়াজ আমদানির পরিকল্পনা করেছিল, তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আপত্তিতে তা আটকে যায়। তাদের দাবি ছিল—নভেম্বরের মাঝামাঝিতেই নতুন দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসবে। কিন্তু প্রত্যাশার সময় পেরিয়ে গেলেও সরবরাহ এখনও পর্যাপ্ত নয়, ফলে বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে বাজারে অল্প পরিমাণে পাতাসহ নতুন পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, যার দাম প্রতি কেজি ৭০–৮০ টাকা। **সবজির বাজারে স্বস্তির হাওয়া**শীতের সবজি বাজারে আসায় বেশ কিছু সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় অনেক সবজির কেজিপ্রতি দাম ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা ও পটোল এখন প্রতি কেজি ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা সপ্তাহখানেক আগে কমপক্ষে ১০ টাকা বেশি ছিল। বড় ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, ছোটগুলো ৩০ টাকায়। তবে করলা আগের মতোই ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, লাউ ও কচুর লতি ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। মূলা বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। তিন সপ্তাহ আগে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া শিম এখন মাত্র ৬০ টাকা। বেগুনের দামও স্থিতিশীল—লম্বা ও সবুজ বেগুন ৬০ টাকা, তাল বেগুন ৭০ টাকা। দেশি গাজর কমে হয়েছে ৫০ টাকা, দেশি টমেটো ১১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। উচ্ছে এখনও উচ্চমূল্যে—কেজি ১০০ টাকা। শসা ৮০ টাকা আগের মতোই এবং পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে ৩০ টাকায়। কাঁচা মরিচ দুই সপ্তাহে ১২০ টাকা থেকে নেমে এখন ৪০–৬০ টাকায় এসেছে। বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আজ সাপ্লাই বেশি, তাই দাম কম। সাধারণত ৮০ টাকার মতো বিক্রি করি।’ রসুন ও আদার দামও ২০ টাকা বেড়েছে। চায়না রসুন ১৮০, দেশি রসুন ১০০ টাকা, দেশি আদা ১৬০ ও চায়না আদা ২০০ টাকা কেজি।**ডিম ও মুরগির বাজার স্থিতিশীল** ফার্মের লাল ডিম ডজনপ্রতি ১২‍০ টাকা এবং সাদা ডিম ১১০ টাকা দরে আগের মতোই বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের ডিমও আগের দামে—ডজন ২১০ টাকা।ব্রয়লার মুরগির দাম দুই সপ্তাহে ২০ টাকা কমে এখন কেজি ১৫০ টাকা। সোনালি মুরগি ২৬০ টাকা এবং হাইব্রিড সোনালি ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতা মো. নাইম বলেন, ‘এখন বাজারে মুরগির যোগান বেশি। সেই তুলনায় ক্রেতা কম, তাই দামও কমে গেছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here