বিদেশি কার্ডের আয়ের ১৫ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় রাখতে পারবেন ব্যবসায়ীরা

0
28

বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক কার্ডসহ অনুমোদিত পরিশোধ ব্যবস্থায় পণ্য ও সেবা বিক্রি করে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে রাখতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। অবশিষ্ট ৮৫ শতাংশ অর্থ বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করতে হবে। সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা বৈধ বিদেশি দায় পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-২ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। দেশের সব অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংককে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, বিপণি-বিতান, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাবে। বিদেশি দর্শনার্থীদের আন্তর্জাতিকভাবে ইস্যু করা কার্ড কিংবা অন্য অনুমোদিত পরিশোধ ব্যবস্থায় পণ্য ও সেবা বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ নিজেদের হিসাবে সংরক্ষণ করা যাবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ১৫ শতাংশের বেশি হিসাবে রাখতে পারবে না। অর্থাৎ, ১০০ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হলে সর্বোচ্চ ১৫ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ করা যাবে। বাকি ৮৫ টাকার সমপরিমাণ অর্থ স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তর করতে হবে।

তবে সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব অর্থ চলতি হিসাবের আওতাভুক্ত বৈধ বৈদেশিক দায় পরিশোধে ব্যয় করা যাবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে করা অনুমোদিত পরিশোধও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ সুবিধা গ্রহণ করলেও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযোজ্য কর ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) যথাযথভাবে পরিশোধ করতে হবে। এসব অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে অনুমোদিত ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক কার্ড ও অন্যান্য অনুমোদিত পরিশোধ ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান ও লেনদেনের যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করতে হবে।

বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি অর্থপাচার ও অবৈধ অর্থের প্রবাহ ঠেকাতে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রতিবেদন দাখিলসহ বিদ্যমান বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে অনুমোদিত ব্যাংকগুলোকে।

ব্যাংকগুলোকে লেনদেনের ধরন, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করতে হবে। কোনো সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হলে প্রচলিত বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা এবং বিভিন্ন সেবা গ্রহণে উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি অংশ সংরক্ষণের সুযোগ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ বিদেশি দায় পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে।

বিশেষ করে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এ সুবিধার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বাড়তি নমনীয়তা পাবে। একই সঙ্গে বিদেশি গ্রাহকদের জন্য আন্তর্জাতিক কার্ডভিত্তিক লেনদেনের সুবিধা সম্প্রসারণেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় বিভিন্ন বৈধ লেনদেনের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছ থেকে পণ্য ও সেবা বিক্রির অর্থের একটি অংশ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হলো।

প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে অবহিত করতেও অনুমোদিত ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here