কর্ণফুলীর বালুমহল নিয়ে বিস্ফোরক জনস্বার্থের প্রশ্ন

0
26

লবণাক্ত বালু দিয়ে ভবন নির্মাণের অভিযোগ: বন্দর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের ইজারাকৃত বালুর জরুরি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চাই
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন
-অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:
কর্ণফুলী নদী কি শুধু বালু উত্তোলন, ইজারা ও বাণিজ্যের উৎস? এই নদী থেকে উত্তোলিত বালু দিয়ে যদি মানুষের বসতবাড়ি, বহুতল ভবন, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মিত হয়, তাহলে সেই বালুর গুণগত মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার? বালুতে ক্ষতিকর মাত্রায় লবণ থাকলে তার দায় কে নেবে? আর পরীক্ষা ছাড়াই যদি অনুপযুক্ত বালু নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হয়, তাহলে সম্ভাব্য ঝুঁকির দায় এড়ানোর সুযোগ কি কারও রয়েছে?
চট্টগ্রামের জনস্বার্থে আজ এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। এটি কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের প্রশ্ন নয়, কোনো ইজারাদারের বিরুদ্ধে আগাম অপরাধের রায়ও নয়। এটি মানুষের জীবন, সম্পদ, নিরাপদ আবাসন এবং নগরীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষার প্রশ্ন।
কর্ণফুলী নদীতে সমুদ্রের জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। নদীর বিভিন্ন অংশে মৌসুম ও জোয়ারভাটার প্রভাবে পানির লবণাক্ততা পরিবর্তিত হতে পারে। এই বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ইজারাকৃত বিভিন্ন বালু উত্তোলন ব্লক এবং জেলা প্রশাসনের ইজারাকৃত কর্ণফুলী, রাউজান ও নোয়াপাড়া এলাকার বালুমহল ১ ও ২ থেকে উত্তোলিত বালুর গুণগত মান নিয়ে নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক তদন্তের দাবি উঠেছে।
আমাদের স্পষ্ট দাবি—পরীক্ষা ছাড়া নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়, অনুমানের ভিত্তিতে অপরাধের অভিযোগও নয়; চাই স্বচ্ছ পরীক্ষা, প্রকাশ্য প্রতিবেদন এবং প্রমাণের ভিত্তিতে কার্যকর সরকারি সিদ্ধান্ত।
বালুর লবণাক্ততা: অবহেলা করলে ঝুঁকি কার?
নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালুর মধ্যে দ্রবণীয় ক্লোরাইডের পরিমাণ বেশি থাকলে রডযুক্ত কংক্রিটে ইস্পাতের ক্ষয় ও মরিচা ধরার ঝুঁকি বাড়তে পারে। সালফেটসহ অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদানও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কংক্রিটের স্থায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বালুর দানার আকার, পলি, মাটি এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যও নির্মাণের মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
অতএব, নদীর বালু দেখতে পরিষ্কার হলেই তা নিরাপদ—এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। আবার নদীর পানি লবণাক্ত হলেই প্রতিটি বালুমহলের সব বালু অনিরাপদ, এমন সিদ্ধান্তও বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রয়োজন হচ্ছে প্রতিটি বালুমহল থেকে যথাযথ পদ্ধতিতে নমুনা সংগ্রহ, স্বীকৃত পরীক্ষাগারে ক্লোরাইড ও সালফেটের পরিমাণ নির্ধারণ এবং প্রযোজ্য নির্মাণমান অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্যতা যাচাই।
যদি কোনো বালু নির্দিষ্ট নির্মাণকাজের জন্য অনুপযোগী প্রমাণিত হয়, তবে সেই বালু দিয়ে ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়া উচিত কি না, সরবরাহ ও বিক্রি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং ইতিমধ্যে ব্যবহৃত বালুর ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা প্রয়োজন—এসব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দিতে হবে।
মানুষ সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে একটি বাড়ি নির্মাণ করে। সেই বাড়ির ভিত্তি, বিম, কলাম কিংবা ছাদের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাই করা সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, প্রকৌশলী, নির্মাতা ও সরবরাহকারীদের দায়িত্বের অংশ।
বন্দর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের কাছে সরাসরি প্রশ্ন
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ইজারাকৃত প্রতিটি বালু উত্তোলন ব্লক এবং জেলা প্রশাসনের আওতাধীন সংশ্লিষ্ট বালুমহল নিয়ে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন।
প্রথম প্রশ্ন: উত্তোলিত বালু নির্মাণকাজে ব্যবহারের উপযোগী কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য কোনো নিয়মিত পরীক্ষাব্যবস্থা রয়েছে কি?
দ্বিতীয় প্রশ্ন: বালুর দ্রবণীয় ক্লোরাইড, সালফেট, পলি এবং দানার আকার নিয়ে সাম্প্রতিক কোনো পরীক্ষার প্রতিবেদন আছে কি? থাকলে সেই প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে কি?
তৃতীয় প্রশ্ন: বালু উত্তোলনের অনুমতি ও ইজারার শর্তে পরিবেশগত সুরক্ষা, উত্তোলনের সীমা এবং অন্যান্য বাধ্যবাধকতা কীভাবে তদারক করা হচ্ছে?
চতুর্থ প্রশ্ন: পরীক্ষায় কোনো বালু নির্দিষ্ট নির্মাণকাজের জন্য অনুপযোগী প্রমাণিত হলে তার সরবরাহ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কোন সংস্থা পালন করবে?
পঞ্চম প্রশ্ন: ইতিমধ্যে সেই বালু দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মিত হয়ে থাকলে, বিশ্বাসযোগ্য ঝুঁকির তথ্য পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রকৌশলগত মূল্যায়নের ব্যবস্থা কে করবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর চাওয়া কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ নয়। বরং স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বাভাবিক দাবি।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কি নীরব দর্শক থাকবেন?
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের প্রতি আমাদের বিশেষ আহ্বান—নগরীর পরিকল্পিত উন্নয়ন ও নিরাপদ নির্মাণের স্বার্থে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখুন।
বালুমহলের ইজারা প্রদান ও নদী থেকে বালু উত্তোলনের বৈধতা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট আইনগত কর্তৃপক্ষের। কিন্তু অনুমোদিত ভবন নির্মাণ, প্রযোজ্য নির্মাণবিধি অনুসরণ এবং নির্মাণসামগ্রীর উপযোগিতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রাসঙ্গিক ভূমিকা রয়েছে।
তাই চেয়ারম্যানের কাছে দাবি, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও পরীক্ষাগারের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্ণফুলীর বালুমহলগুলোর বালুর গুণগত মান পরীক্ষার উদ্যোগ গ্রহণে ভূমিকা রাখুন।
শুধু ভবনের নকশা অনুমোদন নয়, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নির্মাণসামগ্রীর পরীক্ষার প্রতিবেদন যাচাই এবং প্রযোজ্য বিধি অনুসারে তদারকি জোরদার করা দরকার। কোনো নির্দিষ্ট ভবন বা প্রকল্পে অনুপযুক্ত বালু ব্যবহারের বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে আমাদের প্রশ্ন—কর্ণফালীর বালুর মান যাচাইয়ের একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব কি না, যাতে বালুর উৎস থেকে শুরু করে নির্মাণস্থলে ব্যবহার পর্যন্ত গুণগত মানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা যায়?
এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্মাণসামগ্রীর নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগের বাস্তবসম্মত সমাধান সম্ভব।
বুয়েটের মাধ্যমে পরীক্ষা হোক: সরকারি উদ্যোগে নিরপেক্ষ তদন্ত চাই
এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হচ্ছে কথার লড়াই নয়, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের উপযুক্ত পরীক্ষাগার অথবা সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা করার সক্ষমতাসম্পন্ন অন্য কোনো স্বীকৃত পরীক্ষাগারের মাধ্যমে কর্ণফালীর বালুমহলগুলো থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।


পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন:
বালুতে দ্রবণীয় ক্লোরাইডের পরিমাণ।
সালফেট ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ক্ষতিকর উপাদান।
পলি, কাদা ও দানার আকারের বণ্টন।
বালুর নমুনা কোন ব্লক, স্থান ও গভীরতা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে তার পূর্ণ বিবরণ।
প্রযোজ্য নির্মাণমান অনুযায়ী বালু কোন কাজে ব্যবহারযোগ্য এবং কোন কাজে অনুপযোগী, সে বিষয়ে প্রকৌশলগত মতামত।
প্রয়োজন অনুযায়ী শুষ্ক ও বর্ষা মৌসুমে পৃথক পরীক্ষা।
নমুনা সংগ্রহে ইজারাদার, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, স্বাধীন প্রকৌশলী এবং প্রয়োজন হলে সাংবাদিক প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিত করা যেতে পারে। নমুনা সিলগালা, শনাক্তকরণ নম্বর প্রদান এবং পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রতিটি ধাপ নথিভুক্ত করা হলে ফলাফল নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক কমবে।
পরীক্ষার প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হোক। জনগণ জানুক, কোন বালু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, কোন বালুর আরও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রয়োজন এবং কোন বালু নির্দিষ্ট নির্মাণকাজে ব্যবহারযোগ্য নয়।
যে বালু নিরাপদ, পরীক্ষা তার পক্ষে কথা বলবে। যে বালু অনুপযোগী, পরীক্ষাও তার বাস্তবতা প্রকাশ করবে।
সরকারকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে
আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে জনস্বার্থে সমন্বিত পদক্ষেপ দাবি করছি।
প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি ইজারাকৃত ব্লক ও বালুমহলের তালিকা, ইজারার শর্ত, অনুমোদিত উত্তোলনসীমা এবং বিদ্যমান পরীক্ষার প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হোক। এরপর স্বাধীনভাবে নমুনা পরীক্ষা করে ফল প্রকাশ করা হোক।
পরীক্ষায় কোনো বালু প্রযোজ্য মান পূরণে ব্যর্থ হলে সেই বালুর নির্দিষ্ট নির্মাণকাজে ব্যবহার ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। গুরুতর পরিবেশগত ক্ষতি, অবৈধ উত্তোলন বা ইজারার শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিক। প্রয়োজন ও আইনি ভিত্তি থাকলে উত্তোলন স্থগিত বা ইজারা বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনা করা হোক।
একই সঙ্গে ইতিমধ্যে ব্যবহৃত বালু নিয়ে নির্দিষ্ট ঝুঁকির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রকৌশলগত মূল্যায়ন করা হোক। আতঙ্ক সৃষ্টি নয়, ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধই হোক সরকারি উদ্যোগের লক্ষ্য।
জনস্বার্থে আমাদের সাত দফা দাবি
এক. বন্দর কর্তৃপক্ষের ইজারাকৃত প্রতিটি বালু উত্তোলন ব্লক এবং জেলা প্রশাসনের ইজারাকৃত কর্ণফুলী, রাউজান ও নোয়াপাড়া এলাকার বালুমহল ১ ও ২-এর বালুর নমুনা পরীক্ষা করতে হবে।
দুই. বুয়েট অথবা উপযুক্ত স্বীকৃত পরীক্ষাগারের মাধ্যমে নিরপেক্ষ পরীক্ষা করিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।
তিন. চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে নিরাপদ নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের তদারকি জোরদার করতে হবে।
চার. পরীক্ষায় অনুপযোগী প্রমাণিত বালুর নির্দিষ্ট নির্মাণকাজে ব্যবহার বন্ধ বা সীমিত করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে।
পাঁচ. নদীর তীর, নাব্যতা, সেতু, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বালু উত্তোলনের প্রভাব যাচাই করতে হবে।
ছয়. ইজারা, অনুমোদন ও উত্তোলনের শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাত. পরীক্ষার ফল, তদন্তের অগ্রগতি এবং গৃহীত প্রশাসনিক ব্যবস্থা জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।
শেষ কথা: মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে অবহেলার সুযোগ নেই
কর্ণফুলী নদী চট্টগ্রামের অর্থনীতি, পরিবেশ ও নগরজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই নদীর বালু উত্তোলন ও ব্যবহার নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। আবার পরীক্ষার ফল ছাড়া সব বালু অনিরাপদ ঘোষণা করাও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
আমাদের দাবি পরিষ্কার—কর্ণফালীর বালুমহলগুলোর বালু পরীক্ষা করুন, ফলাফল প্রকাশ করুন, নিরাপত্তার মান নিশ্চিত করুন এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন।
সরকারি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব কেবল ইজারা দেওয়া বা রাজস্ব আদায়েই শেষ নয়; আইনগত দায়িত্বের আওতায় পরিবেশ, নদী এবং জননিরাপত্তার সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে নির্মাণসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে প্রযোজ্য মান পূরণকারী উপকরণ ব্যবহার করা।
আমরা চাই না, কোনো ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তদন্ত শুরু হোক। চাই, ঝুঁকি থাকলে তা আগেই শনাক্ত করা হোক। আমরা চাই না, জনমনে উদ্বেগ বাড়লেও কর্তৃপক্ষের কাছে পরীক্ষার ফল অপ্রকাশিত থাকুক। চাই, প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মানুষের আস্থা প্রতিষ্ঠিত হোক।
কর্ণফালীর বালুমহল নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল, বন্দর কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান—জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিন, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার উদ্যোগ নিন এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।
জনগণের নিরাপত্তার প্রশ্নে নীরবতা নয়, চাই স্বচ্ছতা। অনুমান নয়, চাই বিজ্ঞান। অভিযোগ নয়, চাই প্রমাণ। আর প্রমাণিত অনিয়মের ক্ষেত্রে চাই কার্যকর জবাবদিহি।
সত্য উদ্‌ঘাটিত হোক, নিরাপদ নির্মাণ নিশ্চিত হোক, কর্ণফালীর জনস্বার্থ রক্ষিত হোক।
— মো. কামাল উদ্দিন
লেখক, সাংবাদিক ও গবেষক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here