
চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান: ২টি নোহা মাইক্রোবাস ও ৬ লাখ টাকা মূল্যের ব্যাটারি উদ্ধার
চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল অপারেটর কোম্পানির টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির অভিযোগে আন্তজেলা চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ভুজপুর থানা পুলিশ। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ও কুমিল্লার লাকসামে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত দুটি নোহা মাইক্রোবাস, দুটি ভিশন ৪৮ ভোল্ট ১০০ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার ব্যাটারি এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ব্যাটারির বাজারমূল্য প্রায় ছয় লাখ টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট ভোরে ফটিকছড়ির ভুজপুর থানাধীন হেঁয়াকো বাজারে গ্রামীণফোনের একটি মোবাইল টাওয়ারের বিটিএস (BTS) কক্ষের লক গার্ড ভেঙে চারটি ব্যাটারি চুরি করে দুর্বৃত্তরা। এর কয়েক দিন আগে একই থানার গার্ডের বাজার এলাকার আরেকটি টাওয়ার থেকে ছয়টি ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ গত ৭ অক্টোবর ভুজপুর থানায় মামলা দায়ের করে।
মামলার তদন্তে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনায় ভুজপুর থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সোহাগ (৩৪), সাহিদ হোসেন প্রকাশ শিবলু (৩২), মো. শামসুদ্দিন (৪১), মো. মোজাম্মেল হক (৩২) ও মো. ইউনুস (৪২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি নোহা মাইক্রোবাস উদ্ধার করে পুলিশ।

পরবর্তীতে ২৮ অক্টোবর আদালতের অনুমতিক্রমে গ্রেপ্তার পাঁচজনকে দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩০ অক্টোবর কুমিল্লার লাকসাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরেক সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন (৪৪)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বাড়ি থেকে আরও একটি নোহা মাইক্রোবাস ও দুটি চোরাই ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার নাউটি এলাকার মো. সোহাগ, ঢাকার কেরানীগঞ্জের নুরার চর এলাকার সাহিদ হোসেন প্রকাশ শিবলু, লাকসামের নাউটি এলাকার মো. শামসুদ্দিন ও মো. মোজাম্মেল হক, কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ঘোষগাঁও এলাকার মো. ইউনুস এবং লাকসাম পৌরসভার পশ্চিম গাঁ (ঠাকুরপাড়া) এলাকার মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ আন্তজেলা চক্রের সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে দুটি নোহা মাইক্রোবাস, প্রায় ছয় লাখ টাকা বাজারমূল্যের দুটি ভিশন ৪৮ ভোল্ট ১০০ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার ব্যাটারি এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য সরঞ্জাম।

চুরি যাওয়া অবশিষ্ট ব্যাটারি উদ্ধার এবং এ চক্রের সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

