চট্টগ্রামে নারীকে লাথি মারা সেই আকাশ অবশেষে গ্রেপ্তার

0
129

চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের কর্মসূচিতে এক নারীকে লাথি মেরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়া আকাশ চৌধুরীকে অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আকাশকে রবিবার (১ জুন) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে নগরের কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে আটক করেছে পুলিশ। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানান, গত ২৮ মে ওই কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় আকাশের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

আকাশ চৌধুরী চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নেচার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর ছেলে। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মী এবং জামায়াতে ইসলামী দলের একজন নেতাকর্মী ছিলেন। তবে ওই ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। দল জানিয়েছে, আকাশ অনুমতি ছাড়া ওই কর্মসূচিতে গিয়েছিল এবং তার কর্মকাণ্ড নিন্দনীয়। জামায়াত এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করেনি এবং দায় এড়িয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে ২৮ মে, যখন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির প্রতিবাদ এবং রাজশাহীতে ছাত্রজোটের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের ডাকা মানববন্ধনে ‘এন্টি শাহবাগ মুভমেন্ট’ নামে একটি সংগঠন হামলা চালায়। ওই হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। আকাশের লাথি মারার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়। পুলিশ ওইদিন ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করে এবং দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করে।

জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আকাশকে বহিষ্কার করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, “সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। আকাশের কর্মকাণ্ড নিন্দনীয় এবং তার দায়িত্ব দল নেবে না।” তারা আরও জানিয়েছে, আকাশের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন হামলার অভিযোগ ছিল এবং তার রাজনৈতিক পরিচয় ও কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক ছিল।

এই ঘটনার মাধ্যমে চট্টগ্রামে রাজনৈতিক সহিংসতা ও ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ও প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছে এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। আকাশ চৌধুরীর গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এই ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here