শিরোনাম
ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদরাষ্ট্রীয় পুলিশ পদকের স্বীকৃতি পাচ্ছেন বাবুল আজাদ কঠিন সময়ে পাহাড়তলী থেকে ডবলমুরিং, চকবাজার হয়ে ডিবিতে; সাহস, মেধা ও পেশাদারিত্বে উজ্জ্বল এক পুলিশ কর্মকর্তার পথচলা-জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রীসতীশ বাবু লেইনের ভাইরাল ছিনতাই: মূলহোতা সাদ্দাম গ্রেফতারআন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মানবিক পুলিশিংয়ের নতুন দিগন্ত আইসিআরসি ও এপিবিএনের যৌথ প্রশিক্ষণ: আইন প্রয়োগে মানবাধিকার, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতায় হাসিব আজিজের নেতৃত্বে নতুন ভাবনাআমার ছেলেবেলা ৬ সেই রাতগুলো আজও মনে পড়েএপিবিএন: ইতিহাসের অগ্রযাত্রায় জিয়াউর রহমান থেকে আজিজুল হক, আজিজুল হক থেকে হাসিব আজিজ একটি বাহিনীর জন্ম, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ভাবনার বিবর্তন, দুই প্রজন্মের নেতৃত্ব এবং জননিরাপত্তার নতুন অঙ্গীকারবৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহানগর কমিটির প্রথম সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত কালুরঘাট সেতু নির্মাণ, সিটি করপোরেশন নির্বাচন, জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনসহ ১০ দফা নাগরিক ইস্যুতে কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্তচট্টগ্রাম মেডিকেলে ইউনিট-২ চালুসহ ডেঙ্গু চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি পরিচালকের সঙ্গে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মতবিনিময় রোগী হয়রানি ও দালালচক্র বন্ধ, জনবল বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সচলের ওপর জোরযেসব কারণে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

― Advertisement ―

“চন্দনাইশে ধানের শীষ ব্যতীত অন্য কোনো প্রতীক মেনে নেবে না জনগণ” — এম এ হাশেম রাজু-

Homeসম্পাদকীয়“চন্দনাইশে ধানের শীষ ব্যতীত অন্য কোনো প্রতীক মেনে নেবে না জনগণ” —...

সাক্ষাৎকার গ্রহণে: মো. কামাল উদ্দিনঃ
সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজ চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাসে চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া সংসদীয় আসন একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এই আসন বহুবার জাতীয় রাজনীতিতে আলোচিত হয়েছে, কারণ এটি ছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এক অনন্য ঘাঁটি। দীর্ঘ চার দশক ধরে এই আসনের জনগণ ভোটের মাধ্যমে ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি তাদের অবিচল আস্থা প্রকাশ করেছেন। ঠিক এই ঐতিহ্য নিয়েই কথা হয় সাবেক ছাত্রদল নেতা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান এম এ হাশেম রাজুর সঙ্গে।

প্রশ্ন:
চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আসন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। আপনি এই আসনের দীর্ঘদিনের কর্মী হিসেবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে কী ভাবছেন? এম এ হাশেম রাজু: চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আসন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই বিএনপির দুর্গ। এখানে ধানের শীষ প্রতীক মানে জনগণের আত্মপরিচয়। গত চার যুগ ধরে এই আসনের মানুষ জিয়ার আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে ভোট দিয়েছে। কেউ আসুক, যিনিই প্রার্থী হোন না কেন, যদি তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন, তাহলে জনগণ তাকে জয়ী করবে—এটাই এই এলাকার ঐতিহ্য।

প্রশ্ন:
আপনার বক্তব্যে শোনা যাচ্ছে “ধানের শীষ ব্যতীত প্রতীক মেনে নেবে না জনগণ।” কেন আপনি এতটা দৃঢ় বিশ্বাস রাখছেন?
এম এ হাশেম রাজু:
এটা বিশ্বাস নয়, বাস্তবতা। চন্দনাইশের মানুষ শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, আবেগের জায়গা থেকেও ধানের শীষের সঙ্গে একাত্ম। আমরা এই প্রতীককে শহীদ জিয়ার রক্তে গড়া প্রতীক মনে করি। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে মানুষ যে গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখেছিল, তা ধানের শীষের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছিল। তাই এই প্রতীকই আমাদের রাজনৈতিক পরিচয়, আমাদের অস্তিত্ব। এখন কেউ যদি অন্য কোনো প্রতীক নিয়ে আসে—তা এলডিপি হোক বা অন্য কোনো দল—জনগণ তা মেনে নেবে না। চন্দনাইশের মানুষ স্পষ্টভাবে জানে, শহীদ জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত কোনো প্রার্থীকে তারা ভোট দেবে না।
প্রশ্ন:
আপনি নিজেও তো দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে রাজনীতিতে। আপনি কি এই আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার আশা রাখেন?
এম এ হাশেম রাজু:
আমি রাজনীতি করেছি আদর্শের জায়গা থেকে, পদ বা প্রার্থী হওয়ার লোভে নয়। তবুও বলতে চাই, চন্দনাইশে রাজপথে আমার চার দশকের আন্দোলন-সংগ্রাম, ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতি পর্যন্ত আমার অবদান আছে। আমি আশা করি, শহীদ জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি ও আমাদের দেশনেতা তারেক রহমান আমাকে সেই সুযোগ দেবেন—ধানের শীষ প্রতীকে জনগণের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ।
তবে যদি অন্য কাউকে এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, আমি তাতেও তাঁর পক্ষে মাঠে কাজ করব। কারণ আমার কাছে প্রতীকের মর্যাদা ব্যক্তির চেয়ে বড়। আমি প্রতীকের সৈনিক, ব্যক্তি নয়।
প্রশ্ন:
আপনি কি মনে করেন, আসন্ন নির্বাচন ধানের শীষের বিজয়ের জন্য অনুকূল?
এম এ হাশেম রাজু: নিশ্চয়ই। আমি মাঠে ঘুরে দেখেছি—চন্দনাইশের মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা চায় একটি সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। যদি নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়, তাহলে ধানের শীষের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত। মানুষ এখনও বিশ্বাস করে বিএনপিই এই দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে পারে। তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে—চন্দনাইশবাসী কোনো দলীয় বিভক্তি বা প্রতীকের বিভ্রান্তি চায় না। যদি কেউ ধানের শীষের পরিবর্তে অন্য প্রতীক নিয়ে মাঠে নামেন, তাহলে সেটা হবে জনগণের প্রতি অবমাননা।
প্রশ্ন:
আপনি এলডিপির প্রসঙ্গ তুললেন। অনেকে বলছেন, এই আসনে এলডিপি-সমর্থিত প্রার্থীও আসতে পারে। এ বিষয়ে আপনার মত কী?
এম এ হাশেম রাজু:  স্পষ্টভাবে বলছি—চন্দনাইশের মানুষ এলডিপিকে মেনে নেবে না। এলডিপি এখানে কোনো ভিত্তি গড়ে তুলতে পারেনি। এই আসন শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী মানুষের আসন, এখানে অস্থায়ী রাজনীতি বা সমঝোতার রাজনীতি টিকবে না। আমি বলেছি এবং আবার বলছি—ধানের শীষের প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো প্রতীক এই আসনে গ্রহণযোগ্য হবে না। যারা ভাবছেন প্রতীক পরিবর্তন করে জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন, তারা ভুল করছেন। চন্দনাইশবাসী খুব সচেতন, তারা জানে কারা তাদের পাশে ছিল, কারা গণতন্ত্রের জন্য লড়েছে।
প্রশ্ন:
রাজনীতির বাইরে আপনি এখন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান। এই অবস্থান থেকে কীভাবে আপনি রাজনীতিকে দেখেন?
এম এ হাশেম রাজু:
মানবাধিকার আর রাজনীতি—দুটোই জনগণের কল্যাণে নিবেদিত হওয়া উচিত। আজকের বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গণতান্ত্রিক অধিকার বলতে এখন মানুষ ভয় পায়। আমি চাই, এই ভয় দূর হোক, মানুষ তার মত প্রকাশের স্বাধীনতা ফিরে পাক। রাজনীতি মানে শুধু দলীয় প্রচার নয়—মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। সেই দায়বদ্ধতাই আমাকে রাজনীতিতে টেনে এনেছে, আর সেই দায়বদ্ধতাই আমাকে মানবাধিকার কাজেও যুক্ত রেখেছে।
প্রশ্ন:
আপনার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা কী?
এম এ হাশেম রাজু: সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—আদর্শের কোনো বিকল্প নেই। পদ, ক্ষমতা, সুবিধা—সবই ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আদর্শ চিরস্থায়ী। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া আমাদের শিখিয়েছিলেন, “দেশকে ভালোবাসতে হলে আগে জনগণকে ভালোবাসতে হবে।” আমি সেই দর্শনে বিশ্বাস করি। চন্দনাইশের রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত আমি দেখেছি—যে নেতা জনগণের পাশে থাকে, তার জনপ্রিয়তা কখনো ম্লান হয় না।
প্রশ্ন:
সবশেষে চন্দনাইশবাসীর উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন?
এম এ হাশেম রাজু: চন্দনাইশের মানুষ আমার শক্তি, আমার অনুপ্রেরণা। আমি বিশ্বাস করি, তারা আবারও ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে শহীদ জিয়ার আদর্শকে বিজয়ী করবে। আমি শুধু একটা কথাই বলতে চাই—এলাকা, দল, প্রতীক—সবকিছুর উপরে আমাদের আছে একটি বৃহত্তর লক্ষ্য: গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। সেই লড়াইয়ে আমি একজন সৈনিক হিসেবে থাকব শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আসনের রাজনীতি আবারও উত্তপ্ত হতে চলেছে। কিন্তু জনগণের প্রত্যাশা স্পষ্ট—তারা চায় ধানের শীষের পতাকা আবার উড়ুক তাদের আকাশে। এম এ হাশেম রাজুর মতো অভিজ্ঞ নেতার কণ্ঠে সেই প্রত্যয়ের পুনরাবৃত্তি যেন এক রাজনৈতিক বার্তা, যা আগামী নির্বাচনের মাঠে নতুন আলোড়ন তুলবে।