
সাবেক আইজিপি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিতব্য স্মারক জীবনীগ্রন্থের জন্য লেখা, স্মৃতিচারণা, দুর্লভ আলোকচিত্র ও ঐতিহাসিক তথ্য আহ্বান
আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম. আজিজুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন, দীর্ঘ কর্মজীবন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন, পেশাগত অবদান, ব্যক্তিত্ব ও স্মৃতিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে একটি তথ্যসমৃদ্ধ ও মানসম্মত স্মারক জীবনীগ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
কর্মময় জীবনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
মরহুম এম. আজিজুল হক ১৯৪০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ফরিদপুর জেলার সদর থানাধীন ঝিলটুলি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক এবং ১৯৬১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তান পুলিশ সার্ভিসে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের সূচনা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে সিলেটে সহকারী পুলিশ সুপার, মৌলভীবাজারে এসডিপিও, ঢাকা ও ময়মনসিংহে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পাবনায় পুলিশ সুপার এবং পুলিশ সদর দপ্তরে এআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮০ সালে ডিআইজি পদে পদোন্নতি লাভের পর তিনি এপিবিএন, চট্টগ্রাম ও ঢাকা রেঞ্জ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় প্রিন্সিপালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
১৯৯৬ সালের ২২ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৯৭ সালের ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সালের ১১ ডিসেম্বর সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, নৌপরিবহন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি বুধবার ভোর সাড়ে তিনটায় রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮৪ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মেজ পুত্র হাসিব আজিজ বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্মারক জীবনীগ্রন্থে যা সংরক্ষিত হবে
প্রকাশিতব্য গ্রন্থে মরহুমের জীবন ও কর্মের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে থাকবে—
১. জন্ম, শৈশব, পারিবারিক ঐতিহ্য ও বেড়ে ওঠার ইতিহাস।
২. শিক্ষাজীবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন এবং অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা অর্জনের বিবরণ।
৩. পুলিশ সার্ভিসে যোগদান থেকে আইজিপি পদে অধিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত কর্মজীবনের ধারাবাহিক ইতিহাস।
৪. বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, রেঞ্জ, ডিএমপি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও পুলিশ একাডেমিতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা।
৫. আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালের উল্লেখযোগ্য ঘটনা, উদ্যোগ ও অবদান।
৬. তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা।
৭. তাঁর ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব, কর্মনিষ্ঠা, মূল্যবোধ ও জীবনদর্শন।
৮. পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমসাময়িক বিশিষ্টজনদের স্মৃতিচারণা।
৯. দুর্লভ আলোকচিত্র, সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও প্রামাণ্য তথ্য।
১০. তাঁর জীবন ও কর্মের মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়।
লেখা, স্মৃতিচারণা ও আলোকচিত্র আহ্বান
মরহুম এম. আজিজুল হকের সঙ্গে যাঁরা কর্মজীবনে দায়িত্ব পালন করেছেন, যাঁরা তাঁর সহকর্মী, অধস্তন কর্মকর্তা, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী কিংবা পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, তাঁদের সবার প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানানো যাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত সাবেক আইজিপি, অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া ব্যক্তিদের কাছে তাঁদের মূল্যবান স্মৃতিচারণা, অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ পাঠানোর বিশেষ অনুরোধ জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে পারিবারিক স্মৃতি, ব্যক্তিগত আলোকচিত্র, জীবনের অজানা ঘটনা এবং সংরক্ষিত মূল্যবান উপকরণ দিয়ে সহযোগিতার বিনীত আবেদন জানানো হচ্ছে। আপনাদের কাছে সংরক্ষিত হতে পারে তাঁর কর্মজীবনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, দায়িত্ব পালনের কোনো স্মরণীয় অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত কোনো চিঠি, দুর্লভ ছবি কিংবা এমন কোনো অজানা তথ্য, যা তাঁর জীবন ও কর্মের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। আপনার একটি লেখা, একটি স্মৃতিচারণা কিংবা একটি দুর্লভ আলোকচিত্র আগামী প্রজন্মের কাছে হয়ে উঠতে পারে ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ।
লেখা ও উপকরণ পাঠানোর নির্দেশনা
স্মারকগ্রন্থের মান ও তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে লেখকদের প্রতি অনুরোধ— স্মৃতিচারণা ও নিবন্ধ যেন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও যাচাইযোগ্য তথ্যনির্ভর হয়। ঘটনার সময়, স্থান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় যথাসম্ভব উল্লেখ করতে হবে। আলোকচিত্রের সঙ্গে ছবির সময়, স্থান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচিতি দিতে হবে। লেখার সঙ্গে লেখকের পূর্ণ নাম, পদবি, বর্তমান বা সাবেক কর্মপরিচয় এবং যোগাযোগের তথ্য সংযুক্ত করতে হবে।
প্রয়োজনে প্রাসঙ্গিক দলিল, সংবাদ প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ দিতে হবে। প্রাপ্ত সব লেখা, ছবি ও উপকরণ যথাযথ যাচাই-বাছাই ও সম্পাদনার পর গ্রন্থে অন্তর্ভুক্তির জন্য বিবেচনা করা হবে।
একটি জীবনের গল্প, একটি সময়ের ইতিহাস
মানুষের জীবন একসময় থেমে যায়, কিন্তু তাঁর কর্ম, অভিজ্ঞতা, অবদান ও স্মৃতি সময়ের সীমানা অতিক্রম করে বেঁচে থাকে। একজন মানুষের জীবনের মূল্যায়ন শুধু তাঁর পদ-পদবি দিয়ে নয়, বরং তাঁর কর্মময় জীবনের অভিজ্ঞতা, দায়িত্ব পালন ও মানুষের স্মৃতিতে রেখে যাওয়া অবদান দিয়েও হয়। এম. আজিজুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রকাশিতব্য এই স্মারক জীবনীগ্রন্থের মাধ্যমে তাঁর জীবন ও কর্মের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো সংরক্ষিত হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আসুন, বিচ্ছিন্ন স্মৃতিগুলো একত্র করি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সম্মিলিত ইতিহাসে রূপ দিই। একজন প্রয়াত রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তির কর্মময় জীবনকে তথ্য, স্মৃতি ও প্রামাণ্য দলিলের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরি। সবার আন্তরিক সহযোগিতা, মূল্যবান লেখা, স্মৃতিচারণা, আলোকচিত্র ও ঐতিহাসিক উপকরণ প্রত্যাশা করছি।
উদ্যোগ ও সমন্বয়ে: মো. কামাল উদ্দিন
লেখক, সাংবাদিক, গবেষক ও টেলিভিশন উপস্থাপক
সাধারণ সম্পাদক
চট্টগ্রাম সিনিয়র্স প্রেস ক্লাব লিমিটেড
সাধারণ সম্পাদক
কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেড
সদস্য, PEN International
স্মারক জীবনীগ্রন্থ প্রকাশনা উদ্যোগ
মরহুম এম. আজিজুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে।
প্রকাশের লক্ষ্য তারিখ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৭।

