প্রদীপ দেওয়ানজীর জন্মদিনে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভকামনা চট্টগ্রামের নাট্যাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নন্দন আলো

0
13
মো. কামাল উদ্দিন
কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা নিজের আলোয় শুধু আলোকিত হন না, বরং তাঁদের সৃজনশীলতা, মনন ও কর্মের মধ্য দিয়ে আলোকিত করেন চারপাশের মানুষকেও। প্রদীপ দেওয়ানজী তেমনই একজন মানুষ। চট্টগ্রামের নাট্যাঙ্গন, সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি যে নিষ্ঠা, মেধা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন, তা নিঃসন্দেহে শ্রদ্ধার দাবিদার।
আজ তাঁর জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে আমাদের সবার প্রিয় প্রদীপ দা’র প্রতি জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা, অফুরন্ত ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা।
প্রদীপ দেওয়ানজী কেবল একজন নাট্যকার কিংবা নির্দেশক নন; তিনি একজন সংগঠক, বাচিক প্রশিক্ষক, নাট্যবিচারক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। তাঁর বহুমাত্রিক কর্মজীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে শিল্পের প্রতি ভালোবাসা, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সমাজকে নতুনভাবে দেখার এক গভীর দৃষ্টিভঙ্গি। নাটককে তিনি নিছক বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখেননি; বরং সমাজ, ইতিহাস, মানুষের জীবনসংগ্রাম ও সময়ের বাস্তবতা তুলে ধরার শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম হিসেবে ধারণ করেছেন।
তাঁর স্নেহ, পরামর্শ ও অনুপ্রেরণায় চট্টগ্রামের অসংখ্য তরুণ নাট্যকর্মী নিজেদের সৃজনশীল পথ খুঁজে পেয়েছেন। একজন প্রকৃত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বড় পরিচয় এখানেই—তিনি শুধু নিজে সৃষ্টি করেন না, অন্যদেরও সৃষ্টির পথে এগিয়ে দেন।
প্রদীপ দার সঙ্গে আমার পরিচয় নব্বইয়ের দশকে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির আন্দোলনের সময়। সেই সময় থেকেই তাঁকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চায় নিবেদিত, চিন্তাশীল ও রুচিবোধসম্পন্ন একজন মানুষ হিসেবে তিনি আমার মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন।
চেরাগি পাহাড়ের লুসাই ভবনের নিচতলায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘নন্দন’ লাইব্রেরির স্মৃতি আজও আমার কাছে অমলিন। সেটি শুধু বই সংগ্রহ কিংবা পাঠের জায়গা ছিল না; আমাদের মতো তরুণ সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য ছিল জ্ঞান, মনন ও সৃজনশীলতার এক অনন্য আশ্রয়। সেই নন্দন থেকেই আমি বহু বই সংগ্রহ করেছি, সমৃদ্ধ করেছি নিজের পাঠাভ্যাস এবং পেয়েছি সাহিত্যচর্চার প্রেরণা। সময়ের ব্যবধানে অনেক কিছু বদলে গেলেও নন্দনের সেই দিনগুলোর স্মৃতি আজও হৃদয়ে উজ্জ্বল হয়ে আছে।
আমার দৃষ্টিতে প্রদীপ দেওয়ানজীর সবচেয়ে বড় গুণ তাঁর মেধা, পরিমিতিবোধ, প্রজ্ঞা ও অনাড়ম্বর ব্যক্তিত্ব। তিনি প্রচারের আলোয় নিজেকে বড় করে তোলার চেয়ে কাজের মধ্য দিয়ে শিল্প ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতেই বেশি আগ্রহী। একজন চৌকস সাংবাদিক, মননশীল সাহিত্যপ্রেমী এবং নিবেদিত নাট্যজন হিসেবে তাঁর অবদান চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মানুষের জীবনে প্রকৃত অর্জন শুধু পদ-পদবি কিংবা পরিচিতিতে নয়; মানুষের হৃদয়ে কতটুকু জায়গা করে নেওয়া যায়, কতজনকে অনুপ্রাণিত করা যায়, কতটুকু সৃজনশীল উত্তরাধিকার রেখে যাওয়া যায়—সেখানেই সার্থকতা। প্রদীপ দা তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে সেই সার্থকতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
জন্মদিনে তাঁর কাছে আমার একান্ত প্রত্যাশা, সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও সৃষ্টিশীলতায় ভরে উঠুক তাঁর আগামী দিনগুলো। চট্টগ্রামের নাট্যাঙ্গন তাঁর অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও সৃজনশীল নেতৃত্বে আরও সমৃদ্ধ হোক। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি হয়ে থাকুন অনুপ্রেরণার এক নির্ভরযোগ্য নাম।
শুভ জন্মদিন, প্রিয় প্রদীপ দা।
আপনার নামের মতোই আপনার কর্মের প্রদীপ জ্বলে থাকুক চট্টগ্রামের নাট্য, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে—প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here