
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দল Brazil national football team। একমাত্র দল হিসেবে প্রতিটি বিশ্বকাপেই অংশ নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে সেলেসাওদের ঝুলিতে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল সর্বশেষ শিরোপা জিতেছিল ২০০২ সালে। এরপর কেটে গেছে দুই দশকেরও বেশি সময়, কিন্তু ‘হেক্সা’ মিশন আর পূরণ হয়নি। এবার কি সেই অপেক্ষার অবসান ঘটবে? উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গে। সেই লক্ষ্যেই আজ ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন ইতালিয়ান কোচ Carlo Ancelotti। তবে সম্ভাব্য দল নিয়ে আলোচনা যতই হোক না কেন, একটি বিষয় প্রায় নিশ্চিত—নতুনদের চেয়ে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের ওপরই বেশি ভরসা রাখতে যাচ্ছে ব্রাজিল। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ২টায় রিও ডি জেনেইরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করার কথা রয়েছে। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর সাধারণত ব্রাজিলে ‘পুনর্গঠন’-এর দাবি ওঠে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের হতাশার পরও অনেকে বড় পরিবর্তনের আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। গত সপ্তাহে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) ফিফার কাছে যে ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক তালিকা পাঠিয়েছে, সেখানে অন্তত ২০ জন ফুটবলার আছেন, যারা আগের বিশ্বকাপ খেলেছেন। অর্থাৎ, আনচেলত্তির মূল দলে নতুন মুখের সংখ্যা খুব সীমিত হতে পারে। বিশ্বকাপ-অভিজ্ঞদের মধ্যে প্রায় নিশ্চিত ধরা হচ্ছে Vinícius Júnior, Raphinha, Casemiro ও Marquinhos-দের। এছাড়া সম্ভাবনায় রয়েছেন আলেক্স সান্দ্রো, ব্রেমের, ফাবিনিয়ো ও Gabriel Martinelli। এদিকে এখনো দলে ফেরার আশা টিকিয়ে রেখেছেন Neymar ও পেদ্রো। যদিও এখন পর্যন্ত কাউকেই চূড়ান্তভাবে ডাকেননি আনচেলত্তি, তবু সপ্তাহান্তের ম্যাচগুলোকে ধরা হচ্ছে কোচের নজর কাড়ার শেষ সুযোগ হিসেবে। সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ-অভিজ্ঞ ফুটবলার দেখা যেতে পারে আক্রমণভাগে। আবার মিডফিল্ডেও অধিকাংশ খেলোয়াড় হতে পারেন বিশ্বকাপফেরত। সব মিলিয়ে, এবার ব্রাজিলের স্কোয়াড হতে পারে এ শতাব্দীর সবচেয়ে অভিজ্ঞ বিশ্বকাপ দলগুলোর একটি। পরিসংখ্যানও সেটিই বলছে। ২০০৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের দলে ১০ জন করে বিশ্বকাপ-অভিজ্ঞ ফুটবলার ছিলেন, যা এ শতাব্দীতে তাদের সর্বোচ্চ। এবার সেই সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, নতুন বা অভিষিক্ত খেলোয়াড়ের সংখ্যা হতে পারে সবচেয়ে কম। বর্তমানে সেই রেকর্ড ২০০৬ সালের, যখন দলে নতুন মুখ ছিল মাত্র ১৩ জন। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ইতিহাস বলছে, অভিজ্ঞতা সবসময় নেতিবাচক নয়। Argentina national football team ২০২২ সালে মাত্র সাতজন নতুন খেলোয়াড় নিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল। আবার France national football team ২০১৮ সালে শিরোপা জেতে অভিজ্ঞ ও তরুণদের মিশেলে। আর ২০১৪ সালে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতা Germany national football team-এর দলেও ছিল বিপুল অভিজ্ঞতার ছাপ।

