ছুটির আমেজ কাটেনি, রাজধানীর বাজারে ক্রেতা কম, বেচাকেনায় ভাটা

0
24

দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটির প্রভাব এখনো কাটেনি রাজধানী ঢাকায়। অনেক মানুষ এখনো ঢাকার বাইরে থাকায় বাজারগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। এতে নিত্যপণ্যের চাহিদা কমার পাশাপাশি খুচরা বাজারে বেচাকেনাও ঢিলেঢালা হয়ে পড়েছে। তবে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় কয়েক ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে, কমেছে ডিম ও পেঁয়াজের দাম। আর সয়াবিন তেলের বোতল কিনতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন ক্রেতারা।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

শনিরআখড়া বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. ইদ্রিস হাওলাদার বলেন, সাধারণত শুক্রবার বাজারে মাছের চাহিদা বেশি থাকে। এ কারণে এদিন বেশি মাছ আনা হয় এবং দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। কিন্তু গতকাল শুক্রবার বাজারে ক্রেতা কম ছিল। ছুটিতে অনেকেই ঢাকার বাইরে থাকায় ব্যবসায় এর প্রভাব পড়েছে। অল্পস্বল্প বিক্রি হলেও দিনের বেশির ভাগ সময় অলস বসে থাকতে হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা মো. সাজ্জাদও জানান, অন্য শুক্রবারের তুলনায় ক্রেতা কম থাকায় বেচাকেনা চলছে ধীরগতিতে। তবে চাহিদা কম থাকা এবং শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় কয়েক ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েক ধরনের সবজির দাম কমেছে। শিমের কেজি ১২০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা এবং বেগুনের কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটোল ও ঢ্যাঁড়শের কেজি নেমে এসেছে ৬০ টাকায়। কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে।

অন্যদিকে বরবটি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখী ও লতির কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলার দামও আগের মতো রয়েছে। পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম অপরিবর্তিত থেকে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নতুন ওঠা ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন আলুর দামও চড়া, প্রতি কেজি ১৮০ টাকা।

সবজি বিক্রেতারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শীতকালীন সবজির সরবরাহ আরও বাড়বে। এতে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে পরিবহন ভাড়া বেশি থাকায় উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়লেও ভোক্তারা কতটা সুফল পাবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাঁদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ন্ত্রণ করা গেলে শীতকালীন সবজির দাম আরও কমানো সম্ভব।

মুরগির বাজারে ব্রয়লার ছাড়া অন্যান্য মুরগির দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায়। গত সপ্তাহে এ দাম ছিল ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা।

অন্যদিকে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে ফার্মের বাদামি ডিমের প্রতি ডজন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাদা ডিমের ডজন মিলছে ১৩০ টাকায়।

ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকলেও মাছের বাজারে অধিকাংশ মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিক্রেতাদের দাবি, চাহিদা কম থাকায় কিছু মাছের দাম সামান্য কমেছে।

বাজারে দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে তেলাপিয়ার কেজি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা এবং পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা। পাবদা মাছের কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পুঁটি ৫০০ টাকা, শোল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং টেংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চিংড়ির দাম রয়েছে প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। জাত ও আকারভেদে এর দাম আরও বেশি হতে পারে। অন্যান্য মাছের দামেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।

চালের বাজারে আগের দামের তেমন পরিবর্তন হয়নি। তবে সুগন্ধি চাল এখনো তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। আগে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। নতুন আলুর সরবরাহ শুরু হওয়ায় পুরোনো আলুর দামও কমেছে। বর্তমানে পুরোনো আলু প্রতি কেজি ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভোজ্য তেলের বাজারে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, দাম বাড়ানোর পরও বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়। ফলে প্রয়োজনীয় বোতল কিনতে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

রাজধানীর কদমতলী সাদ্দাম মার্কেটের খুচরা বিক্রেতা মো. মিলন হোসেন বলেন, দাম বাড়লেও সরবরাহ প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি। কোম্পানিগুলো সরবরাহ বাড়াচ্ছে না বলে তাঁর অভিযোগ। পাশাপাশি বেশি দামে তেল কিনতে হওয়ায় প্রতি লিটারে এক টাকা লাভ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। খোলা তেলও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

একই এলাকার বিক্রেতা মো. খোকন মিয়া বলেন, সয়াবিন তেল কিনতে গেলে কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অন্য পণ্যও নিতে হয়। তেলের দাম বেশি হওয়ায় তাঁদের লাভ থাকছে না। এ কারণে তিনি সয়াবিন তেলের অর্ডার দেওয়া বন্ধ রেখেছেন। বর্তমানে তাঁর দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই।

এলাকার বাসিন্দা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, দুই লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল কিনতে তাঁকে অন্তত তিনটি দোকানে যেতে হয়েছে। কোনো দোকানে পাঁচ লিটারের বোতল থাকলেও দুই লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কোনো দোকানে কোনো বোতলই নেই বলে জানানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, সয়াবিন তেল কিনতে এ ধরনের ভোগান্তির অবসান হওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, ছুটির আমেজে রাজধানীর বাজারে ক্রেতা কম থাকায় বেচাকেনা কমেছে। কয়েক ধরনের সবজির দাম কমলেও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। পাশাপাশি বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here