গ্রেপ্তারের খবরে স্তব্ধ বোয়ালখালী : জাহেদুল হককে ঘিরে মানুষের প্রশ্ন ও বিশ্বাস

0
217

প্রতিবেদন | বোয়ালখালী প্রতিনিধিঃ
বোয়ালখালীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহেদুল হকের গ্রেপ্তারের খবরে উপজেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিস্ময়, উদ্বেগ ও নীরব ক্ষোভ। বাজার, চায়ের দোকান, মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে সামাজিক আড্ডা—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন একটাই প্রশ্ন: এই গ্রেপ্তার কি ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা, নাকি দীর্ঘদিনের ষড়যন্ত্রের পরিণতি?এ প্রশ্ন তুলছেন তারাই, যারা দীর্ঘদিন ধরে জাহেদুল হককে কাছ থেকে দেখেছেন একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন মানবিক মানুষ হিসেবে। রাজনীতির বাইরে মানবিক পরিচয় স্থানীয়দের ভাষ্যে উঠে আসে, জাহেদুল হক রাজনীতিকে কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থের হাতিয়ার বানাননি। বরং একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে যে সাফল্য তিনি অর্জন করেছিলেন, তা মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। দরিদ্র শিক্ষার্থীর পড়াশোনা, অসহায় রোগীর চিকিৎসা, দুর্যোগকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো—এসব কাজ তিনি করেছেন নীরবে, প্রচারের আলো এড়িয়ে। একজন প্রবীণ স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “অনেকে সাহায্য করে প্রচার চায়, জাহেদুল হক সাহায্য করতেন মানুষের চোখের আড়ালে।”জনপ্রিয়তা থেকেই কি বিরোধের শুরু? বোয়ালখালীর অনেকের ধারণা, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ। বিশেষ করে সৎ ভাইদের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে চায় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, ব্যক্তিগত বিরোধকে মামলা ও অভিযোগের মোড়কে রূপ দিয়ে একটি সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি এলাকাবাসী জোর দিয়ে বলছেন, জাহেদুল হক কোনো ক্ষমতাসীন দলের ছায়ায় গড়ে ওঠা রাজনীতিক নন। তার পরিবার ঐতিহ্যগতভাবে মুসলিম লীগ ঘরানার। তারা কখনোই আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ফলে “বিগত সরকারের প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়া” সংক্রান্ত অভিযোগকে অনেকেই উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে মনে করছেন। ভোটের রায়ই ছিল শক্তি বোয়ালখালীবাসী স্মরণ করিয়ে দেন, জাহেদুল হক কারো দয়ায় নয়, বরং মানুষের সরাসরি ভোটেই উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই ভোট ছিল তার কাজ, আচরণ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের স্বীকৃতি। একজন শিক্ষক বলেন, “মানুষ ভোট দেয় বিশ্বাস দেখে, ভয় দেখে নয়।” ব্যবসা ও ব্যাংকিং অঙ্গনে সুনামের দাবি এলাকাবাসীর দাবি, একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে ব্যাংকিং ও বাণিজ্যিক অঙ্গনে জাহেদুল হকের দীর্ঘদিনের সুনাম রয়েছে। সেই সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই একের পর এক অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে বলে তাদের ধারণা। মামলার ভিড়ে হারাচ্ছে কি ন্যায়বোধ? আজ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, গ্রেপ্তারি তৎপরতা—এসব দেখে বোয়ালখালীর মানুষ বলছেন, আইন অবশ্যই তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তবে আইন যেন ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বা রাজনৈতিক শত্রুতার হাতিয়ার না হয়—এটাই তাদের প্রত্যাশা। মানুষের প্রত্যাশা বোয়ালখালীর সাধারণ মানুষের চাওয়া খুব পরিষ্কার নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং সত্যের ভিত্তিতে বিচার। কারণ, একজন মানুষকে গ্রেপ্তার করলেই তার মানবিক কাজ, সামাজিক অবদান ও মানুষের ভালোবাসা মুছে যায় না। ন্যায়বিচার তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা ভয় বা প্রতিহিংসা নয়—সত্য ও সুবিবেকের উপর দাঁড়িয়ে থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here