কর্ণফুলীতে অবৈধ ট্রলিংয়ের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের কঠোর অভিযান নিষিদ্ধ ট্রলিং জাল ও সরঞ্জামসহ ভারতীয় নাগরিক পণ্ডিত বিশ্বাস আটক, জব্দ ৩৬ লাখ টাকার সরঞ্জাম

0
207

বিপ্লব বিজয়
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। অভিযানে ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন ও অবৈধ ট্রলিং জাল তৈরির মূল কারিগর এক ভারতীয় নাগরিকসহ ৬ জন বাংলাদেশি কারিগরকে আটক করা হয়েছে। এ সময় প্রায় ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের ১২টি অবৈধ ট্রলিং জাল ও জাল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। কোস্ট গার্ড জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাহিনীটি দেশের বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমা, উপকূলীয় অঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, সাধারণ জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন এবং অবৈধ ট্রলিং বোটের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। সম্প্রতি একটি অসাধু চক্র অধিক মুনাফার আশায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাঠের ফিশিং বোটে অবৈধভাবে ট্রলিং সরঞ্জাম ও ছোট ফাঁসের বেহুন্দি জাল স্থাপন করে সেগুলোকে আর্টিসানাল ট্রলিং বোটে রূপান্তর করছে। এসব ছোট ফাঁসের জালে গভীর ও অগভীর সাগরের রেণু, ডিমওয়ালা মা মাছ এবং মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যাপকভাবে ধ্বংস হচ্ছে। এর ফলে গত চার বছরে আশঙ্কাজনক হারে মাছের প্রজনন কমে গেছে এবং সাধারণ জেলেরা ক্রমেই জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, কর্ণফুলী থানাধীন চর পাথরঘাটা সংলগ্ন একটি ফ্যাক্টরিতে নিষিদ্ধ আর্টিসানাল ট্রলিং সরঞ্জাম ও ট্রলিং জাল তৈরির কাজ চলছে। প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রামের নেতৃত্বে উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে ফ্যাক্টরিটি তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের ১২টি অবৈধ ট্রলিং জাল, জাল তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ট্রলিং জাল তৈরির মূল কারিগর ভারতীয় নাগরিক পণ্ডিত বিশ্বাস (৩৯) এবং তার সঙ্গে জড়িত ৬ জন বাংলাদেশি কারিগরকে আটক করা হয়।
আটক পণ্ডিত বিশ্বাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি বাংলাদেশে অবস্থানকালে ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ আর্টিসানাল ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন ও ট্রলিং জাল তৈরির মূল কারিগর হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিলেন। তিনি সর্বশেষ ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
কোস্ট গার্ডের তথ্যমতে, পণ্ডিত বিশ্বাস পূর্বে একাধিকবার সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বরগুনার পাথরঘাটা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় মাসুম কোম্পানি, শুক্কুর কোম্পানি, ইসমাঈল ও জাহাঙ্গীর কোম্পানির ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন ও জাল তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন। এর ফলে সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ ট্রলিং বোট ও জালের বিস্তার বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট ২০২৫ তারিখে কোস্ট গার্ড ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে পণ্ডিত বিশ্বাসকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে কিছু অসাধু ট্রলিং জাল ব্যবসায়ী এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রভাব ও প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্তি পান। জামিনে মুক্তির পর তিনি পূর্বের চেয়েও বৃহৎ পরিসরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবৈধ ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন ও ট্রলিং জাল তৈরির কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, আর্টিসানাল ট্রলিং বোটের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের ফলে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মৎস্য সম্পদ রক্ষা, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সাধারণ জেলেদের জীবিকা সুরক্ষায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here