ভাঙা দাঁতের খোঁচা হতে পারে মুখের ক্যান্সারের কারণ

0
133

অনেকে মুখের ভেতরের ছোট ক্ষত বা দাঁতের খোঁচাকে তুচ্ছ মনে করেন। কিন্তু এই ধরনের ক্ষত যদি বারবার জিহ্বা বা গালে লাগে এবং চিকিৎসা না করা হয়, তবে তা সময়ের সঙ্গে মুখের ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। তামাক, চিবিয়ে খাওয়া তামাকজাত দ্রব্য, অ্যালকোহল এবং সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়াও ঝুঁকি বাড়ায়। তাই দেশে মুখের ক্যানসারের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডেন্টাল অনুষদের ডিন ও ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ বলেন, মুখে ক্ষত বা ঘা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ হলো ‘অ্যাপথাস আলসার’। ডা. সায়ন্থ জানান, “মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, হরমোনের পরিবর্তন, ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতি, দাঁতের খোঁচা বা খাওয়ার সময় অজান্তে কামড় লাগলেও এই আলসার হতে পারে। সাধারণত এটি ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে সামান্য ব্যথা কমাতে জেল বা মাউথওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে।” তবে সব ক্ষত নিরাপদ নয়। কিছু ক্ষত গুরুতর রোগের লক্ষণও হতে পারে, যেমন টিউবারকুলাস, সিফিলিস বা ‘প্রি-ম্যালিগন্যান্ট লেসন’—যা ক্যানসারের পূর্বাবস্থা হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে লিউকোপ্লাকিয়া (সাদা ঘা), এরিথ্রোপ্লাকিয়া (লাল ঘা), লাইকেন প্ল্যানাস এবং ওরাল সাবমিউকাস ফাইব্রোসিস (ওএসএমএফ) উল্লেখযোগ্য। ওএসএমএফ প্রধানত সুপারির কারণে হয়। যারা দীর্ঘ সময় মুখে সুপারি বা পান-সুপারি রাখে, তাদের মুখের ভেতরের ঝিল্লি শক্ত হয়ে যায়। এতে মুখ খোলা কঠিন হয়ে যায় এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা থাকলেও ক্ষত নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে যায়। মুখের ক্যানসারের প্রধান কারণ হলো চিবিয়ে খাওয়া তামাকজাত দ্রব্য—যেমন গুল, জর্দা, খৈনি, ধূমপান এবং অ্যালকোহল। একাধিক অভ্যাস একসঙ্গে থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এছাড়াও হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) থেকেও মুখের ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়ে। দাঁতের খেয়াল না রাখাও ঝুঁকি বাড়ায়। ভাঙা বা ধারালো দাঁত জিহ্বা বা গালে ঘষে ক্ষত তৈরি করতে পারে। একইভাবে আলগা দাঁতও ঘষে ক্ষত দিতে পারে। এছাড়া পুষ্টিহীনতা, বিশেষ করে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ শাক-সবজি ও ফলের অভাব, মুখের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। সংক্ষেপে, ছোট ক্ষতও উপেক্ষা করা উচিত নয়। নিয়মিত দাঁতের যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সময়মতো চিকিৎসা মুখের ক্যানসার রোধে সাহায্য করতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here