কয়েকদিন আগেও জন্মদিনের আলো, আজ শোকের অন্ধকার — কবি মাহমুদুল হাসান নিজামীকে চির বিদায়ী সালাম

0
217

—মো. কামাল উদ্দিন- কয়েকদিন আগেই লিখেছিলাম তাঁর জন্মদিনের কথা। লিখেছিলাম শুভেচ্ছা, দীর্ঘায়ু আর আরও সৃষ্টিশীল জীবনের প্রার্থনা। ভেবেছিলাম, সামনে আরও বহু বছর তিনি আমাদের শব্দের আলো দিয়ে পথ দেখাবেন। কে জানত, সেই লেখার কালি শুকানোর আগেই আমাকে লিখতে হবে তাঁর বিদায়ের বেদনাময় সংবাদ! কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) জন্মদিনের শুভেচ্ছা থেকে মৃত্যুবার্তার এই যাত্রা যেন হৃদয়ের ভেতর এক তীব্র ধাক্কা। যে মানুষটিকে আমরা বাংলা সাহিত্যের দীপ্তিমান আলোকবর্তিকা বলে অভিহিত করেছি, আজ তাঁকেই বিদায় জানাতে হচ্ছে অশ্রুসিক্ত শব্দে। বর্তমানে তাঁর মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। সেখানকার সাংবাদিক মাটি মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরিবারের সদস্যরা পৌঁছালে মরদেহ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে—এ কথাও তিনি জানিয়েছেন। কিন্তু এই আনুষ্ঠানিক সংবাদে হৃদয়ের শূন্যতা ভরে না। একটি প্রস্থান কেবল দেহের নয়—একটি যুগের, একটি স্বরের, একটি দীপ্ত উপস্থিতির। কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। কবিতা, অনুবাদ, প্রবন্ধ, সমালোচনা—প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর মনন ছিল গভীর, ভাষা ছিল সংযত অথচ প্রখর। তাঁর কবিতায় ছিল মাটির গন্ধ, মানুষের কান্না, সময়ের প্রতিবাদ, আবার ছিল প্রেমের নীরব দীপ্তি। তিনি শব্দকে কেবল সাজাতেন না; তিনি শব্দকে জীবন দিতেন। কয়েকদিন আগে তাঁর জন্মদিনে লিখেছিলাম—
“তিনি আমাদের সময়ের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।” আজ মনে হচ্ছে, সেই নক্ষত্র হঠাৎ করেই আকাশ ছেড়ে দূরে সরে গেল। কিন্তু সত্যিই কি নক্ষত্র নিভে যায়? নাকি তার আলো বহু দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে সময় নেয়? চট্টগ্রামের গর্ব এই কবি বাংলা সাহিত্যের পরিসরে যে আসন নির্মাণ করেছেন, তা অমলিন। তিনি ছিলেন একাধারে স্রষ্টা, অনুবাদক, মননশীল বিশ্লেষক। বিশ্বসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ রচনা তিনি বাংলায় এনে আমাদের ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর অনুবাদ ছিল কেবল ভাষান্তর নয়—ভাবের পুনর্জন্ম।
নবীন লেখকদের প্রতি তাঁর ছিল অকৃত্রিম মমতা। তিনি নীরবে পথ দেখিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন, সাহিত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা শিখিয়েছেন। তাঁর কাছে সাহিত্য ছিল সাধনা—আত্মার অনুশীলন। আজ মনে হচ্ছে, আমরা কেবল একজন কবিকে হারাইনি; আমরা হারিয়েছি এক আলোকিত অভিভাবককে। যে মানুষটি আমাদের ভাবতে শিখিয়েছেন, প্রশ্ন করতে শিখিয়েছেন, শব্দের গভীরে ডুব দিতে শিখিয়েছেন—তিনি আজ নীরব। কয়েকদিন আগেও লিখেছিলাম— “শুভ জন্মদিন, কবি!” আজ লিখছি—
“শ্রদ্ধা ও অশ্রুভরা বিদায়, প্রিয় কবি।” মহান আল্লাহ তাঁর আত্মাকে শান্তি দিন, জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই গভীর শোক সইবার শক্তি দিন। কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর কবিতা থাকবে। তাঁর শব্দ থাকবে। তাঁর চিন্তার দীপ্তি থাকবে। আর যতদিন বাংলা ভাষা বেঁচে থাকবে, ততদিন তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃষ্টির ভেতর দিয়ে।
শ্রদ্ধায়, কৃতজ্ঞতায়, অশ্রুসিক্ত স্মরণে—
কবি মাহমুদুল হাসান নিজামীকে প্রণাম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here