
-মো.কামাল উদ্দিনঃ
ব্যবসায়ী জাকির হোসেনের ওপর হত্যাচেষ্টা, মারধর ও পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ” অভিযুক্তদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা নেই, ভিডিও ফুটেজেই বেরিয়ে আসবে প্রকৃত সত্য
নেপথ্যে ৫০ লাখ টাকার সিগারেট লুণ্ঠনের বিরোধ? -মানববন্ধনের প্রস্তুতি, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজের অনুসন্ধান চলছেঃ
চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র রিয়াজ উদ্দিন বাজারে ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীর ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। রাতের আঁধারে পথরোধ করে মারধর, গলা চেপে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যাচেষ্টা, মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম এবং ব্যবসায়িক কাজে বহন করা পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের
করেছেন ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন।
এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচ থেকে ছয়জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। কোতোয়ালী থানা, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের মামলা নম্বর ৪, তারিখ ২ নভেম্বর ২০২৬।
তবে মামলায় নাম উল্লেখ করা অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, জাকির হোসেনের ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই এবং ঘটনার সময় তাঁরা কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। প্রকৃতপক্ষে কারা হামলা করেছে, তা ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই শনাক্ত করা সম্ভব বলে তাঁরা দাবি করছেন। এ-সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ তাঁরা চট্রল চিত্র মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজের কার্যালয়ে জমা দিয়ে নিজেদের বক্তব্যও উপস্থাপন করেছেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে অভিযুক্তদের বক্তব্যে উঠে এসেছে প্রায় ৫০ লাখ টাকার সিগারেট আত্মসাৎ বা লুণ্ঠনের একটি পূর্ববর্তী ঘটনা। তাঁদের দাবি, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বর্তমান বিরোধের সূত্রপাত। বাজারের বিভিন্ন অনিয়ম ও
অপকর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেছেন।
একদিকে গুরুতর আহত এক ব্যবসায়ীর হত্যাচেষ্টা ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার এবং পাল্টা অভিযোগ। সব মিলিয়ে রিয়াজ উদ্দিন বাজারের ব্যবসায়িক পরিবেশ, অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
গভীর রাতে তিন পুলের মাথায় পথরোধ করে হামলার অভিযোগ
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার তারিখ ১ নভেম্বর ২০২৬, রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিট। স্থান নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন গোলাম রসুল মার্কেটের বিপরীত পাশে তিন পুলের মাথায় মালঞ্চ ঝাল বিতানের সামনে পাকা রাস্তা।
মামলার বাদী মো. জাকির হোসেন (৫২) রিয়াজ উদ্দিন বাজারের পান বাজার এলাকায় জাকির স্টোর নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওয়ান টাইম প্যাকেজিং পণ্যের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসায়িক সূত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও লেনদেনের সম্পর্ক ছিল। অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে ওয়ান টাইম প্যাকেজিং পণ্য ক্রয় করতেন। কিন্তু একপর্যায়ে বাজারের এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
জাকির হোসেনের অভিযোগ, প্রথম অভিযুক্ত মো. জসিম উদ্দিন প্রকাশ আরমান তাঁকে এবং রিয়াজ উদ্দিন বাজারের অন্যান্য ওয়ান টাইম প্যাকেজিং ব্যবসায়ীকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে পুরো ব্যবসা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশায় রিয়াজ উদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। কিন্তু অভিযুক্তদের অসহযোগিতার কারণে বিরোধের নিষ্পত্তি সম্ভব হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর আরও অভিযোগ, এরপর থেকে প্রথম অভিযুক্তের প্ররোচনা ও উসকানিতে অন্য অভিযুক্তরা তাঁকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি প্রদানসহ একাধিকবার মারধরের চেষ্টা করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার রাতে ব্যবসায়িক কাজ
শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় ফেরার পথে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর গতিরোধ করেন।
এজাহারে সংঘবদ্ধ হামলা, শ্বাসরোধ ও মাথায় আঘাতের বর্ণনা
এজাহারের বিস্তারিত বিবরণে বাদী অভিযোগ করেন, প্রথম অভিযুক্তের নির্দেশে দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ অভিযুক্তসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তি বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
এ সময় তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে দ্বিতীয় অভিযুক্ত তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাঁর পরিহিত গেঞ্জির কলার ধরে টানাহেঁচড়া করে মারধর করেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। হামলার একপর্যায়ে মাথায় আঘাতের কারণে তাঁর কপালে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, চতুর্থ অভিযুক্ত
তাঁর ব্যবসায়িক কাজে বহন করা নগদ পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যান। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে বাদী দাবি করেছেন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বাক্ষরিত এজাহার, থানায় মামলা
আহত জাকির হোসেন এজাহারে উল্লেখ করেছেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তিনি নিজে থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি। তাঁর ভগ্নিপতি মো. মানিকের মাধ্যমে স্বাক্ষরিত এজাহার থানায় পাঠানো হয়।
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে কোতোয়ালী থানায় মামলা নম্বর ৪ হিসেবে মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের
বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩০৭, ৩২৬, ৩৭৯ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এখানে উল্লেখ্য, এজাহারে বর্ণিত অভিযোগগুলো এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত নয়। মামলার তদন্ত, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
অভিযুক্তদের পাল্টা বক্তব্য, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা অস্বীকার
ঘটনার পর চট্রল চিত্র মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলে মামলায় নাম উল্লেখ করা কয়েকজন অভিযুক্ত নিজেদের বক্তব্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমটির কার্যালয়ে উপস্থিত হন।
তাঁরা দাবি করেন, জাকির হোসেনের ওপর হামলার সঙ্গে তাঁদের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। ঘটনার সময় তাঁরা কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয় এবং তাঁদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য, প্রকৃতপক্ষে কারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, কারা হামলা করেছেন এবং কীভাবে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে, তা ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা
করলেই পরিষ্কার হবে।
তাঁরা আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ভিডিও ফুটেজ তাঁদের কাছে রয়েছে এবং তা চট্রল চিত্র মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজে জমা দিয়েছেন। তাঁদের অনুরোধ, ভিডিও ফুটেজের সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরা হোক।
তবে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে ফুটেজের মূল উৎস, সময়, স্থান ও সম্পূর্ণতা যাচাই না করে এর ভিত্তিতে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হচ্ছে না।
৫০ লাখ টাকার সিগারেট লুণ্ঠনের ঘটনা, বিরোধের নেপথ্যে কি অন্য কোনো কারণ?
অভিযুক্তদের বক্তব্যে উঠে এসেছে রিয়াজ উদ্দিন বাজারের প্রায় ৫০ লাখ টাকার সিগারেট আত্মসাৎ বা লুণ্ঠনের একটি পূর্ববর্তী ঘটনা।
তাঁদের দাবি, ওই ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই ঘটনার বিরোধ থেকেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্তদের অভিযোগ, বাজারের বিভিন্ন অনিয়ম, অসংগতি ও অপকর্মের বিরুদ্ধে তাঁরা সোচ্চার হয়েছেন। এ কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁদের বিরাগভাজন
হয়েছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় তাঁদের বিরুদ্ধে বর্তমান মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে ৫০ লাখ টাকার সিগারেট-সংক্রান্ত ঘটনার সুনির্দিষ্ট মামলা নম্বর, বাদী, অভিযুক্ত, তদন্তের বর্তমান অবস্থা এবং ওই ঘটনার সঙ্গে জাকির হোসেনের ওপর হামলার কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই দুটি ঘটনার মধ্যে প্রকৃত সম্পর্ক থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী মামলার নথি ও বর্তমান মামলার অভিযোগ পাশাপাশি পর্যালোচনা করলে ব্যবসায়িক বিরোধের প্রকৃত ধারাবাহিকতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
রিয়াজ উদ্দিন বাজার বণিক সমিতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক ঐতিহ্যের অন্যতম কেন্দ্র রিয়াজ উদ্দিন বাজার। প্রতিদিন অসংখ্য ব্যবসায়ী, ক্রেতা, সরবরাহকারী ও শ্রমজীবী মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে এই বাজার। এখানে ব্যবসায়িক বিরোধ কিংবা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে সহিংসতার অভিযোগ উঠলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে চলে
আসে।
জাকির হোসেনের এজাহারে বণিক কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্তরা বাজারের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এ অবস্থায় বণিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য জানা জরুরি। ব্যবসায়িক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সমিতির ভূমিকা কী ছিল, পূর্ববর্তী অভিযোগগুলো কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল এবং বর্তমান ঘটনায় সংগঠনটির অবস্থান কী, তা জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন।
একটি বাণিজ্যিক বাজারে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মানববন্ধনের প্রস্তুতি, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। আয়োজকদের বক্তব্য, তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং কেউ মিথ্যা অভিযোগে হয়রানির শিকার হয়ে থাকলে তার প্রতিকার চান।
তাঁদের মতে, ব্যবসায়িক বিরোধের আড়ালে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একইভাবে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হয়ে থাকলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা জরুরি।
মানববন্ধনের তারিখ, স্থান ও বিস্তারিত কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলে তা জানানো হবে। তবে এ কর্মসূচি যেন কোনো ব্যক্তিকে আগাম অপরাধী সাব্যস্ত করার কিংবা তদন্তকে প্রভাবিত করার মাধ্যম না হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসার নথি হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ
এই ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রথমত, ঘটনার সময়কার মূল সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগতভাবে যাচাই করতে হবে। শুধু একটি ক্যামেরার দৃশ্য নয়, আশপাশের একাধিক ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, অভিযুক্তদের জমা দেওয়া ভিডিও ফুটেজের মূল উৎস, ধারণের সময়, স্থান এবং সম্পাদনার কোনো
চিহ্ন রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি।
তৃতীয়ত, আহত জাকির হোসেনের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি, আঘাতের প্রকৃতি এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বিবেচনায় নিতে হবে।
চতুর্থত, ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী, উদ্ধারকারী ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
পঞ্চমত, পাঁচ লাখ টাকা বহনের বিষয়ে প্রাসঙ্গিক তথ্য এবং অর্থ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা যাচাই করতে হবে।
ষষ্ঠত, ৫০ লাখ টাকার সিগারেট-সংক্রান্ত পূর্ববর্তী মামলার নথি সংগ্রহ করে বর্তমান ঘটনার সঙ্গে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
এসব তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করা গেলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে প্রকৃত ঘটনার একটি নির্ভরযোগ্য চিত্র পাওয়া সম্ভব।
সত্য উদঘাটনে মাঠে সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজের একাধিক প্রতিনিধি
ঘটনার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, ব্যবসায়িক বিরোধের নেপথ্যের কারণ এবং ভিডিও ফুটেজ নিয়ে উত্থাপিত
দাবির সত্যতা অনুসন্ধানে সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজের একাধিক প্রতিনিধি মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছেন।
এই অনুসন্ধানের লক্ষ্য শুধু একটি হামলার অভিযোগ প্রকাশ করা নয়; বরং ঘটনার পূর্বাপর ইতিহাস, ব্যবসায়িক বিরোধের প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান এবং প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ, ভিডিও ফুটেজের উৎস ও সত্যতা যাচাই, হাসপাতালের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বক্তব্য গ্রহণ করা হচ্ছে।
পাশাপাশি ৫০ লাখ টাকার সিগারেট-সংক্রান্ত পূর্ববর্তী মামলার নথি, রিয়াজ উদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির ভূমিকা এবং কোতোয়ালী থানা পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি জানার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের বক্তব্য, প্রাসঙ্গিক দলিল, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য এবং যাচাইযোগ্য আলামতের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সরেজমিন অনুসন্ধানী
প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
কোনো পক্ষের বক্তব্যকে এককভাবে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা নয়, বরং তথ্যপ্রমাণের আলোকে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরাই এই অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য।
শেষ কথা: অপরাধী যে-ই হোক, আইনের আওতায় আসুক
রিয়াজ উদ্দিন বাজারের এই ঘটনা আমাদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে। ব্যবসায়িক বিরোধ কি সহিংসতায় রূপ নিয়েছে? একজন ব্যবসায়ী সত্যিই সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছেন কি না? তাঁর সঙ্গে থাকা পাঁচ লাখ টাকা কোথায় গেল? ভিডিও ফুটেজে কী রয়েছে? প্রায় ৫০ লাখ টাকার সিগারেট-সংক্রান্ত পূর্ববর্তী ঘটনার সঙ্গে বর্তমান বিরোধের কোনো সম্পর্ক আছে কি না? বাজারের ব্যবসায়িক পরিবেশে বিরোধ নিষ্পত্তিতে দায়িত্বশীল সংগঠনগুলোর ভূমিকা কী ছিল?
এসব প্রশ্নের উত্তর অনুমান, আবেগ কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা যাবে না। প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য এবং প্রযুক্তিগত আলামতের যথাযথ বিশ্লেষণ।
একজন আহত ব্যবসায়ীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যেমন
জরুরি, তেমনি অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি না করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আইনের শাসনে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয়েরই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজ মনে করে, সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব কোনো পক্ষের হয়ে কথা বলা নয়; বরং সত্যের অনুসন্ধান করা, জনস্বার্থের প্রশ্নে দায়িত্বশীল থাকা এবং তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা।
আমাদের প্রত্যাশা, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে, ভিডিও ফুটেজসহ সব ধরনের আলামত যাচাই করা হবে এবং প্রকৃত অপরাধী যে-ই হোক, তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানি ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা কোনো পক্ষের নই, আমরা সত্যের পক্ষে।
সত্যের সন্ধানে, জনস্বার্থের পক্ষে।
— সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজ

