বোয়ালখালী প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় কর্ণফুলী নদীতে অবৈধ বালি উত্তোলন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিদোয়ান খান (পিতা—মৃত আবদুল মালেক), পেশায় ব্যবসায়ী এবং বোয়ালখালী থানার ৮নং শ্রীপুর-খরনদ্বীপ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জানান, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে স্বৈরাচার সরকার পতনের পর থেকে কর্ণফুলী নদীর চর বেতাগী (প্রকাশ নাজির চর) এলাকায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হকের নেতৃত্বে অবৈধ বালি উত্তোলনের মহোৎসব শুরু হয়। তিনি বলেন, নদীর পশ্চিম প্রান্ত থেকে পূর্ব প্রান্ত হয়ে নবনির্মিত চট্টগ্রাম ওয়াসা পানি শোধনাগার প্রকল্প পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব অবৈধ বালি বাল্কহেডের মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীর বন্দর চ্যানেল ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘চরখাজনা’ নামে চাঁদাবাজির একটি নব্য ব্যবস্থা চালু করে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। রিদোয়ান খান অভিযোগ করেন, অবৈধ বালি উত্তোলনের ফলে চরবেতাগী এলাকায় তার পারিবারিক জমিসহ বহু মানুষের ফসলি জমি নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে। এর প্রতিবাদে এলাকাবাসীর সঙ্গে তিনি সম্মুখ সারিতে থেকে আন্দোলনে অংশ নেন। এর জেরে আজিজুল হকের সন্ত্রাসী বাহিনী তাকে একটি রাজনৈতিক মামলায় মিথ্যা আসামি করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এতে তিনি ২২ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান। জামিনে মুক্তির পরও নির্যাতন থেমে থাকেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। আজিজুল হকের লোকজন তাকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদা দাবি করতে থাকে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ সকালে আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে আজিজুল হকের জলদস্যু বাহিনীর সদস্য নুরুল আবছার প্রকাশ কালা রোকচার, শহিদুল ইসলাম প্রকাশ টাকলা শহীদ, জানে আলম নান্নু প্রকাশ ব্যাট্টা নান্নু, রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, মো. আসিফসহ আরও ২-৩ জন তাকে পথরোধ করে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সন্ত্রাসীরা তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে এবং পকেট থেকে ১ লাখ ২২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় লোহার রড দিয়ে তার দুই হাতে আঘাত করলে হাড়ভাঙা জখম হয় বলে জানান তিনি। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। এলাকাবাসী এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার দিনই তার স্ত্রী ও সাক্ষীদের সঙ্গে থানায় গিয়ে এজাহার দিতে গেলে প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে পুলিশ চাঁদাবাজির অভিযোগ বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে বাধ্য হয়ে ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে চাঁদাবাজির অংশ বাদ দিয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নম্বর ৩/২০২৬। সংবাদ সম্মেলনে রিদোয়ান খান উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত টাকলা শহীদ ও ব্যাট্টা নান্নু এর আগেও ২৫ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়। পরে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে তাদের একটি গোপন আস্তানা থেকে দুটি ভারী অস্ত্র ও ১৮ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। এসব বিষয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হলেও আজিজুল হক ও তার দস্যুবাহিনী এখনো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আইনি মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে তিনি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন বলে জানান। সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ, কর্ণফুলী নদীর বন্দর চ্যানেল দিয়ে বালি পরিবহন নিষিদ্ধ, এবং বালিখেকো আজিজুল হকসহ সংশ্লিষ্ট জলদস্যু ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে তিনি সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।